ফরিদপুরে সরকারি ভবনে অনুষ্ঠান করলেন জামায়াত নেতা মুজাহিদ পুলিশের খাতায় পলাতক!
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ সরকারি ভবন ব্যবহার করে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান করেছেন। মুজাহিদ বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলার আসামি এবং পুলিশের খাতায় তিনি এখন পলাতক। তাই বিষয়টি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুরে জেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে অতি গোপনে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয় এবং এতে মুজাহিদ প্রধান অতিথি ছিলেন। জানা যায়, জেলা জামায়াত সদর উপজেলার মেয়র, কাউন্সিলর, ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের উদ্দেশে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক আখতারুজ্জামান মোহাম্মদ মোস্তাফা কামাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘একজন পলাতক আসামি জেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষ ব্যবহার করেছেন কি না, তা আমার জানা নেই। তদন্ত করে দেখব।’
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়ারেছ আলী মিয়া বলেন, ‘পলাতক আসামি জেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষ কীভাবে ব্যবহার করে অনুষ্ঠান করলেন, তা আমার জানা নেই। অনুষ্ঠানটি সম্বন্ধেও আমি কিছু জানি না।’
জেলা জামায়াত সুত্রে জানা গেছে, আলী আহসান মুজাহিদ গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর আসেন। তিনি বাড়িতে জোহরের নামাজ পড়ে বেলা দুইটায় ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। মধ্যাহ্নভোজের আগে তিনি দুই মিনিট বক্তব্য দেন। বক্তব্যে তিনি আগামী নির্বাচনে সঠিক নেতৃত্বকে নির্বাচিত করা এবং সেই লক্ষ্যে কাজ করার জন্য আমন্ত্রিত অতিথিদের প্রতি অনুরোধ জানান। বিকেল চারটার দিকে মুজাহিদ সাতক্ষীরার উদ্দেশে ফরিদপুর ত্যাগ করেন।
এ অনুষ্ঠানে ফরিদপুর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র শেখ মাহাতাব আলী মেথুসহ কাউন্সিলররা এবং ফরিদপুর সদরের ১১টি ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা অংশ নেন। তবে অনুষ্ঠানটির ব্যাপারে সাংবাদিকদের কিছু জানানো হয়নি।
মুজাহিদের উপস্িথতির খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে ভারপ্রাপ্ত মেয়র প্রথম আলোকে বলেন, ‘বুধবার স্থানীয় জামায়াতের নেতা আ. খালেক মোবাইলে ফোন করে আমাকে বলেন, জামায়াত নেতা মুজাহিদ আমাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। ফলে পরদিন আমি ও কাউন্সিলররা অনুষ্ঠানে যোগ দেই।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মুজাহিদের আত্মীয় এক সাংবাদিক প্রথম আলোকে জানান, বেলা একটার সময় এই অনুষ্ঠানের কথা তিনি জানতে পারেন। তিনি বলেন, ওই অনুষ্ঠানে মুজাহিদের আত্মীয় তিনজন সাংবাদিক ছাড়া গণমাধ্যমের আর কেউ উপস্িথত ছিলেন না।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াছমিন আফছানা বলেন, তিনি গত মঙ্গলবার থেকে ছুটিতে আছেন। তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবেন না।
এমন আরো কিছু পোষ্ট:
- সরকারের সঙ্গে পলাতক আসামি ॥ মুজাহিদের বৈঠক, নানা প্রশ্ন
- আদালতে পুলিশ জানাল, পলাতক থাকায় মুজাহিদকে গ্রেপ্তার করা যায়নি
- কর ফাঁকির মামলায় মুন্সিগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিনের ৮ বছর জেল
- মুন্সীগঞ্জে পুলিশের বাধায় স্ট্বেচ্ছাসেবক লীগের গনঅনশন পন্ড
- সৌদি রাষ্ট্রদূতের নৈশভোজে জামায়াত নেতাদের পাশে তোফায়েল আহমেদ
- কাগজে-কলমে বদলেছে জামায়াত
- নেতা কোথায়?
- বিক্রমপুর টঙ্গিবাড়ী কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠান
- হঠাৎ জামায়াত-ঐক্যজোটের গর্জন
- ঘরে বসে ডিএনএ টেস্ট করলেন দুই আমেরিকান কিশোরী
You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0 feed. You can leave a response, or trackback from your own site.
