মস্তিষ্কের প্রধান জিনগুলোর মানচিত্র তৈরি
আসিফ
যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা মস্তিষ্কের সঙ্গে সংযুক্ত জিনের প্রধান নেটওয়ার্কের মানচিত্র তৈরি করেছেন যা নিউরোলজিক্যাল গবেষণায় সহায়তা করতে পারে। মস্তিষ্কের অংশগুলো ঠিকমতো বেড়ে উঠছে কি-না তা এই নিয়ন্ত্রণকারী জিনগুলো নির্ধারণ করে।
বোস্টনের ডানা-ফারবার ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের গবেষকরাই ‘মানচিত্রাবলি’ তৈরি করেছিলেন এবং জিনগুলোকে আরও নিখুঁতভাবে নির্ণয়ের জন্য ইঁদুরের মস্তিষ্কে নিখুঁতভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল। বর্তমানে এ ছক মানব মস্তিষ্কেও প্রয়োগ করা হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, এটি ব্রেইন টিউমারের মতো বিষয়গুলোর গবেষণায় সাহায্য করবে। প্রধান জিনে এদের পরিবর্তনের কারণে টিউমার এবং অন্যান্য স্বল্প স্নায়ুরোগের উৎপত্তি হয় যাকে প্রতিলিপি উপাদান (ঞৎধহংপৎরঢ়ঃরড়হ ভধপঃড়ৎ) বলা হয়।
এটি শিরা এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত কাঠামোর উন্নয়নে সমপ্রতিক্রিয়ার ধারা পরিচালনা করে। প্রতিলিপি উপাদান স্বল্প স্নায়ুকোষের বিন্যাস পরিচালনা করে এবং পূর্ববর্তী কোষগুলোর আদিস্তর থেকেই সহায়ককারী কোষগুলোকে বলা হয় গ্গি্নদয়া।
মানব রোগ : মানচিত্রাবলি বিন্যস্তকরণে তথ্যানুসন্ধানকারীরা ইঁদুরের জেনোম তথ্যের (কোনো কোষ বা জীবিত কিছুর জিনের পূর্ণাঙ্গ সেটের ডেটা) ওপর দৃষ্টিপাত করছেন। ইঁদুর ও মানুষের মস্তিষ্ক একই ধরনের অনেক নিয়ন্ত্রকের অংশীদার যা মানুষের রোগ সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে বলে গবেষকরা বিশ্বাস করেন। এ দলটি প্রতিলিপি উপাদান হিসেবে ইঁদুরের জিনগুলোর মধ্যে বিশেষ একটিকে বেছে নিয়েছেন।
তারা বর্ধনশীল ইঁদুরের মস্তিষ্কে এ ধরনের আরও এক হাজারটি অবস্থান খুঁজে পেয়েছেন। ইঁদুরের মস্তিষ্কের দুর্বল অংশ অনুসন্ধানে জেনিটিক তদন্তকারী বিজ্ঞানীরা বিশেষকিছু দেখতে পান। তারা দেখতে পান যে, ৩৪৯টি প্রতিলিপি উপাদান (ঞঋ এবহব) অন্যান্য জিনের মতো পুরো মস্তিষ্কে প্রকাশিত না হয়ে মস্তিষ্কের বিশেষ এলাকায় প্রকাশিত হয়েছে। তারা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলেন যে, এই জিনগুলো একটি সুনির্দিষ্ট অংশের উন্নয়ন কাজ নিয়ন্ত্রণ করত এবং সেখানে একমাত্র এরাই অস্তিত্ববান ছিল। এই ৩৪৯টি জিনই মানচিত্রাবলি তৈরি করেছে।
গবেষকরা বলেন, প্রথমবারের মতো এগুলোকে পৃথক করা হয়েছে এবং মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে এদের অবস্থানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারবেন কোন ঞঋ জিনগুলো মস্তিষ্কের সুনির্দিষ্ট অংশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে এবং ব্রেইন টিউমার ও অন্যান্য রোগের সম্ভাব্য কারণ অনুসন্ধানের জন্যও তদন্ত কাজ চালাতে হবে। এ দলটি ইতিমধ্যেই ঞঋ জিন নিয়ন্ত্রণকারী শিরার ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে যা ব্যথার ইন্দ্রিয়, মস্তিষ্কের টিউমার এবং বাকশক্তির সমস্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এগুলো জিহ্বার পেশি নিয়ন্ত্রণকারী অস্ব্বাভাবিকভাবে বর্ধনশীল সঞ্চালক স্নায়ুকোষের কারণে হয়ে থাকে।
ডানা-ফারবার ক্যান্সার বায়োলজি বিভাগের এই গবেষণা পরিচালনাকারী ড. কুইফু মা বলেন, ‘এটিই হচ্ছে মস্তিষ্কের প্রধান অংশগুলোর সর্বপ্রথম পদ্ধতিগত মানচিত্র যা ওই সুনির্দিষ্ট অংশে কোন নিয়ন্ত্রণকারী জিনগুলো সুস্পষ্টরূপে রয়েছে তা তুলে ধরছে।’
খবরটি পড়েছেন :332
এমন আরো কিছু পোষ্ট:
- মস্তিষ্কের কোষও মরে যায়!
- মস্তিষ্কের সঙ্গে আধ্যাত্মিকতার যোগ রয়েছে
- ব্রেন ক্যান্সারের জন্য দায়ী জিনের পূর্ণাঙ্গ মানচিত্র আবিস্কার
- সুস্থ হৃদপিণ্ড কমাতে পারে মস্তিষ্কের বয়স
- মস্তিষ্কের জন্য ব্রাউজিং
- স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের যত্ন নিন
- সেল ফোনে ক্যানসারের ঝুঁকি
- আলজেইমার্স কমাতে সেলফোন!
- মস্তিষ্কের গঠন দেখে বোঝা যাবে মানসিক রোগের ঝুঁকি
- প্লাস্টিকের বোতলে মস্তিষ্কের ক্ষতি!
You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0 feed. You can leave a response, or trackback from your own site.
