দর্শকের চোখে নয় নারীর চেহারাতেই থাকে সৌন্দর্য!
প্রচলিত ধারণা হচ্ছে, যে দেখে তার চোখেই লুকিয়ে থাকে সৌন্দর্য। কিন্তু সেই প্রচলিত ধারণাটা এবার বোধ করি পাল্টে যাচ্ছে। অন্তত নারীকে দেখার ক্ষেত্রে পুরুষের অনুভূতির ব্যাপারে এ কথাটা খাটে। পুরুষের চোখে নয়, বরং নারীর চেহারাতেই লুকিয়ে থাকে সেই সৌন্দর্যের জাদু। যুক্তরাষ্ট্র আর কানাডার একদল বিজ্ঞানী গবেষণা করে এমন দাবিই করেছেন। সম্প্রতি ভিশন রিসার্চ নামের সাময়িকীতে এ সম্পর্কিত গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে।
একটি আদর্শ মুখাবয়ব খুঁজে পাওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত চারটি গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিজ্ঞানীরা শিক্ষার্থীদের একই নারীর চেহারার একাধিক রঙিন আলোকচিত্র তুলনা করার নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী বিচার-বিশ্লেষণ করা হয়। এ ক্ষেত্রে ওই সব আলোকচিত্রে চোখের সঙ্গে মুখের উচ্চতার দূরত্ব ও দুই চোখের আনুভূমিক দূরত্ব তুলনা করা হয় এবং ফটোশপ সফটওয়্যারের মাধ্যমে তা কমবেশি করে সবচেয়ে ভালো গঠনটি বের করার চেষ্টা করা হয়। শিক্ষার্থীরা এ ক্ষেত্রে একই নারীর চেহারার বিভিন্ন আলোকচিত্রের তুলনা করেন। এ ক্ষেত্রে আলোকচিত্রগুলোতে চোখ, মুখ, নাক, চেহারার আকৃতি ও চুল অপরিবর্তিত রাখা হয়।
শিক্ষার্থীরা ছবিগুলো পাশাপাশি রেখে তুলনা করেন এবং সবচেয়ে ভালো ছবিটি নির্বাচিত করেন। চারটি পরীক্ষণেই শিক্ষার্থীরা সুন্দর হিসেবে এমন আলোকচিত্রটি বাছাই করেন, যেখান থেকে সুন্দর চেহারার ক্ষেত্রে চোখ-মুখের দূরত্বের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট অনুপাত বেরিয়ে এসেছে। গবেষকেরা নতুন এই আবিষ্কারকে ‘নিউ গোল্ডেন রেশিও’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
দুটো পরীক্ষণ থেকে দেখা গেছে, সুন্দর মুখাবয়বের ক্ষেত্রে কপালে চুলের গোড়া থেকে থুতনি পর্যন্ত দূরত্ব এবং দুই চোখ আর মুখের মধ্যে দূরত্বের আদর্শ অনুপাত হচ্ছে ১০০: ৩৬। আর অন্য দুটো পরীক্ষণ থেকে জানা গেছে, দুই কানের মধ্যকার দূরত্ব এবং দুই চোখের মধ্যকার দূরত্বের আদর্শ অনুপাত হচ্ছে ১০০: ৪৬। এই মাপকেই ‘নিউ গোল্ডেন রেশিও’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন গবেষকেরা।
তাঁরা এটিও জানিয়েছেন, অনেকের মুখমণ্ডলেই এই ৩৬/৪৬ অনুপাত রয়েছে। এটি পাওয়ার জন্য মাপজোক বা কোনো শল্যচিকিত্সা করানোর দরকার নেই। গবেষকরা উদাহরণ হিসেবে কানাডার পপশিল্পী শানিয়া টোয়াইনের মুখের গড়নকে ‘গোল্ডেন রেশিও’-এর আদর্শ বলে উল্লেখ করেছেন।
গবেষণাপত্রের অন্যতম রচয়িতা কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্যাং লি বলেন, ‘অনেক সময় অনেক সুন্দর চেহারার মানুষকে অসুন্দর লাগে, আবার অনেক অসুন্দর মানুষকে সুন্দর লাগে। কেন এমন লাগে তার ব্যাখ্যা রয়েছে আমাদের গবেষণায়।’ এই গবেষণায় অবশ্য শুধু শ্বেতকায় নারীদের মুখাবয়ব পরীক্ষা করা হয়েছে। পুরুষদের চেহারা বা অন্য বর্ণের মানুষের ক্ষেত্রে এই গোল্ডেন রেশিও বের করতে আরও গবেষণা দরকার। এএফপি।
number of view: 166
এমন আরো কিছু পোষ্ট:
- ক্যারিয়ারে নারীর অনীহা
- বিদেশি চোখে বাংলাদেশের প্রকৃতি
- দেহের সৌন্দর্য জিঙ্কের ছোঁয়ায়
- সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় এবার অংশ নেবেন গির্জার সিস্টাররা
- হীরাই নারীর সবচে কষ্টসহিষ্ণু সঙ্গী!
- নিষ্পাপ সৌন্দর্য
- মিথ্যা ধরতে চোখ রাখুন চোখে
- চোখে সুরমা দিতেন ক্লিওপেট্রা
- আমেরিকানদের চোখে নারীই সৎ ও স্মার্ট নেতা!
- অবসাদগ্রসত্ম নারীর জন্য ভায়াগ্রা!
You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0 feed. You can leave a response, or trackback from your own site.
