পরিশ্রমে আয়ু বাড়ে স্বাস্থ্য ভালো থাকে

শরীরের নড়াচড়ার জন্য যেমন ব্যায়াম, হাঁটা, সাইকেল চালানো এসব করা হয়। এগুলোকে বলে ফিজিকাল অ্যাক্টিভিটি। এর অনেক উপকারিতা আছে। এ ধরনের অ্যাক্টিভিটি মানুষের হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক কমিয়ে দিতে পারে। এ ধরনের কাজ মানুষের শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে এবং শরীরের গঠন ঠিক রাখতে সাহায্য করে। প্রত্যেকের সপ্তাহে অন্তত প্রতিদিন ৩০ মিনিট ফিজিকাল অ্যাক্টিভিটি বা শারীরিক সক্রিয়তার জন্য কাজ করা উচিত।

যদিও আমরা বলি ব্যায়াম তবে ফিজিকাল অ্যাক্টিভিটি তার চেয়ে খানিকটা ভিন্ন। কারণ ভালো থাকার জন্য আমাদের শরীরকে প্রতিদিন যদি খানিকটা নড়াচড়া করি তাহলে শরীরের জন্য তার সুফল বয়ে অনেক।

কেন প্রতিদিন স্বাস্থ্যের জন্য ফিজিকাল অ্যাক্টিভিটি প্রয়োজন।

কারণ ১) প্রতিদিন যদি অন্তত আধাঘণ্টা ব্যায়াম করা যায় তাহলে কমন নন-কমিউনাল ডিজিজ বা এনসিডির হাত থেকে বাঁচা যায়। নন-কমিউনাল ডিজিজ হলো হার্ট অ্যাটাক বা ডায়াবেটিস জাতীয় রোগ।
শরীরকে নিষ্ক্রিয় রাখা বা ফিজিকাল অ্যাক্টিভিটি না করলে এনসিডি জাতীয় রোগ বেড়ে যায়।
সারাবিশ্বে প্রতিদিন যতো মানুষ মারা যায় তার শতকরা ৬০ ভাগই এনসিডি জাতীয় রোগের আক্রমণে।
এর শতকরা ৮০ ভাগ লোকই মারা যায় তৃতীয় বিশ্বের অনুন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে।
শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা সারাবিশ্বের জন্য এক বিশাল সমস্যা। সারাবিশ্বের প্রায় ৬০ ভাগ লোক শারীরিক সক্রিয়তা বা ফিজিকাল অ্যাক্টিভিটির জন্য প্রয়োজনীয় শরীরচর্চা করতে ব্যর্থ হয়।
কেন মানুষ শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা বা ফিজিকাল ইনঅ্যাক্টিভিটিতে আক্রান্ত হয়।
তৃতীয় বিশ্ব এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বাড়ছে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা বা ফিজিকাল ইনঅ্যাক্টিভিটি। কারণ এসব দেশে খুব দ্রুত শহরায়নের হার বাড়ছে। শহরায়ন শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার বড় কারণ।
কারণগুলো হলোÑ
* জনসংখ্যার চাপ
* দারিদ্র্য বৃদ্ধি
* অপরাধ বাড়া
* জ্যাম বা যানজট
* বাতাসে দূষণ
* শহরগুলোতে যথেষ্ট পরিমাণ পার্ক, খোলা এলাকা এবং খেলার মাঠের অভাব।
ফিজিকাল অ্যাক্টিভিটি শারীরিক সক্রিয়তার সুফল
শারীরিক সক্রিয়তা নির্ধারণের মাত্রা হলো শরীরের যে কোনো নড়াচড়া। যখন মানুষ হাত-পা নাড়ায় তার স্কেলেটাল মাসলস বা পেশি নড়াচড়া করে। এ নড়াচড়ার ফলে শরীরের এনার্জি বা শক্তি ক্ষয় হয়। এ ধরনের নড়াচড়া শরীরের প্রধান চাবিকাঠি। ফলে মানুষের শক্তি ক্ষয় পায়। ফলে তার শরীরের এনার্জির ভারসাম্য তৈরি হয়। এতে মানুষ বেশ উপকার লাভ করে। শরীর গঠন ছাড়াও তার অসুস্থতায় ফিজিকাল অ্যাক্টিভিটি কাজে আসে।
যেমনÑ
* যে কোনো ধরনের হৃদরোগ বা স্ট্রোক
* টাইপ টু ডায়াবেটিস
* কোলন ক্যান্সার
* ব্রেস্ট ক্যান্সার
পরিমাণমতো শারীরিক সক্রিয়তা এবং ব্যায়ামের ফলে
* মানুষের হাইপার টেনশনের ঝুঁকি কমে যায়
* মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমায়
* শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ হয়
* পিঠের ব্যথা কমিয়ে আনে
* মানসিক স্বাস্থ্য শক্তিশালী রাখে
এর কিছু সামাজিক সুবিধাও আছে।
কাজের পরিবেশ ভালো রাখে এবং উৎপাদন বাড়ায়
যদি শরীর ভালো থাকে তাহলে শ্রমিকরা ছুটি নেবে কেন?
স্কুলে বা কর্মক্ষেত্রে কাজ করতে আনন্দ জাগায়।
কাজেই আর দেরি নয়, হাত-পা নাড়ান, হাঁটুন, ব্যায়াম করুন। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। বিএম

কত বার পড়া হয়েছে: 182
  • Print
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Google Bookmarks
  • email
  • LinkedIn
  • Twitter

এমন আরো কিছু পোষ্ট:

  1. মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নের উপায়
  2. ভালো ঘুমের জন্য ড. উইলিয়ামের পাঁচ পরামর্শ
  3. দৌড়ালে বুদ্ধি বাড়ে!
  4. সকালে নাস্তা না খেলে ওজন বাড়ে
  5. স্মৃতিলোপ রোধ করে ব্যায়াম
  6. শারিরীক অৰমতায় ব্যায়াম
  7. শরীরের বাড়তি ওজন
  8. দীর্ঘ জীবনের চার উপায়
  9. পুরুষদের স্বাস্থ্য কথা
  10. মাত্রাতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারে বিষন্নতার ঝুঁকি বাড়ে

You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0 feed. You can leave a response, or trackback from your own site.

Leave a Reply

XHTML: You can use these tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>