মানচিত্র কথন মাখরাজ খান

সাধারণভাবে মানচিত্র বলতে বোঝায় গোলাকার পৃথিবীর অঙ্কিত সমতল রেখা। মানচিত্রে বিভিন্ন দেশের সীমারেখা, নদীপথ, রেলপথ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানের চিহ্ন দেয়া থাকে। এ চিহ্নগুলো দেয়া হয় স্বীকৃত রঙ এবং সংকেতের সাহায্যে।

এ ছাড়া কোনো দেশের আলাদা মানচিত্র থাকতে পারে যেখানে কৃষি, খনিজ, শিল্প-কারখানা এবং বিভিন্ন রঙের সাহায্যে চিহ্নত করা হয়। জমির পরিমাণ এবং মালিকানা সংক্রান্ত জরিপ বিভাগের মানচিত্রের প্রচলনও রয়েছে বিভিন্ন দেশে আমাদের দেশে জমি সংক্রান্ত এ মানচিত্রকে বলা হয় নকশা। এতে বিভিন্ন মৌজার জমির পরিমাণ ও দাগ নম্বর দেয়া থাকে।

পৃথিবীর প্রথম মানচিত্র কোথায় অঙ্কিত হয়েছল এ নিয়ে বাকবিত-া থাকলেও মিসর ও গ্রিসে যে সুপ্রাচীনকাল থেকে মানচিত্রের ব্যবহার ছিল এ সম্পর্কে কারও দ্বিতম নেই। ১৬০ খ্রিস্টাব্দে টসেলির ভূগোলে সমান্তরাল রেখা ও দেশান্তর রেখা পয়োগ বিদ্যমান ছিল। এ পুস্তক থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে মুসলমানরা মধ্যযুগে মানচিত্র অঙ্কন শুরু করে, মুসলমানদের অঙ্কিত মানচিত্রের প্রভাবেই ইউরোপে মানচিত্র অঙ্কন শুরু হয়েছিল। ১৫৬৯ খ্রিস্টাব্দে মারকেটরের মানচিত্র প্রকাশিত হলে বিভিন্ন দেশে মানচিত্র তৈরির হিড়িক পড়ে যায়। এ জন্য সঠিক ও নির্ভুল মানচিত্র তৈরিতে অভিযাত্রী দল অভিযানে বেরিয়ে পড়ে। ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সে সরকারিভাবে প্রথম মানচিত্র প্রকাশত হয়। ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ড ফ্রান্সকে অনুসরণ করে মানচিত্র প্রকাশ করে। এরপর অন্যান্য দেশ তাদের মানচিত্র প্রকাশের জন্য জরিপ কাজে দক্ষ লোকদের নিয়ে সংস্থা গঠন করে। ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে এ সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে মানচিত্র অঙ্কনের নীতিমালা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছিল বলে জানা যায়। এতে সব দেশকে একই স্কেলে ১:১,০০,০০০ মানচিত্র প্রকাশের জন্য বলা হয়েছিল। ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ শুরু হয়। ভারত উপমহাদেশে বিজ্ঞানসম্মত জরিপ শুরু হয় ১৮০২ খ্রিস্টাব্দে; ল্যাম্বটন এ জরিপ কাজ শুরু করেছিলেন।

ল্যাম্বটন মানচিত্র অঙ্কনের জন্য যে পদ্ধতি গ্রহণ করেছিলেন পরবর্তী সময় সেই পদ্ধতি অনুসরণ করেই মানচিত্র অঙ্কন কার্য অগ্রসর হতে থাকে। তিনি মানচিত্রে স্কেল বা দৈর্ঘ্যরে অনুপাত অনুসারে মানচিত্র অঙ্কনের প্রবর্তন করেন। ল্যাম্বটন রিপ্রেজেনটেটিভ ফ্যাকশনের নিয়ম অনুসরণ করে ১:১০০ অর্থাৎ মানচিত্রের ভূমির অনুপাত হিসাব করেছিলেন। ১৮৪৭ থেকে ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে জরিপ কাজ চালিয়ে ওই স্থানগুলোর পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। এ জরিপ কাজে র্১র্ =১ মাইল ধরা হয়েছিল। এরপর মানচিত্র অঙ্কনের অগ্রগতি হয় খুব দ্রুত। অক্ষ্যাংশ এবং দ্রাঘিমাংশ সংবলিত মানচিত্র পৃথক পৃথক ক্রমিক সংখ্যার সাহায্যে স্থান ও সময়ের পার্থক্য দেখানো হয়ে থাকে।

ভারতের রঙিন মানচিত্র প্রকাশিত হয় ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর পািকস্তান পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মানচিত্র পৃথকভাবে প্রকাশ করে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানই আমাদের বর্তমান বাংলাদেশ। সার্ভে অব বাংলাদেশ মানচিত্র সংক্রান্ত সব কাজের একমাত্র স্বীকৃত এবং মানসম্মত মানচিত্র সরবরহকারী সংস্থা।

number of view: 198
  • Print
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Google Bookmarks
  • email
  • LinkedIn
  • Twitter

Related posts:

  1. মস্তিষ্কের প্রধান জিনগুলোর মানচিত্র তৈরি
  2. ব্রেন ক্যান্সারের জন্য দায়ী জিনের পূর্ণাঙ্গ মানচিত্র আবিস্কার
  3. বন্যা পরিস্খিতির অবনতি ছোট হয়ে আসছে মুন্সীগঞ্জের মানচিত্র
  4. অস্থিরতার শুরু ২৮-এ
  5. ব্যথা দূর করতে পারে এক কাপ পুদিনা পাতা চা
  6. বাদুড়ের কি চোখ আছে?
  7. মৃত্যুর কাছাকাছি গিয়ে এক ধরনের আলো দেখা যায়
  8. আকর্ষণীয় মিয়ামি

You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0 feed. You can leave a response, or trackback from your own site.

Leave a Reply

XHTML: You can use these tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>