কম কোলেস্টেরল ঠেকাবে স্মৃতিবিভ্রাট
ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের বল্লবগড়। একটু আগেই কুয়াশা ভেদ করে সূর্যের আলো ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামের বয়োবৃদ্ধরা হুক্কা হাতে জড়ো হয়েছেন গল্পের আসরে। হুক্কায় টান দিতে দিতে তাঁরা খোশগল্প করছেন। বেশিরভাগেরই বয়স ৬০ থেকে ৭০। চেহারায় বয়সের ছাপ স্পষ্ট। কিন্তু এখনো তাঁরা মাঠে কাজ করেন এবং স্মৃতিশক্তিও বেশ প্রখর। অথচ বিশ্বের অন্য দেশে একই বয়সের মানুষের মধ্যে স্মৃতিভ্রষ্টতায় ভোগার সংখ্যা অনেক বেশি।
ব্রিটেনে আট লাখ ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ স্মৃতিভ্রষ্ট রোগে আক্রান্ত। ২০৫১ সালের মধ্যে সেখানে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হবে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। যুক্তরাষ্ট্রেও এ রোগীর সংখ্যা কম নয়। তবে এমন পরিস্থিতিতেই স্মৃতিভ্রষ্ট রোগ প্রতিরোধে আশার কথা শুনিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। আর এ ক্ষেত্রে তাদের উৎসাহ জোগাচ্ছে বল্লবগড়ের মানুষ। ইতিমধ্যে গবেষকরা বল্লবগড়ে গবেষণাও চালিয়েছেন। গবেষণা শেষে তাঁরা জানান, পরিমিত জীবনযাপনই স্মৃতিভ্রষ্টতা ঠেকাতে পারে।
পিটসবার্গের গবেষকরা বিশ্বাস করেন, বল্লবগড়ে স্মৃতিভ্রষ্ট রোগীর সংখ্যা খুবই কম। কাজেই এখান থেকে মনে হয় এ রোগ প্রতিরোধের জন্য কিছু বিষয় শেখার আছে।
পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বল্লবগড়ের ৫৫টি এলাকায় গবেষণা চালান। এসব এলাকার বাসিন্দাদের আলঝেইমার রোগ আছে কি না তা পরীক্ষাও করে দেখেছেন তাঁরা। স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই করে গবেষকরা ওই পরীক্ষা চালান। এতে নিরক্ষরদেরও অংশ নিতে সমস্যা হয়নি।
গবেষকরা জানান, এখানকার মানুষ অনেক আগের কথাও খুব কমই ভুলে যান। বল্লবগড় কৃষিনির্ভর হওয়ায় মানুষজন কর্মঠ এবং লোকজনের স্বাস্থ্য ভালো। অধিকাংশই নিরামিষভোজী এবং কম কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার খায়। কাজেই তাদের মুটিয়ে যাওয়ার হারও অনেক কম।
গবেষক ড. বিজয় চন্দ্রা বলেন, কৃষিনির্ভর এই এলাকার মানুষ মানসিক চাপে কম ভোগেন এবং সব ক্ষেত্রে পরিবারের জোরালো সমর্থনও পান। তিনি জানান, ‘এখানকার মানুষের খাদ্যে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কম। আমরা বিশ্বাস করি এটাই এই এলাকার মানুষের স্মৃতিভ্রষ্টতা কমাতে সাহায্য করে।’
বল্লবগড়ের ৭৬ বছর বয়সী প্রসাদি লাল বলেন, ‘আমি এখনো সুস্থ বোধ করি এবং আমার স্বাস্থ্য ভালো। প্রতিদিন সকালে আমি নিয়ম করে হাঁটি। যদিও আমার হাঁটুতে একটু সমস্যা দেখা দিয়েছে।’ প্রসাদি লালের সঙ্গে তার বন্ধুরাও একমত পোষণ করেন।
গবেষক ড. চন্দ্রা বলেন, আলঝেইমার রোগের জন্য দায়ী অচঙ৪ঊ জিন। বল্লবগড়ের মানুষের মধ্যে ওই জিন খুব কম পাওয়া গেছে।
বল্লবগড় এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান খুব বেশি উন্নত নয়। তারপরও এখানে স্মৃতিভ্রষ্ট রোগীর সংখ্যা অনেক কম। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় একই অবস্থার মধ্যে থেকেও এই জিন বহনকারীর সংখ্যা বেশি। ড. চন্দ্রা আরো বলেন, ‘অন্যান্য এলাকার জীবনযাপন প্রক্রিয়া থেকে বল্লবগড় খুব বেশি আলাদা কিছু নয়। এখানকার বাসিন্দারাও মানসিক চাপে ভোগেন। তবে কম। কাজেই তাদের কাছ থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়ার অনেক কিছু আছে।’
প্রসঙ্গত স্মৃতিভ্রষ্টতার একটি পর্যায় হলো আলঝেইমার। তবে বিশ্বে আলঝেইমার রোগীর সংখ্যা খুবই কম। সূত্র: বিবিসি অনলাইন।
number of view: 45
এমন আরো কিছু পোষ্ট:
You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0 feed. You can leave a response, or trackback from your own site.
