কোমল পানীয়? সাবধান!
কোমল পানীয়তে খুব কম পরিমাণে ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকে। যা থাকে তা হল ক্যাফেইন, কার্বন, চিনি, কৃত্রিম রং, ফ্লেভার, ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর উপাদান। অনেক গবেষণার পর প্রমাণিত হয়েছে অতিরিক্ত কোমল পানীয় পান করার ফলে ছোট ছেলে-মেয়েদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। যেমন- দাঁতের ক্ষয়, অপুষ্টি, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, মোটা হয়ে যাওয়া এবং হৃদরোগ ইত্যাদি। এসকল রোগ হবার প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
কেন কোমল পানীয়তে ব্যবহৃত চিনি ক্ষতিকর? অধিকাংশ কোমল পানীয়তে অতিরিক্ত চিনি দেওয়া হয়। USDA এর মতে দৈনিক ২০০০ ক্যালরি ডায়েট এর জন্য প্রয়োজন ১০ চা চামচ চিনি, কিন্তু কোমল পানীয়তে ১০ চা চামচ অপেক্ষা বেশি থাকে। অতিরিক্ত চিনি খুব ক্ষতিকর আমাদের জন্য। সেজন্য আমাদের জানা প্রয়োজন চিনি আমাদের শরীরে কি কাজ করে। যখন চিনি খাওয়া হয় তখন আমাদের অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন নামক হরমোন নিঃসৃত করে যা রক্তে চিনির পরিমাণ কমিয়ে দেয় এবং রক্তকে কোষে ব্যবহারের উপযোগী করে তুলে। অতিরিক্ত চিনি খেলে ইনসুলিনের পরিমাণ বেড়ে যায়। যার ফলে আমাদের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে রোগের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এছাড়াও অতিরিক্ত চিনি ফ্যাটে পরিবর্তিত হয় যা আমাদের মুটিয়ে যাওয়া, হার্টের সমস্যা, ক্যন্সারের জন্য দায়ী। এক গবেষণায় দেখা গেছে যে চিনি খাওয়ার প্রায় ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত আমাদের শ্বেত রক্ত কণিকার পরিমাণ কম থাকে। এছাড়াও ইঁদুরের উপর অন্য আরেকটা গবেষণায় দেখা যায়, যেসব ইঁদুরকে অতিরিক্ত চিনি দেওয়া হয়েছে তাদের স্তন ক্যান্সারের ও মূত্রথলির ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে গেছে।
প্রাত্যহিক কোমল পানীয় পান করার ফলে আমাদের ৩০% ওজন বেড়ে যাবার ঝুঁকি রয়েছে। পরীক্ষায় জানা যায় যে কৃত্রিম চিনি আমাদের মস্তিষ্ককে ভাবতে সাহায্য করে যে এটা মিষ্টি। তাই অতিরিক্ত শর্করার প্রতি আমাদের মস্তিষ্ক উত্তেজিত হয় এবং মস্তিষ্কের বোঝা বেড়ে যায়। কোমল পানীয়তে ব্যবহৃত কার্বন, ক্যালসিয়াম এর পরিমাণ কমিয়ে দেয়। ক্যালসিয়াম আমাদের হাড়ের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তাই দীর্ঘদিন ধরে ক্যালসিয়াম এর পরিমাণ কম থাকলে হাড় ক্ষয় হয়ে যায় যাকে বলা হয় অস্টিওপোরেসিস। অন্যদিকে ক্যাফেইন শরীরের ক্যালসিয়াম এর পরিমাণ কমায়, সাথে সাথে আমাদের কেন্দ্রীয় স্নায়ুকে উত্তেজিত করে ফলে মানসিক উত্তেজনা বেড়ে যায়, নিদ্রাহীনতার সমস্যা দেখা যায়। তাই আমাদের কোমল পানীয় ত্যাগ করা উচিত। সেক্ষেত্রে আমাদের অভ্যস্ত হওয়া উচিতঃ
সতেজ পানিঃ
সুস্বাস্থ্যের জন্য পানি অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ। আমাদের সব শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্য পানির ভূমিকা তুলনাহীন। কিন্তু পানি হতে হবে বিশুদ্ধ। আমরা যে উন্মুক্ত উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করি, তার মধ্যে একটি অন্যতম উৎস হল আমাদের বাসায় ওয়াসা হতে সরবরাহকৃত পানির লাইন। গবেষণায় জানা গিয়েছে যে এ উৎসের পানিতে বিভিন্ন প্রকার দূষিত উপাদান থাকে। তাই এই পানি ফিল্টার করে পান করতে হবে। পরিষ্কার পাত্রে পানির সাথে আমরা মধু বা মিন্টও যোগ করতে পারি।
ফলের রসঃ
ফলের রস খুব উপকারী আমাদের জন্য। বেশি পরিমাণ পানি যোগ করে ফলের রস পান করা উচিত। এতে অতিরিক্ত চিনির পরিমাণ কমে যাবে। সেক্ষেত্রে জগের চার ভাগের তিন ভাগ পানি ও এক ভাগ ফলের রস মিশিয়ে পান করা উচিত। দীর্ঘদিন ফলের রস পানের অভ্যাস আমাদের এন্টিঅক্সিড্যান্ট এর কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়।
চাঃ
চা আমাদের শক্তি বাড়ায়। কালো ,সবুজ, সাদা চা-এ এন্টিঅক্সিড্যান্ট বেশি থাকে। ভেষজ চা এর স্বাস্থ্য উপাদান যদিও কিছুটা কম কিন্তু তারপরও ইহা আমাদের মনকে প্রশান্ত করে। যদি চা চিনির ঘাটতি পূরণ না করে সেক্ষেত্রে কিছু মধু চায়ের সাথে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।
এভাবে কোমল পানীয় পরিত্যাগ করে আমাদের সুস্থ ও সুন্দর স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা যায় অনায়াসেই।
rtnn
খবরটি পড়েছেন :451
এমন আরো কিছু পোষ্ট:
You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0 feed. You can leave a response, or trackback from your own site.
