ঝগড়া করলে আয়ু বাড়ে!
প্রতিবেশী দম্পতি ঝগড়ায় লিপ্ত হলে বিরক্ত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। আর ঝগড়া করতে করতে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের সময় তাদের গলার স্বর যদি সপ্তমে উঠে যায়, তাহলে তো কথাই নেই_তখন তাদের ‘অসভ্য-অভব্য’ বলে গালমন্দ করাটা কত সহজ হয়ে যায়। তবে কোনো দম্পতির মধ্যে দ্বিমত বা বিরোধ দেখা দিলেও তারা যদি মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকে, তাহলে ভাবতে ভালো লাগে যে তারা সুখী আর আদর্শ দম্পতি।
অবশ্য ব্যাখ্যাগুলো বাস্তবে এত সরল নয়। ঝগড়া লাগলে চেঁচামেচি শুরু করে দেওয়া দম্পতিদের শব্দদূষণের ‘অত্যাচারে’ প্রতিবেশীদের বেঁচে থাকা কষ্টকর হয়ে ওঠে, এ কথা সত্য। তবে মুখে কুলুপ আঁটা দম্পতিদের তুলনায় চেঁচামেচি করা দম্পতিরা বাঁচে বেশি দিন।
সম্প্রতি ‘জার্নাল অব ফ্যামিলি কমিউনিকেশন’-এ প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তাই বলে ইচ্ছামতো চেঁচালেই হবে না, থাকতে হবে বিরোধ নিরসনের জন্য ইতিবাচক মনোভাবও।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একসঙ্গে হওয়ামাত্র দম্পতিদের প্রথম কাজ হলো বিরোধ মিটিয়ে ফেলা। কিন্তু এ কাজে যেহেতু কোনো ট্রেনিং পাওয়া যায় না, তাই কাজটি তাদের নিজেদেরই আয়ত্ত করতে হবে। যদি মা-বাবা আদর্শ হয়ে থাকেন এবং তাঁদের দেখে সন্তানরা যদি কিছু শিক্ষা নেয়, তাহলে সেটি খুব ভালো হয়।
সাধারণত দ্বন্দ্ব নিরসনের উপায় সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল নয় দম্পতিরা। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধ তৈরি হলে দম্পতিরা যদি ঝগড়ার দিকে না গিয়ে চুপচাপ থাকে, তাতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু চুপ করে থাকলেও মনের মধ্যে যদি ক্ষোভ জমা করে রাখে, তাহলেই ঘটবে বিপত্তি।
আগেও অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, মনের ভেতর রাগ বা অসন্তোষ চেপে রাখলে তা মন তথা শরীরের ওপর অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। পরিণতিতে হৃদরোগের মতো নানা ধরনের জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
এ গবেষণায়ও কিছু দম্পতির ওপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, দুইজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হলে অনেকেই বিষয়টিকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে তাদের মনের ক্ষোভ মনেই জমা থেকে যায়, নিজেদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। আর এ বিষয়গুলোর কারণে সৃষ্ট চাপের ফলে তাদের আয়ু কমে আসে। উল্টো দিকে, বিরোধ তৈরি হলে যে দম্পতিরা বিষয়টি এড়িয়ে না গিয়ে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়, তারা মূলত চিৎকার-চেঁচামেচি করে হলেও তাদের মনের ক্ষোভ এবং রাগ প্রকাশ করে ফেলে। ফলে ক্ষোভ জমে শরীর ও মনের ওপর চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
গত ১৭ বছরে ১৯২ জোড়া দম্পতির ওপর গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে, ঝগড়া এড়িয়ে যাওয়া দম্পতিদের তুলনায় বরং ঝগড়ায় লিপ্ত হওয়া দম্পতিদের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি অনেক কম। তবে এর জন্য দম্পতিদের মধ্যে যথেষ্ট ইতিবাচক মনোভাব থাকাটা জরুরি। অর্থাৎ পরস্পরের অভিযোগ আমলে নেওয়া ও মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। সূত্র: লাইভসায়েন্স ডটকম।
খবরটি পড়েছেন :454
এমন আরো কিছু পোষ্ট:
- পুরুষরা সংসারের কাজ করলে বিচ্ছেদের ঝুঁকি কমে
- ঘরের কাজে সময় ব্যয় করলে যৌন জীবন মধুর হবে
- বয়স যত বাড়ে ততই সুখ বাড়ে নারীর!
- বিষণ্নতায় মতিভ্রম বাড়ে
- মাত্রাতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারে বিষন্নতার ঝুঁকি বাড়ে
- বয়স বাড়লেই জ্ঞান বাড়ে না
- কম আয় করলে পুরুষরা প্রবঞ্চক হয় বেশি
- জামায়াতের গঠনতন সংবিধানবিরোধী, সংশোধন না করলে নিবন্ধন পাবে না
- ‘প্যারাসিটামল সেবনে হাঁপানির ঝুঁকি বাড়ে’
- ‘প্রতিবেশী ধনী হলে আয়ু বাড়ে’
You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0 feed. You can leave a response, or trackback from your own site.
