৪০ হাজার বছর আগে মারা যাওয়া হাতি শাবক এখন মডেল!

Biggan 40 hajar bosor 150x114 ৪০ হাজার বছর আগে মারা যাওয়া হাতি শাবক এখন মডেল!শীতপ্রধান দেশ সাইবেরিয়া। ভৌগোলিক অবস্থান আর জলবায়ুর কারণেই দেশটির পরিচিতি বিশ্বজুড়ে। আছে নানা বৈশিষ্ট্য। কখনও কখনও পাওয়া যায় হাজার হাজার বছর আগে মারা যাওয়া প্রাণী। অবিকল। মনে হয় এইমাত্র মারা গেছে। এছাড়া হাজার হাজার বছর আগে ফেলে রাখা খাবারও পাওয়া যায় মাঝে মাঝে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ওই খাবার এখনও খাওয়ার উপযোগী। আর এসব কারণ অনুসন্ধানে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। সফলও হয়েছেন, হচ্ছেন। তাই বলে কিন্তু থেমে নেই বিজ্ঞান, বিজ্ঞানীরা। একের পর এক আবিষ্কার করছেন নানা বিস্ময়। আর এরই ধারাবাহিকতায় সাইবেরিয়ার এক নদীর উপকূল থেকে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন একটি লম্বা লোমওয়ালা হাতি শাবক। এর নাম রেখেছেন তারা ল্যুবা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, নদীর পানির কাছে মাটিতে পাওয়া ল্যুবা প্রায় ৪০ হাজার বছর আগে মারা যায়। তখন এর বয়স ছিল মাত্র এক মাস। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো হাতি শাবকের পেটে তার মায়ের দুধ পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মনে হচ্ছে একটু আগেই হাতি শাবকটিকে পরম মমতায় দুধ পান করিয়েছে তার মা। তাদের ধারণা, চোরাবালির কারণেই এটির মৃত্যু হয়েছে। তারা বলছেন, প্রকৃতি যেন এটিকে ফ্রিজে সংরক্ষণ করেছে ৪০ হাজার বছর। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞানীদের আবিষ্কার করা ল্যুবা এরই মধ্যে মডেল বনে গেছে। স্থান পাচ্ছে বিশ্ববিখ্যাত ফিল্ড মিউজিয়াম বা মাঠ জাদুঘরে। ‘নোমাডিক রিইনডির হার্ডাস’ নামক ওই বিজ্ঞানী দল বলছেন, তারকা ল্যুবাকে শিগগিরই শিকাগো নিয়ে যাওয়া হবে মাঠ জাদুঘরে প্রদর্শনের জন্য। বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী সংগ্রাহক এ জাদুঘরটি আগামী মাসে এক প্রদর্শনীর আয়োজন করবে। ৫ মার্চ শুরু হওয়া এ প্রদর্শনী চলবে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এতে প্রদর্শিত হবে নানা প্রজাতির বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ প্রাণী। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল ফিশার বলেন, এই প্রদর্শনী প্রমাণ করবে আমরা প্রাণীগুলোকে কত কাছ থেকে দেখেছি, জেনেছি। আগে এগুলো কেমন ছিল।

ফিশার বলেন, হাতি শাবক ল্যুবা থেকে তারা অনেক কিছু শিখেছেন। বেড়ে গেছে গবেষকদের জ্ঞানের পরিধি। আর এসব এতদিন তাদের কাছে অজানা ছিল।

তিনি আরও বলেন, এতদিন হাতি শাবকের সংরক্ষিত কঙ্কাল সম্পর্কে ধারণা ছিল না। এ থেকে তারা জানতে পারলেন মাথা থেকে পিঠ আলাদা। ফিশারের মতে, ল্যুবা মারা যাওয়ার সময় তার স্বাস্থ্য ভালো ছিল। গবেষকরা এটির মুখে কাদামাটি পেয়েছেন। এছাড়া পেট ও গলা দেখে মনে হয় এটি মাটির গর্ত থেকে বের হয়ে আসার জন্য সংগ্রাম করছিল। তিনি বলেন, এটি ডিএনএ করার জন্য যথেষ্ট উপযুক্ত। তবে কেউ এই মুহূর্তে ক্লোনিং করছে না। ২০০৭ সালে আবিষ্কার করা এই হাতি শাবকটি ১০টি শহর ঘোরানোর পর ২০১৪ সালে নিয়ে যাওয়া হবে লন্ডনে। রাখা হবে ন্যাচারাল হিস্টোরি মিউজিয়ামে।

খবরটি পড়েছেন :311
  • Print
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Google Bookmarks
  • email
  • LinkedIn
  • Twitter
  • Add to favorites
  • StumbleUpon
  • PDF

এমন আরো কিছু পোষ্ট:

  1. হাতি
  2. ৪ হাজার বছর আগের চেহারা
  3. অঙ্কেও প-িত এশিয়ার হাতি
  4. ব্যথা কমাতে হাতি থেরাপি
  5. ৭ হাজার বছর আগের বৈঠা
  6. ‘আমি মারা যাইনি’
  7. রাস্তার হাতি চড়তো তাই নাম এলিফেন্ট রোড
  8. মাছি মারা এতো কঠিন কেন?
  9. মাছি মারা কঠিন কেন?
  10. বুড়িয়ে যাওয়া ঠেকিয়ে দেবে নিয়মিত দৌড়

You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0 feed. You can leave a response, or trackback from your own site.

Leave a Reply

XHTML: You can use these tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>