ফেসবুকের জনপ্রিয়তা কি হারিয়ে যাচ্ছে?

জনপ্রিয়তা বজায় রাখতে সবাই সচেষ্ট হই
খন্দকার এনামুল হক
তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধনে এখন বন্ধুর কাছে মনের খবর পৌঁছানোর জন্য ডাকপিয়ন বা টেলিগ্রামের প্রয়োজন নেই। ইচ্ছা করলেই সব বন্ধুবান্ধব-আত্মীয়স্বজন সবার সঙ্গেই যোগাযোগ করা যায় বা মনের খবর নিমিষেই পৌঁছে দেয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে মোবাইল একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, অতঃপর ইমেইল এবং চ্যাটিং। সর্বশেষ যে আবিষ্কারটি যোগাযোগের ক্ষেত্রে আশ্চর্যজনক ভূমিকা রেখেছে তা হলো ফেসবুক।

ফেসবুক একটি সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট। সাধারণত বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজন যারা ফেসবুক ব্যবহার করছে তাদের খোঁজখবর নেয়া এবং নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য এ সাইটটি বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে কিছু কারণে এর জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে। ইদানীং ফেসবুকে সেই মজাটা আর পাওয়া যায় না। কারণ আগে ফেসবুক ওপেন করার সঙ্গে সঙ্গেই দেখা যেতো কোনো বন্ধুর মনের অবস্থা কী রকম বা নতুন কোনো ভালো খবর থাকতো। কবি-সাহিত্যিক, শিল্পী-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এখন কে কী করছে সবই প্রায় জানা যেতো।
ফেসবুকের জনপ্রিয়তা হারানোর কারণগুলো নিম্নরূপ :

বেনামে অ্যাকাউন্ট :
দেখা যাচ্ছে টুম্পা নামে একটি মেয়ে আপনাকে ফ্রেন্ডশিপের অফার দিয়েছে এমনকি তার ছবিও দেখেছেন। আপনি তার অফারকে অ্যাকসেপ্ট করলেন এবং নিয়মিত তার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চললেন। একটা নির্দিষ্ট সময় পর এসে জানলেন তার আসল নাম টুম্পা নয়, তার নাম আকমল হোসেন। আপনার ফেসবুক ব্যবহারের প্রতি একটা বীতশ্রদ্ধ ভাব চলে এসেছে। এ রকম অসংখ্য হাজার হাজার বেনামি অ্যাকাউন্ট হোল্ডার রয়েছে ফেসবুকে।

পুরনো শত্রু আপনাকে খুঁজে পেল :
দীর্ঘদিন ফেসবুক ব্যবহার করার ফলে দেখা গেল আপনার ছোটবেলার খুব কাছের এক বন্ধু, যে আপনাকে শত্রু ভাবতো, সে আপনার সঙ্গে পুনরায় ফ্রেন্ডশিপ করে আপনার অ্যাকাউন্টে আপনার নামে কিছু রটনা রটিয়ে দিল। এতে আপনি আপনার অন্য বন্ধুদের কাছে বিভিন্ন অযাচিত প্রশ্নের সম্মুখীন হলেন।

খারাপ মানুষের কর্মকা- :
ফেসবুক এমনি একটি সাইট, যে সাইটে আপনি আপনার পরিবারের ছবি, ব্যক্তিগত সব ছবি দিয়ে রেখেছেন। আপনারই কোনো বন্ধু দেখা গেল একটি ছবি নিয়ে খারাপ মন্তব্য করেছে যে বিষয়টি আপনার জন্য জটিল হয়ে দাঁড়াতে পারে। এমনকি তা অনেকের সংসারেও এসব বিষয় নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে।

ছবি ট্যাগ করা :
ফেসবুকের সবচেয়ে সমস্যার একটি বিষয় হচ্ছে ছবি ট্যাগ করা। যে কেউ আপনার একটি ছবি অন্য আরেকজনকে ট্যাগ করে দিতে পারে। ফলে দেখা যাচ্ছে একটি তরুণী তার কিছু ছবি ফেসবুকে দিয়েছে, পরে সেই ছবিগুলো বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে সৃষ্টি হচ্ছে জটিলতার। পরে তার একাউন্ট বন্ধ করা ছাড়া উপায় থাকছে না। এ কারণেও অনেকে ফেসবুক থেকে ছবি তুলে নিচ্ছে। এতেও ফেসবুক তার জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলছে।

হ্যাকার ও ভাইরাসের আক্রমণ : প্রতিনিয়তই ফেসবুকে কিছু ওয়েবসাইটের লিংক যোগ হচ্ছে এবং অনেকেই মনের আনন্দে সেসব ওয়েবসাইটে ঢুকছে। তাতে দেখা যাচ্ছে সেই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তার কম্পিউটার ভাইরাস আক্রমণের শিকার হচ্ছে। ইদানীং হ্যাকারদেরও মূল টার্গেট ফেসবুক কারণ এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা অচিন্তনীয়। ফলে অনেক ওয়েবসাইটে ঢুকতে ইমেইল ব্যবহার করতে হচ্ছে এবং পরে দেখা যাচ্ছে তার ফেসবুক একাউন্ট ও ইমেইল একাউন্ট হ্যাক হয়ে যাচ্ছে। ফলে অনেকে ফেসবুক ব্যবহার করতে দ্বিধাবোধ করছে।

ফেসবুক ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন

ব্যক্তিগত ছবি ফেসবুকে না দেয়া; ব্যক্তিগত ম্যাসেজ স্টাট্যাসে না লেখা; ইনফো-ইনফরমেশন সেকশনে ব্যক্তিগত তথ্য না দেয়া; ছবির অ্যালবামে সিকিউরিটি অপশন ব্যবহার করা; একটু জটিল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা; কাউকে ফেসবুকের ইমেইল ও পাসওয়ার্ড না জানানো; নতুন বন্ধু করার আগে ভালো করে তার ইনফরমেশন জেনে নেয়া; কোনো গ্রুপে জয়েন করার আগে ভালো করে সেই গ্রুপের ইনফরমেশন জেনে নেয়া; না বুঝে কারো দেয়া ওয়েবসাইটের লিংকে প্রবেশ না করা; সন্তানদের নির্দিষ্ট বয়সের আগে এসব ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে না দেয়া; কারো অজান্তে ছবি ট্যাগ করা।

প্রতিটি আবিষ্কারেরই ভালো এবং খারাপ দুটি দিক ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকে। তাই সেই নির্দিষ্ট জিনিসের ভালো দিকটা গ্রহণ করুন আর খারাপ দিকটা বর্জন করুন। বর্তমান এ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে যোগাযোগ রাখার মাধ্যম হিসেবে ফেসবুকের গুরুত্ব বাড়িয়ে বলার প্রয়োজন রাখে না। আসুন আমরা ফেসবুকের জনপ্রিয়তা বজায় রাখতে সবাই সচেষ্ট হই।

কত বার পড়া হয়েছে: 109
  • Print
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Google Bookmarks
  • email
  • LinkedIn
  • Twitter

এমন আরো কিছু পোষ্ট:

  1. মোবাইলে ফেসবুকের ‘জিরো’ সাইট
  2. ফেসবুকের বয়োজ্যেষ্ঠ বন্ধু
  3. পালকি ঃ হারিয়ে যাচ্ছে কালচক্রে
  4. হারিয়ে যাচ্ছে পৌষের উৎসব
  5. ফেসবুকের কারণে
  6. ফেসবুকে আসামির খোঁজ!
  7. ভালবাসা টেকাতে ফেসবুককে দূরে রাখুন!
  8. ফেসবুক পাচ্ছে নতুন চেহারা
  9. চাকরির হদিস মিলবে ফেসবুকে
  10. ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের অভিযোগ!

You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0 feed. You can leave a response, or trackback from your own site.

Leave a Reply

XHTML: You can use these tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>