চিনি এক মধুর বিষ
চিনি খেতে যেমন মিষ্টি, তার কাজও আবার সেই মিছরির ছুরির মতোই। এটি দেহে এক ধরনের বিষ তৈরি করে বলে অতিরিক্ত মাত্রায় ক্ষতিকর। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সিগারেট ও মদের মতোই এ ‘মধুর বিষ’ চিনি বিক্রির ক্ষেত্রে কড়াকড়ি থাকা জরুরি। খবর দ্য ডেইলি মেইল অনলাইনের। আমেরিকার একদল বিজ্ঞানী হুশিয়ার করেছেন, চিনি কিংবা চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয় দৈহিক স্থূলতা, হৃদরোগ, ক্যান্সার, লিভার সংক্রমণের মতো ভয়াবহ ও জটিল সব রোগের জন্য দায়ী। তাদের দাবি, বিশ্বে প্রতি বছর চিনির জন্য দায়ী রোগে ৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে। তাই এ বিপজ্জনক খাবারকে আইন করে ও কর বসিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।
সম্প্রতি নেচার জার্নালে প্রকাশিত ‘দ্য টক্সিক ট্রুথ অ্যাবাউট সুগার’ শিরোনামের নিবন্ধে বিজ্ঞানীরা বলেন, অল্প তত সমস্যা নয় কিন্তু বেশিতে হয় জীবন ক্ষয়। তাদের মতে, বর্তমান বিশ্বে অপুষ্টির চেয়ে বড় সমস্যা স্থূলতা। আর চিনি দেহকে মোটাই করে দেয় না, এটি দেহের রাসায়নিক রূপান্তর বা বিপাকের ক্ষেত্রেও বিরূপ প্রভাব ফেলে, রক্তচাপ বাড়ায় এবং হরমোন নিঃসরণে ভারসাম্যহীনতা তৈরি ও লিভারের ক্ষতি করে।
গবেষক দলের প্রধান ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশুর স্থূলতা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রবার্ট লাসটিগ বলেন, অতিরিক্ত অ্যালকোহল পানে শরীরের যেমন ক্ষতি, ঠিক তেমনি ক্ষতি করে অতিরিক্ত চিনি।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক গবেষক ড. লরা শিমিদৎ বলেন, চিনিকে নিষিদ্ধ করার কথা বলছি না। তবে আমরা চাই মানুষ এমন খাবার পছন্দ করুক, যাতে বেশি চিনি থাকবে না।
সমকাল
You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0 feed. You can leave a response, or trackback from your own site.
