চারদিকে নির্বাচন পেছানোর জোর গুজব
আমাদের সময়: ‘১৮ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচন হচ্ছে না’ চারদিকে এখন এমন গুজব-গুঞ্জন চলছে বেশ জোরেশোরে। ১/১১’র পর থেকেই নির্বাচন নিয়ে সংশয়ের কথা আলোচিত হয়ে এলেও গত ক’দিন ধরে এই সন্দেহ নতুন করে গতি পেয়েছে। এই গতি সঞ্চারের কারণ সম্পর্কে কেউ স্পষ্ট বা সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলতে না পারলেও পরস্পরের কথাবার্তায় নানামুখী সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে উঠে আসছে বিভিন্ন মেরুকরণের কথা।
১৮ ডিসেম্বর নির্বাচন হচ্ছে না-কি হচ্ছে না কিংবা নির্বাচন না হলে পরবর্তীতে কী হতে যাচ্ছে, এসব বিষয়ে কেউই স্পষ্ট কিছু বলতে না পারলেও একটি বিষয়ে সবার মত অভিন্ন। তা হচ্ছে, ১৮ ডিসেম্বর নির্বাচন হোক আর না হোক ৩১ ডিসেম্বরের পর ড. ফখরুদ্দীন আহমদের সরকার আর থাকছে না। প্রধান উপদেষ্টা নিজেও একাধিকবার দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে তিনি ও তার সহকর্মীরা বিদায় নেবেন। আগামী বছরের শুরতেই জাতি একটি নতুন সরকার দেখতে পাবে। আইন উপদেষ্টা এএফ হাসান আরিফও শুক্রবার বাগেরহাটে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে আমরা যে যার কাজ ও পেশায় ফিরে যাব। এর আগে গত ৮ এপ্রিল সেনাসদরে ঢাকার প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদও বলেছিলেন, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই সকল জল্পনা-কল্পনা এবং সন্দেহের অবসান ঘটবে। ইদুল ফিতরের দিনও তিনি বলেছেন, আগামী বছরের শুরুতেই জাতি একটি নতুন নেতৃত্বের সরকার দেখতে পাবে।
এদিকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পক্ষ থেকে যুগপৎভাবে ১৮ ডিসেম্বর নির্বাচন না হওয়ার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমান শুক্রবার বলেছেন, ১৮ ডিসেম্বর নির্বাচন নিয়ে নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে। কোনো ষড়যন্ত্র করে নির্বাচন পেছাতে দেয়া হবে না। সর্বশক্তি প্রয়োগ করে নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্র রুখতে তিনি দলীয় নেতা-কর্মী ও দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। একই অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনও গত ক’দিন ধরে বলছেন, নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্র চলছে। বিএনপি এটা মেনে নেবে না।
নির্বাচন পেছানোর প্রক্রিয়া চলার অভিযোগের সমান্তরালে বড় দুটি শিবির থেকে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে বলেও অভিযোগ আনা হয়েছে। একদিকে জিল্লুর রহমান বলেছেন, শেখ হাসিনা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারলে আওয়ামী লীগ কোনো অবস্থাতেই নির্বাচনে অংশ নেবে না। খোন্দকার দেলোয়ারও বলেছেন, খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে না পারলে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না।
সূত্রমতে, পর্দার আড়ালে কোনো দর কষাকষির কারণেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নির্বাচন পেছানোর এবং দুই নেত্রীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারার ষড়যন্ত্রের অভিযোগটি প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। এছাড়া যেসব বিতর্কিত নেতারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, তাদেরও পৃথক দুটি তালিকা সরকারের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে হস্তান্তর করা হয়েছে। জিল্লুর রহমান ও খোন্দকার দেলোয়ারের অভিযোগের এটিও অন্যতম কারণ।
এদিকে বিভিন্ন মহলে বলাবলি হচ্ছে, কোনো কারণে ১৮ ডিসেম্বর নির্বাচন না হলে তা অনুষ্ঠিত হতে পারে আগামী বছরের মার্চের মাঝামাঝি সময়ে। একটি সূত্রের দাবি, বিএনপির পক্ষ থেকেই মার্চে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আবার কারো মতে, এ রকম সংশয় প্রকাশ করতে করতেই দেখা যাবে-১৮ ডিসেম্বর ঠিকই একটি নির্বাচন হয়ে গেছে। কেউ কেউ বলছেন, যদি মার্চে সংসদ নির্বাচন হয় তাহলে ডিসেম্বরেই উপজেলা নির্বাচন সম্পন্ন করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে উপজেলাসহ প্রতিটি স্তরের নির্বাচিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দু’একজন এমনও বলছেন, নির্বাচন পিছিয়ে গেলে নির্বাচনের আগেই রাজনীতিকদের সমন্বয়ে জাতীয় ঐমত্যের সরকার গঠন হতে পারে। আর ১৮ ডিসেম্বর নির্বাচন হয়ে গেলে নির্বাচনের পর সর্বদলীয় কোয়ালিশন সরকার গঠনের সম্ভাবনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে নভেম্বর ও ডিসেম্বর হতে পারে ঘটনা বহুল।
খবরটি পড়েছেন :313এমন আরো কিছু পোষ্ট:
- ‘ভাই, নির্বাচন হবে তো!’
- ১৮ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচন, উপজেলা নির্বাচন হবে ২৪ ও ২৮ ডিসেম্বর
- জরুরি অবস্থার মধ্যেই নির্বাচন
- উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচন জরুরি
- ক্ষমতায় গেলে এ সরকারের সব কাজের বৈধতা দেয়া হবে ॥ সাংবাদিকদের আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক
- এবারো কি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ বাণিজ্য চলবে?
- রাজনীতির সাতকাহন এবং নির্বাচন নিয়ে সংশয়
- নির্বাচন হোক ‘লাইনচ্যুত ট্রেন’টির গন্তব্য
- প্রার্থী হবেন না দুই নেত্রী!
- নির্বাচন: প্রহসন, প্রত্যাশা
You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0 feed. You can leave a response, or trackback from your own site.
