মোটা হওয়ার ‘লজ্জা’ বুঝি ফুরিয়ে এলো এবার
যারা মোটা, তাদের রোগা হওয়ার চেষ্টা বা যারা রোগা, তাদের মোটা হওয়ার ভয় এ দুটি বিষয় মানুষের জন্য কখনই সুখকর নয়। তাই বেশিরভাগ মানুষ ‘মেদ-ভুঁড়ি কী করি’ বিজ্ঞাপন দেখে হুমড়ি খেয়ে পড়ে বরাবরই প্রতারিত হয়। তখন হতাশ মনে প্রশ্ন জাগে ইশ্! এমন যদি কোনো জাদুর কাঠি থাকতো, যা ছুঁয়ে দিলে মোটা হওয়ার আর কোনো প্রশ্নই উঠবে না, তাহলে জীবনটা কেমন হতো? যা খুশি, যতো খুশি খাওয়া যেতো, দৌড়াদৌড়ি, ব্যায়াম-কসরত না করে বিছানায় পড়ে পড়ে ঘুমানো যেতো, তাই না? চিন্তা নেই এমন দিন আসছে। মোটা হওয়ার লজ্জা বুুঝি এবার সত্যিই ফুরিয়ে এলো।
গবেষকরা এমন এক জিন চিহ্নিত করেছেন, যা শরীরের মধ্যে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারলে মোটা হওয়ার প্রক্রিয়া একদম বন্ধ হয়ে যায়। অন্তত ইঁদুরের ওপর চালানো এ পরীক্ষা সফল হয়েছে বেশ ভালোভাবেই। তাদের প্রচুর তেল-ঘি জাতীয় খাবার খাওয়ানোর পরও তারা মোটা হয়নি।
আমেরিকার মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অ্যালান সালটিল বলেন, আইকেকেআই নামে এ জিন যদি মানুষের মোটা হওয়ার ক্ষেত্রেও একই রকমের প্রভাব রাখে, সে ক্ষেত্রে মোটা হওয়া বন্ধ করতে ওই জিন এবং তা থেকে যে প্রোটিন সৃষ্টি হয়, সেটা কাজে লাগিয়ে ওষুধ তৈরি করার চেষ্টা করা হবে। অস্বাভাবিক মাত্রায় মোটা হওয়ার প্রবণতা এবং ডায়াবেটিসের মতো সংশ্লিষ্ট রোগের জন্যও এ ওষুধ কাজে লাগবে।
ওই গবেষণার আওতায় একাধিক জিন চিহ্নিত করা হয়েছিল, যা কোনো না কোনোভাবে মোটা হওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু দেখা গেছে, একমাত্র আইকেকেআই জিন শরীরের কোষ থেকে মুছে দিলে ইঁদুরের মোটা হওয়ার সম্ভাবনা বন্ধ হয়ে যায়। জটিল এ প্রক্রিয়াকে সহজ করে বলতে গেলে স্বাভাবিক অবস্থায় শরীরে যে ক্যালরি জমা হয়, আইকেকেআই জিন শরীরের কোষ থেকে মুছে ফেললে তা জমা হওয়ার বদলে এক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত উধাও হয়ে যায়। আইকেকেআই জিন যদি শেষ পর্যন্ত সত্যি মোটা হওয়ার প্রবণতা কমাতে ওষুধের মধ্যে ব্যবহার করা সম্ভব হয়, তাহলে আর ওজন নিয়ে কাউকে ভাবনা-চিন্তা করতে হবে না।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, মানুষকে কীভাবে এর মূল্য চোকাতে হবে? এ ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াইবা কেমন হবে? তা জানতে গেলে অবশ্য আমাদের সতর্ক নজর রাখতে হবে আইকেকেআই জিন গবেষণার দিকে। আনন্দের খবর হলো, ইঁদুরের শরীরে আইকেকেআই জিন নিষ্ক্রিয় করে মোটা হওয়ার প্রক্রিয়া যেহেতু স্তব্ধ করে দেয়া সম্ভব হয়েছে, তাই এবার মানুষের ক্ষেত্রেও এ প্রক্রিয়া প্রয়োগ করার উদ্যোগ শুরু হয়েছে বেশ জোরসে। সূত্র : ডিডাব্লিউ নিউজ অনলাইন
খবরটি পড়েছেন :526
এমন আরো কিছু পোষ্ট:
You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0 feed. You can leave a response, or trackback from your own site.
