জামায়াতের গঠনতন সংবিধানবিরোধী, সংশোধন না করলে নিবন্ধন পাবে না

জামায়াতের গঠনতন সংবিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের পরিপন্থী৷ তাদের গঠনতনে দেশের সংবিধানের প্রতি কোনো ধরনের আনুগত্য প্রকাশ করা হয়নি৷ তাই নবম সংসদ নির্বাচনের আগে নিবন্ধন পেতে হলে জামায়াতকে অবশ্যই গঠনতন সংশোধন করতে হবে৷ সংশোধনী না আনলে নির্বাচন কমিশনও (ইসি) জামায়াতকে নিবন্ধন না দেওয়ার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান নিয়েছে৷ জামায়াতের গঠনতন সমঙ্র্কে নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন সমকালকে বলেন, ‘ইসি মনে করে দেশের সংবিধান এবং বিদ্যমান নির্বাচনী আইন অনুযায়ী নিবন্ধন পেতে হলে জামায়াতকে গঠনতন সংশোধন করতে হবে৷ এখন দলটি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে৷ সুতরাং আদালত যে রায় দেবেন আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব৷ ‘একই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সংবিধানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ না করলে কোনো দলকেই নিবন্ধন দেওয়া হবে না৷ স্বাধীন গণতানিক দেশে রাজনীতি করবে, দেশের কাছ থেকে সুবিধাও নেবে অথচ দেশের সংবিধানের প্রতি ন ্যনতম আনুগত্য দেখাবে না_ এটা হতে পারে না৷’ ১৯৭২ সালে প্রণীত সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছিল, ‘জনশৃখলা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপে েসমিতি বা সংঘ গঠন করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে৷ তবে শর্ত থাকে যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসমঙ্ন্ন বা পানুসারী কোনো সামঙ্্রদায়িক সমিতি বা সংঘ কিংবা অনুরূপ উদ্দেশ্যসমঙ্ন্ন বা ল্যানুসারী ধর্মীয় নামযুক্ত বা ধর্মভিত্তিক অন্য কোনো সমিতি বা সংঘ গঠন করার বা তার সদস্য হওয়ার বা অন্য কোনো প্রকারে তার তত্‍পরতায় অংশ গ্রহণ করার অধিকার কোনো ব্যক্তির থাকবে না৷’ ১৯৭৮ সালে সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সংবিধানের এ বিধানটি সংশোধন করে ধর্মের ভিত্তিতে সংগঠন করার অধিকার দেওয়া হয়৷ কিন্তু তত্‍কালীন সরকার ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকে উত্‍সাহ দেওয়ার জন্য সংবিধান সংশোধন করলেও ১৯৭৪ সালের বিশেষ মতা আইনে সংশোধনী আনেনি৷ ওই আইনের ২০ ধারায় বলা হয়েছে, ‘ধর্মের ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোনো সংগঠন করা যাবে না৷’ আইনটি এখনো বিদ্যমান রয়েছে৷ এ আইনের ওপর ভিত্তি করেই ইসির আইন সংশোধন বিষয়ক সংলাপে অংশগ্রহণকারী ১৬টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ১৩টি দলই জামায়াতকে নিবন্ধন না দেওয়ার আহ্বান জানায়৷ দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেই ইসি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে সংশোধনী আনে৷ এ আইনের ১২ ধারায় বলা হয়েছে, জাতীয় ও আনর্জাতিক আদালত কতর্ৃক যুদ্ধাপরাধী হিসেবে কেউ দণ্ডিত হলে সে ব্যক্তি নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য হবেন৷ সমঙ্্রতি ইসি জানিয়েছে, নবম সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন কাজ ৩১ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করা হবে৷ সেজন্য দলগুলোকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে আবেদন করতে হবে৷ এ পর্যায়ে এসে ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, ‘ধর্মভিত্তিক নয়_ এমন দলগুলোর গঠনতনের সঙ্গে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের বিরোধ থাকলেও সংবিধানের সঙ্গে বিরোধ নেই৷ কিন্তু জামায়াতের গঠনতনের সঙ্গে সংবিধানের বিরোধ রয়েছে৷ এ অবস্থায় জামায়াতসহ অন্য ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে নিবন্ধন দেওয়া হলে ইসিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের প্রবল প্রতিবাদ এবং আপত্তির মুখে পড়তে হবে৷ একই সঙ্গে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়তে হতে পারে৷ কারণ সংবিধান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও বিশেষ মতা আইন ১৯৭৪ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জামায়াত ও ইসলামী ঐক্যজোটসহ অন্যান্য ধর্মভিত্তিক দল নিবন্ধন পাওয়ার যোগ্য নয়৷

খবরটি পড়েছেন :302
  • Print
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Google Bookmarks
  • email
  • LinkedIn
  • Twitter
  • Add to favorites
  • StumbleUpon
  • PDF

এমন আরো কিছু পোষ্ট:

  1. অনেক ছাড় দিয়েছি, আর সম্ভব নয়: সিইসি
  2. ১০০ বছর পর ভুল সংশোধন
  3. প্রার্থী হবেন না দুই নেত্রী!
  4. পানির বদলে চা-কফি পান করলে কি চলে?
  5. ৪৮ বছর পর ভুল সংশোধন
  6. পুরুষরা সংসারের কাজ করলে বিচ্ছেদের ঝুঁকি কমে
  7. কম আয় করলে পুরুষরা প্রবঞ্চক হয় বেশি
  8. ঘরের কাজে সময় ব্যয় করলে যৌন জীবন মধুর হবে
  9. ঝগড়া করলে আয়ু বাড়ে!
  10. বাতাসে বিপদের গন্ধ পাবে নাক

You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0 feed. You can leave a response, or trackback from your own site.

Leave a Reply

XHTML: You can use these tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>