আবদুর রাজ্জাক (১৯১৪-১৯৯৯)
শিক্ষাবিদ, জাতীয় অধ্যাপক। ১৯১৪ সালে ঢাকা জেলার নওয়াবগঞ্জ উপজেলার পারাগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পুলিশ কর্মকর্তা আবদুল আলীর পুত্র আবদুর রাজ্জাক রংপুর ও হুগলিসহ বিভিন্ন স্থানে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। তিনি ঢাকার সরকারি মুসলিম হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক ও ঢাকা কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। ১৯৩১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক-অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৩৬ সালে তিনি প্রথম শ্রেণীতে এমএ পাস করেন। ওই বছরই তিনি রাজনৈতিক-অর্থনীতি বিভাগে লেকচারার পদে যোগদান করেন। পরে এ বিভাগটি থেকে অর্থনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান দুটি পৃথক বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে যোগ দেন এবং ১৯৭৫ সালে সিনিয়র লেকচারার হিসেবে অবসর নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনাকালে তিনি সময় সময় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগেও কাজ করেন।
১৯৫০ সালের প্রথমদিকে আবদুর রাজ্জাক লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিক্সে পড়াশোনা করেন, কিন্তু কোনো ডিগ্রি না নিয়েই দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। এর পেছনে সঙ্গত কারণও ছিল। বন্ধুবান্ধব ও সহপাঠীদের মতে তিনি সবসময় পড়াশোনায় একনিষ্ঠ ছিলেন কিন্তু ডিগ্রির প্রতি তার তেমন মোহ ছিল না, বিদ্যা জাহির করা তার চরিত্রের বৈশিষ্ট্য ছিল না। তবে আবদুর রাজ্জাক অনুসন্ধিৎসু ব্যক্তিদের জ্ঞানের চাহিদা মেটাতে কার্পণ্য করতেন না। লেখার অভ্যাস তার মোটেই ছিল না। কয়েকটি প্রবন্ধ ও বক্তৃতা ছাড়া তার কোনো প্রকাশিত লেখা নেই।
চিরকুমার প্রফেসর আবদুর রাজ্জাক একাকী অবস্থানকালে প্রায়ই চিন্তামগ্ন থাকতেন, মেধাবী ছাত্রদের সঙ্গে সংলাপের সময় তিনি অত্যন্ত কৌতূহলী ও উদ্দীপনাময় হয়ে উঠতেন। তিনি ভালো গবেষণা ও সৃষ্টিশীল কাজের উচ্চ প্রশংসা করতেন। আবদুর রাজ্জাকের জ্ঞানের পরিধি বিস্তৃত ছিল বিশেষত প্রতœতত্ত্ব, ইতিহাস ও রাজনীতিতে। তার শিষ্যরা তাকে ‘শিক্ষকের শিক্ষক’ নামে অভিহিত করতেন। তার অনুগামীদের মধ্যে শুধু বুদ্ধিজীবী নয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ অনেক রাজনৈতিক নেতাও ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে আইয়ুব সরকার তাকে একবার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরিচ্যুত করতে উদ্যোগী হয়েছিল। অভিযোগ ছিল শিক্ষকতায় অমনোযোগিতা। আদালতে সরকার এ অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে চাকরিচ্যুত করা সম্ভব হয়নি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘দেশদ্রোহিতার’ জন্য তাকে তার অনুপস্থিতিতে ১৪ বছর সশ্রম কারাদ- দেয়া হয়।
১৯৭৩ সালের প্রথমদিকে ভারতের দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় আবদুর লাজ্জাককে পিএইচডি প্রদান করে। শিক্ষাব্রতী জ্ঞানীদের মধ্যে তার অনন্য মর্যাদার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৫ সালে তাকে জাতীয় অধ্যাপক পদে অধিষ্ঠিত করে। জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক ১৯৯৯ সালের ২৮ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
number of view: 113
এমন আরো কিছু পোষ্ট:
- কি ঘর বানাইমু আমি শূন্যের মাঝার – হাওলাদার আবদুর রাজ্জাক
- তাড়াশে স্বামীর বাড়িতে স্ত্রীর অনশন
- ৭১ বছর বয়সে স্নাতকোত্তর পাস করলেন আঃ রহিম
- কোনো আইনজীবী এজলাস থেকে হাত-পা নিয়ে ঘরে ফিরতে পারবেন না
- শোকে শ্রদ্ধায় স্মরণে মুজিব
- সুভাষচন্দ্র বসু (১৮৯৭-১৯৪৫)
- ফ্রেডরিখ হেগেল (১৭৭০-১৮৩১)
- নীলিমা ইব্রাহিম (১৯২১-২০০২)
- গবেষক ও অধ্যাপক নরেন বিশ্বাস
- মেঘনাদ সাহা (১৮৯৩-১৯৫৬)
You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0 feed. You can leave a response, or trackback from your own site.
