দৌড়ালে বুদ্ধি বাড়ে!
কথায় বলে চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে। তখন এভাবে না করে ওভাবে করলে চোরটা ধরা পড়ত—এমন হা হুতাশ শোনা যায় গৃহস্থের মুখে। অবশ্য তখন হয়তো চোরেরও বুদ্ধি খুলে যায়। তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা বমাল সটকে পড়ে গৃহস্থের চোখে ধুলো দিয়ে। পালাতে গিয়ে দৌড়াতে হয় বলেই বুদ্ধি খুলে যায় কিনা কে জানে!
ঠাট্টা নয়। ক্যামব্রিজের গবেষকরা সদ্যপ্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে কিন্তু দৌড়ালে বুদ্ধি বাড়ার কথা বেশ জোর দিয়েই বলেছেন। তাদের মতে, শারীরিক পরিশ্রম কিংবা ব্যায়াম মস্তিষ্কের শক্তি বাড়ায়। ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সের ওই জার্নালে তারা বলেছেন,ইঁদুরের ওপর গবেষণা করে তারা এই তথ্য পেয়েছেন। তারা দেখেছেন, যেসব ইঁদুর সারাদিন দৌড়াদৌড়িতে ব্যস্ত থাকে, তাদের মস্তিষ্কের কোষ তুলনামূলকভাবে কম দৌড়াদৌড়ি করা ইুঁদরের চেয়ে বেশি। আর বুদ্ধি পরীক্ষা বা মেমোরি টেস্টে এরা সাধারণ ইঁদুরের চেয়ে বেশি ভালো করেছে। তাদের এই বুদ্ধি বাড়ার পেছনে গবেষকরা মস্তিষ্কের কোষ বৃদ্ধিকেই কারণ হিসেবে মনে করছেন।
ইঁদুরের ওপর গবেষকদের এই পর্যবেক্ষণ পরিচালিত হয়েছিল ১০৫ দিন ধরে। দু’দল ইঁদুর নিয়ে এটি পরিচালিত হয়। ব্যায়াম করানো এবং না করানো দু’দলকে কম্পিউটার স্ক্রিনের ওপর দুটি বাক্স দেখানো হয়। এগুলোর একটি স্পর্শ করলে খাবারের ছবি বেরিয়ে আসে। অপরটি থাকে খালি। দু’দল ইঁদুরকে বাক্স দুটো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখানো হয়। এরপর তাদের খাবারের বাক্সটি শনাক্ত করতে প্ররোচিত করা হয়। দেখা গেছে, এ কাজটিতে দৈনিক গড়ে ১২ কিলোমিটার করে দৌড়ানো ইঁদুরের গ্রুপটিই অন্য গ্রুপের চেয়ে অনেক বেশি ভালো করেছে।
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ব্যায়ামের ফলে বুদ্ধি বা স্মৃতিশক্তি বাড়ার এই ব্যাপারটা হয়তো মানুষের ক্ষেত্রেও কাজে লাগতে পারে। মানুষও তো সময় সময় দুটো জিনিসের পরিচয় গুলিয়ে ফেলে। তাই আরও ব্যাপক গবেষণার মাধ্যমে বর্তমান তথ্যটাকে মানুষের কাজে লাগানোর কথা ভাবছেন এখন তারা
number of view: 81
এমন আরো কিছু পোষ্ট:
You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0 feed. You can leave a response, or trackback from your own site.
