বন্ধ হচ্ছে ৮৪টি পর্নো ওয়েব সাইট
পিনাকি দাসগুপ্ত
দেশের আইন মানুষের নৈতিক মূল্যবোধ ও সেন্টিমেন্ট বিরোধী ও আপত্তিকর ৮৪টি ওয়েবসাইট ও ওয়েবপেজ অতি শিগগিরই বন্ধ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুরোধের প্রেক্ষিতে গত ২৯ ডিসেম্বর ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এক যৌথ বৈঠকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা শেষে ৮৪টি পর্ণো ওয়েবপেজ বন্ধে ৭টি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। পুলিশের অনুসন্ধানে উদঘাটিত ৮৪টি পর্ণো ওয়েবপেজ বন্ধে বিজ্ঞান এবং তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কোন আপত্তি না থাকায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (বিটিআরসি) উক্ত ওয়েবসাইটসমূহ বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। কুরুচিপূর্ণ, অশ্লীল ও পর্ণোগ্রাফী সংবলিত ওয়েবপেজ বন্ধকরণের লক্ষ্যে পরিচালক (তার), ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে আহবায়ক করে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান এবং তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, পুলিশ ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
পর্ণো ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ, উদঘাটনের লক্ষ্যে বিটিআরসি একটি সেল গঠন করবে। উক্ত সেল নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এ ধরনের অশ্লীল ওয়েবসাইটের তথ্যাদি আন্তঃমন্ত্রণালয় টেকনিক্যাল কমিটিকে প্রদান করবে।
বৈঠকের সভাপতি ডাক ও টেলিযোগাযোগের অতিরিক্ত সচিব এম রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে। প্রযুক্তির পরিবর্তনের ফলে বিভিন্নভাবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটছে। প্রত্যেক দেশের নিজস্ব আইন, মানুষের সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি রয়েছে। প্রযুক্তির অভিযোজনের সাথে সাথে সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষায় আমাদের প্রতিনিয়ত প্রচেষ্টা চালাতে হবে। নচেৎ ভবিষ্যৎ প্রজম্মের জন্য তা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে নিয়ে আসবে।
পুলিশ সদর দফতরের একজন কর্মকর্তা বলেন, পুলিশের অনুসন্ধানে ৮৪টি ওয়েবসাইট / ওয়েবপেজ -এর সন্ধান মিলেছে। এগুলোতে ভিডিও/স্থির চিত্র মিলিয়ে পর্ণোচিত্রের সংখ্যা দাঁড়াবে কয়েক হাজার। এ ধরনের দৃশ্য প্রচার/প্রকাশে দেশের কোন নারীরই সম্মতি নেই। এ নিয়ে ভিকটিমের ব্যক্তিগত, সামাজিক, পারিবারিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। ২০০১ সালে আমেরিকা প্রবাসী একজন পুরুষ এ দেশে এসে কয়েকজন নারীর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দিয়েছিল। ওই সময় একজন ভিকটিম আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। ২০০৮ সালে বাংলাদেশের একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের সাথে একজন ছাত্রীর সম্পর্ক ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। লজ্জায় অপমানে ছাত্রীটি আর ক্যাম্পাসে ফেরেনি।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওই ওয়েবপেজগুলো অপ্রত্যায়িত এবং সবক্ষেত্রে সেগুলো নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বিদেশ থেকে। তারা এদেশ থেকে ছবি .বার্তা আপলোড করার অবারিত সুযোগ রেখেছে। এমনকি পতিতাবৃত্তিকে তারা চাকরি হিসেবে আখ্যায়িত করে ছেলে-মেয়েদের প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করছে।
কত বার পড়া হয়েছে: 369
এমন আরো কিছু পোষ্ট:
- ৮৪টি পর্নোসাইট বন্ধ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে পুলিশ
- পুলিশের তালিকাভুক্ত সেই ৮৪ ওয়েবসাইট বন্ধ হয়নি
- শতাধিক পর্নো ওয়েবসাইট বাড়ছে সাইবার অপরাধ বিপথে তরুণ সমাজ
- দেশি মুখ নিয়ে ৮৪টি পর্নো ওয়েবসাইট!
- র্যাবের ওয়েব সাইট হ্যাকিংয়ের ঘটনায় ৪ হ্যাকার গ্রেফতার
- সেই ৮৪ পর্নোসাইট বন্ধের উদ্যোগ
- ৮৪ পর্নোসাইট বন্ধে ৩ মন্ত্রণালয়ের সহায়তা চায় বিটিআরসি
- বাংলাদেশের ডোমেইন নাম ‘ডট বাংলা’ করার আবেদন
- ফেসবুকে তরুণীর ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইলিং বাড়ছে
- গোয়েন্দাদের জন্য সামাজিক যোগাযোগের সাইট!
You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0 feed. You can leave a response, or trackback from your own site.
