রবিউল হুসাইনের গল্প : আমার সঙ্গে আমি

শোনো বন্ধু তুমি কোথায়, সেইখানে আছো তো!
না আমি ওখানে নেই, তুমি অন্য জায়গায় খোঁজ করো।
বুঝলাম, কিন্তু তুমি কোথায়।
আমি তো কোথায় থাকি না, তোমাকে খুঁজে খুঁজে বের করতে হবে আমি কোথায়। কারণ আমি আজ ঢাকায়, তো কাল কোরিয়ায় কিংবা দুবাই। এইভাবেই তো আমি আমাকে ডুবিয়ে ডুবিয়ে নিজেকে ডুবাই। কবে যে ভেসে উঠবো তা কে জানে।
কিন্তু বু, তুমি তো ঢাকা-দুবাই করে বেড়াচ্ছো। এদিকে তোমার বউ তো জিগোলো নিয়ে খুব নিত্যনতুন জীবনের ঝাঁজ নিয়ে মশগুল। সেদিকে খেয়াল রাখো। নাকি যব ছেড়ে-ছুড়ে বসে আছো।
হ্যাঁ, সব জানি আমি। শোনো, এছাড়া তো উপায়ও নেই। আমি বছরের নয় মাসই বাইরে বাইরে থাকি। বেচারা কী করবে। এতো একা ভাগ্যিস ঢাকায় এখন ভালো জিগোলো-সার্ভিস পাওয়া যায়। তা না হলে বেচারা দম ব হয়ে বোরডোমে মারা যেতো। তবুও আমি নিজেকে বুঝ দেয়ার জন্যে পার্সোনাল ডিকেটিভ একজন রেখেছি। যদ্দিন আমি দেশের বাইরে থাকবো তদ্দিন সে আমার বউয়ের দিকে কড়া নজর রাখবে এবং শেষে রিপোর্ট দেবে। কোথায় যায়, কোথায় থাকে, কতক্ষণ কার সঙ্গে থাকে, রাত কাটায় কোথায় এইসব আর কি!
কী যে বলো তুমি।
হ্যাঁ। সত্যি বলছি সব। ছেলে-মেয়েরা যে-যার মতো মানুষ হয়ে লেখাপড়া করে, বিয়ে না করে দেশে-বিদেশে ভালোই আছে। দু-তিন দিন পরপর ফোনে কথা হয়। শুধু আমাদের এই শেষ বয়সে যত্তোসব ঝামেলা। ব্যবসাও ছাড়তে পারছি না। একটু যে রেস্ট নেবো তারও উপায় নেই বরং দিন দিন আরো ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। এমন ব্যস্তই হয়ে পড়েছি যে, নেক্সট ডোর নেইবারেরও কোনো খোঁজ-খবর রাখি না। আর মরণ ছাড়া বোধহয় আর রেস্ট পাবো না।
তোমাদের মতো উঁচুতলার মানুষদেরই এই একটা সমস্যা।
ঠিকই বলেছো। উঁচু বহুতল দালানে এ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দা আমরা, সুরম্য অট্টালিকায় থাকি মেঘের কাছাকাছি। কিন্তু পাশের খবরই রাখি না। যত্তোসব কাণ্ড!
কেন কিছু হয়েছে নাকি।
আর বলো না। যিনি পাশের ফ্ল্যাটের মালিক, তিনি ছুটি কাটাতে বিদেশে গেছেন বউ-নাতি-নাতনি নিয়ে। তাদের বদলে দেখাশোনা করে তার এক ভাতিজা। সে একটা ডিবচ, ফ্ল্যাটটাকে হোর হাউজ বানিয়ে ফেলেছে। রাত বাদে সারাদিন পার্টি চলে। মিডিয়া আর ফিল্ম জগতের তাবৎ কুশীলব তার সম্মানিত খদ্দের। তবে ছেলেটা একটা এথিক্স মেনে চলে বুদ্ধিমানের মতো, সেটা হচ্ছে শুধু দিনের বেলায় করে। যাতে বেশি অসুবিধা না হয় ফ্ল্যাটের অন্যান্য বাসিন্দাদের। যদিও শোনা যায় পুলিশের বড় কর্মকর্তাদের হাত আছে, তাই নির্বিঘেí পারে এসব করতে।
আজকাল প্রায় হাইরাইজ বিল্ডিংয়ে এসব কাণ্ডকারখানা চলছে। নাগরিক জীবনের আধুনিকতার নিট রেজাল্ট বা বাই-প্রোডাক্ট তো এইসব। এটাকে তুমি উন্নতি বলবে নাকি অবনতি না অবক্ষয়।
আসলে সব ফ্ল্যাট বিশেষ করে বহুতল দালানের সব কিছু খুব গোপনীয় আর এক্সক্লুসিভ, এসব হবেই। নগর জীবনের ব্যস্ততা আর একঘেঁয়েমিতে নৈতিকতার মেকি খোলস খসে পড়ছে। এখন সবাই সব বোঝে, জানে কিন্তু প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ করে না। কারণ তারাও সেসবের এক-একজন অংশীদার। দায়ী করলে তো সবার আগে তো নিজেকেই দায়ী করতে হয়। তাই এদিকে কেউ আর পা বাড়ায় না।
তার মানে তুমি পরোক্ষে এই অসামাজিক কাজগুলোকে সমর্থন করছো তাই না।
হ্যাঁ তাই। তুমি ভালো করে দেখলে বুঝবে যে, ওইসব অসামাজিক কাজে নিয়োজিত এক একটি এ্যাপার্টমেন্ট এক-একটি ল্যাবরেটরি ফর হিউম্যান নীডস একথা তুমি অস্বীকার করতে পারো না। যেমন দেখো মোবাইল বা বায়ুফোনের ব্যপার-স্যাপার। এর জন্য সমাজে যোগাযোগ বহুলভাবে বেড়েছে এবং অবশ্যই তার একটা ইতিবাচক দিক বিবেচ্য। আবার অন্যদিকে তাকাও আমাদের মধ্যে গোপনীয়তা রক্ষা করার জন্য মিথ্যে কথা পরকীয়া প্রেমসহ যাবতীয় ভালোবাসাবাসি ভীষণভাবে বেড়ে গেছে। এই ছোট্ট যন্ত্রটির জন্য এমন কি আগের টেলিফোনের প্রথম কথা হ্যালো বলে আর কেউ সম্বোধন করে না, তার বদলে বলে আপনি কোথায়, কোথায় তুমি এইসব। হয়তো বাসায় বসে আছে, ফোন এলে বলে বসল তখন, এই তো এসে গেছি। স্বামী আর ছেলেমেয়ে অফিসে আর স্কুলে, তখন প্রেমিককে ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে এলো কোনো ভদ্রমহিলা। এইসব হরদম শহর জুড়ে চলছে। আমার বউও তাই করে। বায়ু ফোনে তার চেনা-জানা কোনো বড় লোকের ছেলে পার্টটাইম জিগোলোকে ডেকে আনে যখন তার স্বামী অর্থাৎ আমি দেশে থাকি না।
তাহলে তুমি তোমার বউ-এর এই শেষ বয়সের যাবতীয় ক্রিয়াকাণ্ড জেনে কিছু মনে করছো না। বলা যায়। ওসবে তুমি কোনো পাত্তাই দিচ্ছো না, এই তো।
শোনো বু ব্যক্তিগত চরিত্র বিষয়টি হাইলি কন্ট্রাভারশিয়াল এবং অংশত বা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়। বউকে আমি খুব ভালোবাসি তাই আমার বউয়ের ডিফেন্ড করবো বিশেষ করে তার এই শেষ বয়সের কথা চিন্তা করে। সে খুব একা। তার সময় কাটানোই সমস্যা। সে বরাবরই একটু সেক্সি, বলা যায় একজন মাঝারি গোছের নিম্ফোম্যানিয়াক। বেশ ক’বছর আগে তার মেনোপোজ হয়ে গেছে। ইউটেরাস ফেলে দিয়েছে। তবুও মানে যে-সব হিউম্যান অর্গান চরিত্রকে সাধারণত কালিমালিপ্ত করে থাকে সেগুলো তো এখন নির্জীব ও নিûিক্রয়। তাহলে প্রোবলেমটা কোথায়। এখন কেউ কারো সঙ্গে সঙ্গম করুক বা না করুক তাতে কিচ্ছু আসে যায় না।
ও এই কথা, তাহলে তুমিও তো বিদেশে গেলে একই কাণ্ড করো।
অবশ্যই, তা না করে উপায় কি। আজকাল তো খুবই সুবিধা, বিশেষ করে ব্যাংকক, হোচিমিন সিটি, হ্যানয়, হংকং, সাংহাই, নমপেন, মানে যেখানে যেখানে আমার ব্যবসা আছে সেখানে ফুলটাইম এসকর্ট সার্ভিস পাওয়া যায়। কলেজ-ভার্সিটির ইয়ং ইয়ং মেয়েদর তো পার্টটাইম লুক্রোটিভ জব তো এটাই। ইদানীং আমাদের ঢাকতেও এসবের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ আর ট্যুরিজম বাড়লে এটা তো একটা এসেনশিয়াল কমোডিটি হিসেবে চলে আসে। আসবেই, কোনো কিছুর বাধা দিয়েও এটাকে ঠেকানো যায় না, যাবেও না।
আচ্ছা, এইসবে তো তুমি আছো বেশ। আচ্ছা এখন তোমার বয়স কতো, আর কতোদিনই বেঁচে থাকবে, তার চেয়ে একটু ক্ষান্ত দিলে চলে না এখন।
আরে সেক্স তো এখন তোমার হাতের মুঠোয়। কতোকিছু যে এখন বাজারে পাওয়া যায়, তার শেষ নেই। বিশেষ করে চাইনিজ হারবালের তো তুলনা নেই। আসলে ব্যাপারটা প্যাকটিসের। না করলে কিছু যায় আসে না। কিন্তু হয়কি বহুদিনের অভ্যেস, শোয়ার সময় একজন অপোজিট সেক্সের সান্নিধ্য, þ�র্শ, জড়িয়ে ধরা, ক্যাজোলিং, হাগিং, কিসিং এবং সঙ্গম এইসব খুবই দরকার। তাতে শরীর মন-সবই সজীব আর উৎফুল্ল থাকে। জীবনে বাঁচার জন্যে এগুলো থেরাপির মতো কাজ করে। তাই আমি এই অভ্যেস থেকে দূরে থাকতে পারি না। আমি এইসবের মাধ্যমে খুব উপকার পাই। আমার বউও সব জানে। প্রথমে তো সে এই বিষয়ে খুব হেজিটেট করতো, পরে আমি বলে-কয়ে এই পথে নিয়ে এসেছি। নাউ শী ইজ ইমেন্সলি বেনিফিটেড এন্ড শী এ্যাগ্রিজ সো। তবে একটু কথা আছে এর একটা বটম লাইন আছে। আছে একটা মোটো সেটা হচ্ছে নেভার, এভার ডোন্ট ইনডালজ ইউর সেল্প টু রুইন অর ভিস্টার ইউর ডিয়ার ফ্যামিলি। ফেন্সন্ডস, সোসাইটি, কম্যুনিটি এন্ড কান্ট্রি এ্যাজ এ হোল, নেভার, এভার।
বু সবই টিক, তবে কোথায় যেন একটু কিন্তুর কাঁটা খচখচ করে মনে।
কী রকম।
এই ধরো তোমার ভেরি ফাস্টগতির জীবন-যাপন, বউ-এর চাল-চলন, তোমার নিজস্ব চিন্তাধারা, ছেলেমেয়ের বিনম্র জীবনধারণ কিংবা এই সময়ের সঙ্গে তোমার সমাজ-সংসার, দেশের সংস্কার-ঐতিহ্য ইত্যাদি মিলিয়ে দেখলে তুমি যেন এক পথহারা পথিক, অকূল সমুদ্রের এক হালভাঙা নাবিক, কোথায় তোমার গন্তব্য তুমি সেটা খুঁজে পাচ্ছো না, এরকমই মনে হয় আমার কাছে।
… … …
কী কথা বলছো না যে।
কী আর বলবো বু, তুমি তো সবই জানো। কী অবস্খা থেকে আজ আমি এই অবস্খানে পৌঁছেছি। দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলের রন্সে রন্সের অলি-গলির সব খবর আমি জানি। কোথায় কে বা কারা কেন এবং কখন কী করবে সেটাও খানিকটা আন্দাজ করতে পারি। কিন্তু নিজের বিপন্নতা-বিষণííতা-বিচ্ছিন্নতার কোনো অর্থ খুঁজে পাই না। মনে হয়, আগের দিনে সবকিছু ত্যাগ আর বিসর্জন করে যেমন নিজেকে শুদ্ধ বা বিশুদ্ধ করার চেষ্টা করতেন। তেমিনি ঠিক তার বিপরীতে আমি অঢেল সবকিছু পেয়ে নিজেকে শ�ন্য বা নি:স্ব করার চেষ্টা চালাচ্ছি। সত্যি, নিজেকে বড্ড অসহায় আর হতভাগা মনে হয়। কোনো কিছুরই অভাব নেই, তারপরেও এতো নিজেকে দুর্বল, দু:খী, নিরূপায় এক দরিদ্র ‘ভিক্ষুক’ বলে কেন যে মনে হয়, বুঝি না। হয়তো বলবে, এটা তোমার দু:খ-বিলাস। বু তাও নয়, মনের এই অবস্খা আরও অনেক ওপরে।
বু ভেরি সরি। কিছু মনে করো না। তোমার মন খারাপ করে দিতে আমার কোনো ইচ্ছা ছিলো না। শোনো, আমারো তো তোমার মতো অবস্খা। তুমি যেমন সবকিছু পেয়ে কিছুই পাচ্ছো না, আর আমি কিছুই না পেয়ে কিছুই পাচ্ছি না। আসলে দুটো ব্যাপারই এক এবং অভিন্ন। একটার অবস্খান শুরুতে আর একটার একেবারে শেষে বিষয়টি কিন্তু একই, অবস্খান ও পরিস্খিতি শুধু ভিন্ন ভিন্ন।
সবই বুঝলাম, তাহলে পরিশেষে কী অবস্খা দাঁড়াবে। আমরা কী এই অদ্ভুত অবস্খা থেকে পরিত্রাণ পাবো। নাকি তার সঙ্গে মিলেমিশে একীভ�ত হয়ে যাবো। মানুষ সত্যি এতো অসহায় আর কলুর বলদের মতো, তার কিছুই করার নেই। যে দ্রুত ধাবিত হচ্ছে চরম পরিণতির দিকে। জন্ম থেকে মৃত্যুর রহস্যময় সুড়ঙ্গপথে যেখানে হঠাৎ পথ থেমে গেছে, ওপারে যাওয়ার আর কোনো পথ নেই। তারপর সব অকার। এক অকার থেকে যাত্রা শুরু, আর এক অকারের মুখে যাত্রা শেষ। জীবন একটি ওয়ান ওয়ে ট্রাফিক, যেখানে সে ছাড়া কোনো ট্রাফিক পুলিশ নেই। মানুষে মানুষে এত মিলমিশ ওপর থেকে মনে হয়, কিন্তু সবাই সবাইয়ের কাছ থেকে আলাদা আর এতো পৃথক, যেন মনে হয় মানুষ মানুষের বেশে অন্য কোনো জীবের আদলে এক প্রতিচ্ছায়ায় অস্তিত্বে কোনো অশরীরী প্রতিভ�।
কিন্তু এক জায়গায় খুব মিল খুঁজে পাবে। সেটা হচ্ছে তাদের দু:খ, হতাশা, রোগ-শোক, একে অন্যের দ্বারা অবিচার, অনাচার, অত্যাচার, প্রতিশোধ, খুন-ধর্ষণ, আক্রমণ, দুর্ব্যবহার, অসম্মান, অপমান-কতো আর বলবো। মানুষে মানুষে যদি এতোই সদ্ভাব, শান্তি আর সহমর্মিতা বজায় থাকে, তাহলে দেশে-দেশে, সমাজে-সমাজে, গোত্রে-গোত্রে এতো অমিল, অশান্তি, মারামারি, কাটাকাটি চলছে কেনো। মধ্যযুগ, রাজতন্ত্র, সামন্ততন্ত্র সামরিকতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র সবকিছুই তো পার হয়ে এসেছি। তাহলে অধুনা আবিষ্কৃত যাবতীয় রাজনৈতিক সমস্যার সার্বিক সমাধানযোগ্য মানবিক উপায় আমাদের এই গণতন্ত্রের মধ্যেও উল্লিখিত মন্দাভ্যাসগুলো কেনো এখনো বিলুপ্ত হলো না বা হচ্ছে না। পৃথিবীর মানুষ তো বহুদূর এগিয়েছে।
এই প্রশ্নের উত্তর কোনোদিনই তুমি খুঁজে পাবে না। সবই প্রকৃতির মর্জি আর লীলাখেলা। সবকিছুই এতো অনিশ্চিত আর দৈবনির্ভর যে মানুষ এখানে ইঁদুর, বাঁদর, খরগোশ কিংবা গিনিপিগ। বু শোনো, মনে হয় আমরা বেশ খানিক মরবিড হয়ে পড়েছি, তার সঙ্গে ফ্যাটালিস্ট আর পেসিমিস্ট। জানি, যা হবার তো হবেই, কিচ্ছু করা যাবে না। তার চেয়ে এমন কিছু বলো যে জীবনের মনটা চাঙ্গা হয়ে আবার দু’পায়ে দাঁড়িয়ে যায়।
আচ্ছা তা হলে শোনো। তুমি তো মেয়ে বা নারী বিষয়ে সবচেয়ে অবিজ্ঞ। জানো, জন্তু-জানোয়ার, বৃক্ষ, কীট-পতঙ্গ, মাছ-পাখি এসবের চেয়েও সবচেয়ে নির্যাতিত, নিûে�ষিত এবং অত্যাচারিত গোষ্ঠী পৃথিবীতে প্রাগৈতিহাসিককাল থেকে এখন পযন্ত� কারা?
কেন কারা?
নারীজাতি।
তাই।
হ্যাঁ তাই, একটু ভেবে দেখো গভীরভাবে। যদিয়ো তাদেরকে বাঁচিয়ে দিয়েছে তাদের প্রকৃতিদত্ত শারীরিক ক্ষমতা, যেটা হচ্ছে সন্তান প্রসব করার সৃষ্টিশীলতা অর্থাৎ মা হওয়ার দুর্লভ এক সম্মানজনক আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা।
তার চেয়েও মজার খবর এই যে, তারা শারীরিক দিক দিয়ে পুরুষদের তুলনায় অনেক শক্তিশালী। যেহেতু সন্তান ধারণ ও জন্ম দেয়ার ক্ষমতা রাখে। যে-কোনোভাবে যদি পুরুষদের দেহে সন্তান-জন্মের প্রক্রিয়া কাল্পনিকভাবে বিভাজিত করা হয়। তাহলে তাদের জীবন বিপন্ন হতে বাধ্য, তারা এতোই দুর্বল। এছাড়া পুরুষদের চেয়ে তারা অনেক ভাগ্যবতী বিশেষ করে সেক্সের বিবেচনায়, যেমন একটি সঙ্গমেরকালে একজন পুরুষ তার অর্গাজম বা শীর্ষ আনন্দ একবারই পেতে পারে, কিন্তু পরিস্খিতির আনুকূল্যে একজন নারী একাধিক অর্গাজম অর্জন করতে পারে।
আসলে দু:খ-দুর্দশা ছাড়া নারী-পুরুষে কিংবা মানুষে মানুষে কোনো মিল নেই। তুমি ঠিকই বলছো। তোমার সঙ্গে আমি আরো সংবাদ দিতে চাই। প্রকৃতির দ্বারা মানুষ সৃষ্টিতে বেশ কয়েকটি ঘাটতি দেখা যায় যা খুব প্রনিধানযোগ্য যেমন সার্বিকভাবে মানুষের মাথার সামনে ওপরের দিকে দুটি চোখ দেয়া আছে, কেন ওখানে দটো না দিয়ে একটা পেছনে দিলেই তো হতো। তাই না। তাহলে সৃষ্টিটা সম্পূর্ণ হতো। আর একটা ইম্পরট্যান্ট পয়েন্ট বলা যায়। সেটা হচ্ছে প্রেগন্যান্টের বিষয়। মেয়েরা প্রেগন্যান্ট হয়ে যদি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়, কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু তার গর্ভ থেকে পুত্র সন্তানের যদি জন্ম হয়, তাহলে সঠিক হবে না যেহেতু প্রকৃত ডিজাইন অনুযায়ী নারীর গর্ভ থেকে মেয়ের জন্ম হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু পুত্র বা ছেলে কীভাবে একজন মেয়ের গর্ভ থেকে জন্মলাভ করবে, ডিজাইনে তো তা হতে পারে না। এমতাবস্খায় এমন একটা উপায় হওয়া দরকার যাতে ছেলেরাও প্রেগন্যান্ট হতে পারে, তখন পুরুষের গর্ভ থেকে একটি পুত্র ভ�মিষ্ঠ হবে এটাই অতীব স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং তাই হওয়া উচিত, তাই না। এটাকেই তাই বলে ফিন্সকল অব নেচার। আমার মনে হয় ভবিষ্যতের জিনেটিক্স ইঞ্জিনিয়াররা আমার এই ক্ষুদ্র চিন্তাকে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারবে বৃহৎভাবে।
আমিও সেই আশা করি। আচ্ছা, সব তো হলো, এখন কোথায় তুমি
আমি, এই তো তোমার ঠিক পেছনে।
বলো কী, আমার পেছনে।
হ্যাঁ ভাই তাই, এই দেখো।
… … …
কী দ্যাখো, এই তো আমি
আরে, আশ্চর্য, এতো আমিই তাহলে, তুমি কোথায়, কোথায় তুমি?

number of view: 1030
  • Print
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Google Bookmarks
  • email
  • LinkedIn
  • Twitter

এমন আরো কিছু পোষ্ট:

  1. সেলিনা হোসেনের গল্প : মেলায় যাওয়া
  2. তুমি আমার পর
  3. জায়া, জননী এবং রানীর গল্প
  4. তুমিই শুধু তুমি
  5. ব্রাজিলের গল্প
  6. আমার মা কোথায়
  7. জোট নেতার সঙ্গে করমর্দন যদি পাপ হয় জোট নেত্রীর সঙ্গে বৈঠক কি মহাপাপ হবে না?
  8. দুটি গল্প ও বাস্তবতা
  9. আমার কবি রফিক আজাদ : ইমদাদুল হক মিলন
  10. সালমান রুশদীর গল্প : স্বপ্নের আসন

You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0 feed. You can leave a response, or trackback from your own site.

Leave a Reply

XHTML: You can use these tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>