বয়সকে বশ মানায় মন
বুড়িয়ে যাওয়ার ভাবনা মন থেকে ঝেড়ে ফেললেই বয়সের অবাধ্য ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরা সম্ভব। গবেষণার ফল এ কথাই বলছে। তিন দশক আগেই এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছিলেন নবীন এক গবেষক। তবে প্রকাশ করেননি এত দিন। ভয় ছিল, ‘আজগুবি’ ভেবে হয়তো হেসেই উড়িয়ে দেবে সবাই; কিন্তু এখন শঙ্কামুক্ত তিনি। জানিয়েছেন, বয়সকে লাগাম পরানোর সাধারণ উপায়ের কথা।
১৯৭৯ সালের কথা। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানী অধ্যাপক এলেন ল্যাঙ্গার তখন তরুণী। মন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বুড়িয়ে যাওয়া আটকানো যায় কি না, সেই ভাবনা পেয়ে বসেছিল তাঁকে। ঠিক করলেন, গবেষণার মাধ্যমে উত্তর খুঁজতে হবে। বোস্টন শহরের বাইরে একটি কেন্দ্রে ৭০ থেকে ৮০ বছরের থুত্থুড়ে একদল বুড়ো-বুড়ির ওপর এক সপ্তাহ নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালানোর সিদ্ধান্ত নেন এলেন। শুরুতেই দুটি ভাগে ভাগ করা হয় দলটিকে।
প্রথম গ্রুপকে বলা হয়, তারা সবাই ৫০ বছর বয়সী হিসেবে নিজেদের ভাববে, আচরণও করবে সেভাবে। বাকিদের ক্ষেত্রে বয়ঃক্রমিক আচরণের নির্দিষ্টতা ছিল না।
এক সপ্তাহ পরেই পাওয়া গেল অভাবনীয় ফলাফল। প্রথম গ্রুপটি দিন কয়েকের জন্য চলে গিয়েছিল ২০ বছর আগের সময়ে। তাদের আশপাশের পরিবেশও ছিল ২০ বছর আগের মতো। সেই সময়ের চলচ্চিত্র তারা উপভোগ করেছে, টেলিভিশনে দেখেছে ২০ বছর আগের ঘটনাপ্রবাহ। এক সপ্তাহ পার হওয়ার পর দেখা গেল, গ্রুপের সদস্যদের দৃষ্টি ও শ্রবণশক্তি বেড়েছে কয়েকগুণ। রক্তচাপও আগের চেয়ে অনেক নিয়ন্ত্রিত। অন্যের সাহায্য ছাড়াই কাজ করতে সক্ষম হয়ে উঠেছেন সবাই। একজন তো হাতের ছড়ি ছুড়ে ফেলে দিব্যি হাঁটাচলা শুরু করলেন। আর অন্য গ্রুপ প্রকৃত অর্থেই ‘বুড়ো’ হয়ে রইল।
গবেষণার ওই ফল সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন এলেন। আর তাতেই বাজিমাত। বয়সকে বশ মানাতে মনের ক্ষমতা নিয়ে শুরু হয়েছে আরো গবেষণা। এমনকি এলেনের গবেষণাকর্মের ওপর চলচ্চিত্র নির্মাণের ঘোষণাও এসেছে। হলিউডের সেই নির্মিতব্য চলচ্চিত্রে এলেন ল্যাঙ্গারের ভূমিকায় অভিনয় করবেন জেনিফার অ্যানিস্টন।
কত বার পড়া হয়েছে: 39
No related posts.
You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0 feed. You can leave a response, or trackback from your own site.
