আরেকটি গ্রিক ট্রাজেডির অপেক্ষায়!
মু ন তা সী র মা মু ন
জামায়াতের সঙ্গে সংলাপের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিস্মিত হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, পবিত্র রমজান মাসে হুজুররা একি কথা বললেন। অর্থাৎ আগে নির্বাচনের ব্যাপারে জামায়াত যেসব সিদ্ধান্তদিয়েছিল এবার তা নাকচ করে দিয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, তার পাশে একজন ব্রিগেডিয়ার সাহেব থাকেন যিনি মাঝে মাঝে নড়াচড়া করেন কিন্তু এবার তিনিও স্তব্ধ হয়ে গেছেন।
জনাব হুদা কী কারণে বিস্মিত হলেন? দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় তিনি বাংলাদেশে অবস্থান করেছেন। নির্বাচিত-অনির্বাচিত সব সরকারের অধীনেই কাজ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধও অবলোকন করেছেন, তিনি কি জানেন না জামায়াত কী চিজ? কেন, এই তো কয়েকদিন আগে তার সঙ্গে বৈঠক করে এসে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ দম্ভভরে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘যুদ্ধাপরাধ আবার কি? বাংলাদেশে কোন যুদ্ধাপরাধী নেই। তিনি কি তখন বিস্মিত হননি।’ তবে, আমরা হইনি। হইনি দেখেও বারবার জামায়াত ও চারদলীয় জোটের চরিত্র উšে§াচন করে লেখালেখি করছি, বলছি। বোঝা যাচ্ছে, এসবের আসর কারও ওপর পড়ে না, যতক্ষণ না তিনি নিজে ভুক্তভোগী হন।
প্রথমেই জামায়াতের নেতৃবৃন্দকে হুজুর বলায় আমি আপত্তি জানাচ্ছি। শ্মশ্র“শোভিত টুপি পরা, মাদ্রাসা পড়-য়া কাউকে দেখলেই আমরা হুজুর সম্বোধন করি। কিন্তু কেন? বিদ্যা-বুদ্ধি, মুসলমানত্বে কি তারা আমাদের ওপরে? জঙ্গিরাও সবাই কমবেশি শ্মশ্র“শোভিত ও টুপি পরিহিত। আপনি কি তাদেরও হুজুর এবং মাওলানা বলবেন? জামায়াতের যেসব নেতৃবৃন্দ আলোচনা করতে গিয়েছিল তাদের সবার হাত ১৯৭১ সালে রক্তরঞ্জিত। তাদের নামের আগে মাওলানা ব্যবহার করা বা এদের হুজুর বলে আমরা নিজেদেরই খাটো করছি। এরা হুজুর বা মাওলানা হলে সত্যিকার পরহেজগার, ধর্মপ্রাণ ও ধর্মানুরাগীদের আপনি কি বলবেন?
এদেশে যারা ইসলামের নামে ব্যবসা করছে তারা বারবারই লোকজনকে ধোঁকা দিয়েছে। পরহেজগার, আলাওলা মানুষজন এভাবে দিনকে রাত, রাতকে দিন করতে পারেন না। করলে তারা আর মাওলানা থাকেন না একশ্রেণীর রাজনীতিবিদ হয়ে যান। জামায়াত ও জামায়াতের সমর্থকরাও মোটামুটি তাই। ধর্মপ্রাণ মানুষ ইসলামের গুণাগুণ বর্ণনা করতে পারেন, ধর্মের প্রতি অনুরক্ত হওয়ার জন্য আহ্বান জানাতে পারেন কিন্তু ধর্মের নামে ব্যবসা করবেন না।
জনাব হুদা বিস্মিত হতে পারেন কিন্তু বেগম জিয়ারা এসব কথায় বিস্মিত হন না। তাদের চরিত্রে অদ্ভুত মিল আছে। বেগম জিয়া মুক্তি পাওয়ার পর প্রথম কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন জামায়াত প্রধান মতিউর রহমান নিজামীকে। অথচ এই নিজামী এক দশক আগে বেগম জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সম্পর্কে কি বলেছিলেন শুনুন।
১. ‘দেশের সন্ত্রাস বিস্তারে বিএনপি চ্যাম্পিয়ন।’ (বাংলার বাণী, ২৭-১০-১৯৯৩)। ২. ‘ইসলামী জনতা আর বিএনপিকে সমর্থন দিতে পারে না।’ (ইত্তেফাক ২৪.১.১৯৯৪) ৩. ‘বর্তমান ক্ষমতাসীনদের (অর্থাৎ বিএনপি) অধীনে কেয়ামত পর্যন্তনিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না।’ (জনকণ্ঠ, ২৯.১.১৯৯৪) ৪. ‘সন্ত্রাসীদের যে আগুন জ্বালানোর সুযোগ দিয়েছেন সে আগুনেই তারা আপনাদের ও দেশবাসীকে জ্বালিয়ে মারবে।’ (দৈনিক জনতা ২৮.৩.১৯৯২)
৫. ‘আমরা বর্তমান সন্ত্রাসী সরকারের জানাজা (বিএনপি) পড়তে চাই,’ (বাংলার বাণী ২৪.১০.১৯৯৫) ও ‘বিএনপির জন্য অপমানজনক পতন অপেক্ষা করছে।’ (সংগ্রাম, ২৫.২.১৯৯৬) ৬. ‘এই সরকারের অধীনে ইসলাম তথা স্বাধীনতা রক্ষা সম্ভব নয়।’ (সংগ্রাম, ৭.৮.১৯৯৪) ৭. ‘ক্ষমতাসীন (বিএনপি) এ সরকারের চরিত্রের ঠিক নাই।’ (ইত্তেফাক, ১২.৯.১৯৯৪) ৮. ‘বিএনপি সরকার ও ছাত্রদল কসাই-এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।’ (সংগ্রাম ২৪.২.৯৫)
৯. ‘প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে বেগম জিয়া ঠুঁটো জগন্নাথ মার্কা সংসদ করে ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা প্রদানের বিষয় চূড়ান্তকরতে চায়।’ (ঐ ১২.২.৯৬)
এরকম শত শত উদাহরণ দেয়া যায়। নিজামীর কথামতো ‘জামায়াত’ আর ইসলামী দল নয়। কারণ, ‘ইসলামী জনতা’ তো বিএনপিকে সমর্থন দিতে পারে না। তাছাড়া বিএনপি তো স্বাধীনতাও রক্ষা করতে পারে না। এরা কসাই, এরা প্রহসনের নির্বাচন করে। কিন্তু বাস্তবে দেখি বিএনপি-জামায়াত দুধে-মধুতে মাখামাখি। কোন ভদ্রলোকের পক্ষে এ ধরনের কথা বলে এ ধরনের কাজ করা সম্ভব?
আলবদর মোঃ কামরুজ্জামান সিইসির বক্তব্যকে ‘অশালীন’ বলেছেন। একাত্তরের এই ঘাতক কী বলেছিলেন, শুনুনÑ
১. ‘প্রধানমন্ত্রীর পুত্র কোটি কোটি ডলারের মালিক। প্রধানমন্ত্রীর ভাই সম্পদের পাহাড় গড়েছে, বাংলাদেশের মতো একটা দরিদ্র দেশের প্রধানমন্ত্রীকে ৬টি অফিস পরিচালনা করতে হয়।’ (বাংলার বাণী, ২৫.১১.১৯৯৫)
২. ‘জিয়াউর রহমান পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় এসে নিজেকে বৈধ করার চেষ্টা করেছেন।’ (সংগ্রাম, ১২.২.৯৬)
অথচ তারেক রহমানের মুক্তি ও জিয়ার জাতীয়তাবাদ তুলে ধরার জন্য এই কামারুজ্জামান নিশান বরদারের কাজ করেছেন। সেটি অশালীন নয় অর্থাৎ এরকম নির্লজ্জ হওয়া? এদের সঙ্গে থাকা আরেক আলবদর কাদের মোলার বয়ান শুনুনÑ বিএনপি সরকার মিথ্যাবাদী, জনগণের সম্পদ হরণকারী নির্লজ্জ সরকার।’ (ঐ ২৬.২.৯৬) সেনাসমর্থিত যে সরকার যার গায়ে হাত দিতে পারেনি সেই মহাপ্রতাপশালী একাত্তরের ঘাতক, বর্তমানে বিএনপির চালিকাশক্তি আলী আহসান মুজাহিদ কিভাবে মূল্যায়ন করেছিলেন খালেদা জিয়াকেÑ
‘খুনি আসামিদের জেল থেকে মুক্তি দিয়ে ভোট কেন্দ্র দখল করে ব্যালট ডাকাতি করা হয়েছে।’ (জনকণ্ঠ ২২.৩.৯৪)
এরা নিজেদের ভাষায়ই এখন আর ‘ইসলামী দল’ নয়। কারণ, সত্যিকার মুসলমান বা ভদ্রলোক কথা ফেরায় না। ইসলামে যারা কথার বরখেলাপ করে তাদের সাদা বাংলায় মোনাফেক বলা হয়। বাংলাদেশের এসব দল নারী নেতৃত্ব মানে না বলে ঘোষণা করেছে। অথচ এরা খালেদা জিয়ার সান্নিধ্য পেলে বর্তে যান। আরও আছে, জামায়াতের এক সময়ের প্রধান গোলাম আযম বিএনপি শাসনামলকে বলেছিলেন, ‘আইয়ামে জাহেলিয়াতের বর্বরতাকেও হার মানাইয়াছে’ (ইত্তেফাক ২২.৯.৯৩)। তাহলে কি জামায়াত বিএনপিকে সমর্থন করছে আবার আইয়ামে জাহেলিয়াত প্রবর্তনের জন্য? একদিক থেকে গোলাম আযমের কথা ঠিক। ২০০১-২০০৫ পর্যন্তজামায়াত এবং বিএনপি বাংলাদেশে আক্ষরিক অর্থে আইয়ামে জাহেলিয়াত প্রবর্তন করেছিল। যদি ১/১১ না হতো রাজনৈতিকভাবে তারা উৎখাত হতো। এখন আবার তারা একত্রিত হয়েছে। আইয়ামে জাহেলিয়াত প্রবর্তনে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গত তিন দশকে তথাকথিত ইসলামী দলগুলোর নেতারা যা বলেছেন, তার যদি সংকলন করা যায় তাহলে দেখা যাবে, তাদের কোন কথার সঙ্গে কোন কথার মিল নেই এবং যা বলেছেন তার উল্টোটা করেছেন। জামায়াত থেকে বলা হয় নিজামী আলবদর প্রধান ছিলেন না। শাহরিয়ার কবির কয়েকদিন আগে যুদ্ধাপরাধীদের ওপর যে তথ্য চিত্র নির্মাণ করেছেন সেখানে তার এলাকার লোকজন সাক্ষী দিয়েছেন নিজামী কিভাবে হত্যাকাণ্ডে মেতেছিলেন। নিজামীর নাম উলিখিত একটি চিঠিও দেখিয়েছেন মিসবাহর রহমান। এরাই বলেন, দেশে আবার যুদ্ধাপরাধ হল কবে?
এ পরিপ্রেক্ষিতে বলতে পারি, আপনারা আমার সঙ্গে একমত হন বা না হন, এ দেশে সত্যিকারের ইসলামী আদর্শের কোন দল নেই। ইসলামের মূল নীতি মানলে রাজনৈতিক দল লাগে না। কিন্তু যখন কেউ বলে যে ইসলামী আদর্শে রাষ্ট্র গঠন করতে চায়, তখনই সন্দেহ জাগে। তখন ধরে নিতে হবে, সে ইসলাম নিয়ে ব্যবসা করতে চায়। ইসলামের নামে সে ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতা দখল করে ফায়দা লুটতে চায়। নির্দ্বিধায় বলতে পারি, বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক দলগুলো ইসলামের ঠিকাদারি ব্যবসা করতে চায় এবং এটি যেকোন দেশে যেকোন ধর্মভিত্তিক দলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
১৯৭৫ সালের পর জেনারেল জিয়া ও তারপর জেনারেল এরশাদের নেতৃত্বে যেমন দল গঠিত হয়, এদের মূল আদর্শ ছিল ‘পুনর্পাকিকরণ’। জামায়াতকে জিয়া আদর্শিক মিলের কারণেই অবমুক্ত করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু এই পাকিকরণ বন্ধের জন্যই জামায়াত বা ধর্মভিত্তিক দলগুলো নিষিদ্ধ করেছিলেন। জামায়াত চায় পাকিস্তানের উদরে প্রত্যাবর্তন এবং বিএনপি চায় পাকি-বাংলা। তাদের দু’দলের মিলন যে পরম তৃপ্তিকর তা তাদের নেতানেত্রীদের কথাবার্তা ও চেহারা দেখলেই বোঝা যায়।
জামায়াত-বিএনপি বা চারদলীয় জোট যে নিবন্ধীকরণ চাচ্ছে না তার প্রধান কারণ, জামায়াতের বর্তমান গঠনতন্ত্র বজায় থাকলে নিবন্ধীকরণ পেতে পারে না। জামায়াত নির্বাচনে যেতে না পারলে বিএনপি কিভাবে নির্বাচনে যায়? সংকট আরও আছে, যাদের জন্য ১/১১ তারা নির্বাচনে গেলে সরকারের কি হবে?
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনাররা স্বাধীন বলে যেভাবই করুন না কেন তারা যে নিয়ন্ত্রিত এটি গত দু’বছরে তাদের অনেক কথাবার্তা বা কর্মকাণ্ডই সাক্ষ্য দেয়। নিবন্ধীকরণে দু’একটি ধারা সরকারের চোখ এড়িয়ে গিয়েছিল তাই এখন এই ফ্যাসাদ। আর নির্বাচনের তারিখও ঘোষণা করা হয়েছে। গত দু’বছরের পরিস্থিতি বিশেষণ করে বলতে পারি, এবারের জন্য হলেও নিবন্ধনের ওই ধারা শিথিল করা হবে। করতেই হবে। না হলে সরকারের সব পরিকল্পনা, আয়োজন ব্যর্থ হয়ে যাবে। সে পরিপ্রেক্ষিতে পুরো নির্বাচনের ব্যাপারটাই এক ধরনের তামাশা হয়ে যাবে।
নির্বাচন কমিশনকে যে জামায়াতের ডিকটাটে কাজ করতে হবে তার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। জামায়াত এখন নির্বাচনে যাওয়ার কথা বলছে। নিবন্ধন না করে জামায়াত নির্বাচনে যাবে কিভাবে? নিবন্ধন করার জন্য জামায়াত গঠনতন্ত্র বদলাবে? এত বছরের নীতি থেকে সরে যাবে?
গত কয়েকদিন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এক ধরনের ঐক্যের সুর লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে দুই নেত্রীকে একত্রে বসানোর খুব একটা প্রয়োজন নেই। হঠাৎ সব রাজনৈতিক দল বলছে, তারা বর্তমান সরকারের সবকিছুকে বৈধতা দেবে। রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব কোন মতামত এখন নেই। তাদের যা বলা হয় তাই তারা করবে। ফলে, এতগুলো রাজনৈতিক দল থাকার আদৌ দরকার আছে কিনা সেটাও বিবেচ্য। সবাই মিলে একদল করলেই চলে। কারণ, সবাইকে তো কথামতোই চলতে হবে এবং কথামতো চলতে হবে জনাব হুদাকেও। আগেও সবাই কথামতো চলেছেন। জনাব হুদা এর আগে যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখেছেন। জামায়াতিরা যে যুদ্ধাপরাধী তাও আকারে-ইঙ্গিতে বলেছেন। এখন গঠনতন্ত্র অটুট রাখা জামায়াত/ইসলামী দলগুলোকে নিবন্ধন করতে হলে তিনি তার পদে থাকবেন কিনা সেটা তার বিষয়। ইতিহাসের ছাত্র/শিক্ষক ছিলেন তিনি। নিশ্চয় দেখেছেন, সাদেকালী নির্বাচনের জনাব সাদেক, মাগুরা নির্বাচনের জনাব রউফ, সালসা নির্বাচনের জনাব সাঈদ, ভিলেন আজিজ কী করেছিলেনÑ এক সার নাম। কেউ আর প্রকাশ্যে বেরুতে পারেন না। একমাত্র আবু হেনা ছাড়া কেউ আর ইজ্জত নিয়ে ফিরতে পারেননি। তিনি ইজ্জত রাখতে পেরেছিলেন এ কারণে যে, পদের প্রতি তার কোন মোহ ছিল না।
এসবের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন হবে কিনা হলেও কেমন হবে তা মোটামুটি আন্দাজ করা যায়। বলতে পারেন ড. ফখরুদ্দীন তো বিশ্বসভায় বলে এসেছেন নির্বাচন হবে। ঠিকই আছে। একথাও তো তিনি বলেছিলেন, তিন মাসের জন্য এসেছেন। আর নির্বাচন কেমন হবে তা তো বোঝা যাচ্ছে। দৈনিক জনকণ্ঠের সংবাদে দেখলাম, সরকার একটি তালিকা দিচ্ছে দু’দলকে যাদের মনোনয়ন দিতে হবে। সে কারণে বলছিলাম, একটি দল হলেও চলবে।
আরও আছে, যে এরশাদ অস্ত্রবলে প্রেসিডেন্ট হয়ে তোফায়েল আহমেদদের ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে সূর্যের দিকে মুখ করে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন বলে শোনা যায় (তাদেরই ভাষ্য), যে বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিএনপির সাবাশ বাংলাদেশের মাধ্যমে পাঁচ বছরের আইয়ামে জাহেলিয়াত সৃষ্টি করেছিলেন, তারা আওয়ামী লীগের ইফতারে আসছেন শুনে আওয়ামী নেতাকর্মীরা উলসিত হয়ে ওঠেন। অন্যদিকে হুজিরা প্রকাশ্যে দল করেছে। জামায়াত-বিএনপি ও বিভিন্ন জঙ্গিরা (এ ধরনের দলের মাধ্যমে) একত্রিত হবে এবং সবাই সরকারের ইচ্ছাতেই চলবে। তাহলে অবস্থাটা ভাবুন। আর জামায়াতকে নিবন্ধন না দেয়ার মতো কোমরের জোর যদি নির্বাচন কমিশনের থাকে তাহলে এ সরকার নির্বাচনে আগ্রহী হবে? নৈবচ নৈবচ। তাহলে দু’বছর এত কিছু করা হল কেন?
আরেক গ্রিক ট্রাজেডির জন্য আমরা অপেক্ষা করছি যার বলি হব আমরা। সাধারণ মানুষরা। আমাদের অপরাধ আমরা পরিচ্ছন্ন এক বাংলাদেশ চেয়েছিলাম ও চাই। এ কারণে বারবার আমরা প্রহƒত ও অপমানিত হয়েছি। অথচ যারা অপরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ করেছে তারা কখনও প্রহƒত দূরে থাক অপমানিতও হয়নি। ড. কামাল হোসেন দুঃখ করে বলেছিলেন, ১৯৭৫ সালের পর কারা তার চোখ বেঁধে নিয়ে গিয়েছিল। আজ ড. হোসেন তাদের সবচেয়ে বড় মদদদাতা।
কোন নির্বাচিত অনির্বাচিত সরকার আমাদের পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ দিতে পারেনি। কিন্তু সব নির্বাচিত অনির্বাচিত সরকারের অবৈধ সব কাজকর্ম পরবর্তীকালে বৈধতা দেয়া হয়েছে এবং এ বৈধতা বাংলাদেশে সুষ্ঠু গণতন্ত্র বিকাশে অন্তরায় হয়ে উঠেছে। যে কারণে, গত তিন দশকে কেউ আমাদের কিছু দিতে পারেনি, চালের দাম বাড়ানো ছাড়া। এই গ্রিক ট্রাজেডির কারণে, স্পষ্ট অনুভব করছি, ভবিষ্যৎ প্রজš§ আর বাংলাদেশে থাকতে উৎসাহী হবে না। আমরা গ্রিক ট্রাজেডির বলি হয়েছি স্বেচ্ছায় এ দেশে থেকে। তারা হবে কেন?
মুনতাসীর মামুন : ইতিহাসবিদ
এমন আরো কিছু পোষ্ট:
- বৃটেনের বয়স্কতম দম্পতি ঘোষণার অপেক্ষায় টারান্ট-রালফ জুটি
- 'হায় আল্লাহ, রমজানে ইহা কী শুনিলাম'
- যাত্রার অপেক্ষায় বিশ্বের বৃহত্তম প্রমোদতরি
- জিন থেরাপি বিস্ময়ের অপেক্ষায় চিকিৎসা বিজ্ঞান
- হঠাৎ জামায়াত-ঐক্যজোটের গর্জন
- এই তাহলে ওয়ান ইলেভেনের উদ্দেশ্য?
- বাণিজ্য উপদেষ্টা মিনি কিসিঞ্জার বনে গেছেন : কামাল হোসেন
- চারদিকে নির্বাচন পেছানোর জোর গুজব
- কাকে দেখতে পাই আমরা?
- আওয়ামী লীগ ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে না: সৈয়দ আশরাফুল
You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0 feed. You can leave a response, or trackback from your own site.
