সহস্র পুঁথি ডিজিটালে সংরক্ষণ
বাংলা একাডেমীর সংগৃহীত হাতে লেখা কয়েক হাজার পুঁথি জরাজীর্ণ অবস্থা থেকে রক্ষা করতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ জানান, বাংলা একাডেমীর সংগ্রহে কয়েক হাজার হাতে লেখা পুঁথি রয়েছে। এ পুঁথিগুলোর অধিকাংশই ত্রয়োদশ, চতুর্দশ, পঞ্চদশ, ষোড়শ, সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দীতে রচিত। পরবর্তী শতাব্দীতে রচিত বহু পুঁথিও আছে। এই দুপ্রাপ্য পুঁথিগুলো যথাযথ সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
তিনি বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই সংরক্ষণ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এর জন্য যে যন্ত্রপাতি দরকার, তা একাডেমীর নেই।
এ ব্যাপারে জাপান সরকারের সঙ্গে একাডেমীর আলোচনা চলছে। জাপান সরকার প্রায় দুই কোটি টাকার যন্ত্রপাতি প্রদান করার ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। ইতিমধ্যে জাপানি দূতাবাস এবং টোকিও থেকে আসা জাপান সরকারের দুই প্রতিনিধি একাডেমীর পুঁথিশালা পরিদর্শন করেছেন। এসব পুঁথি ফোকলোর বিভাগে সংশ্লিষ্ট মৌখিক সাহিত্যের উপকরণ এবং গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত দুপ্রাপ্য গ্রন্থগুলো রয়েছে বলে একাডেমীর মহাপরিচালক জানান।
তিনি আরো জানান, বাংলাদেশের এ অঞ্চলে মুদ্রণযন্ত্র প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত পুঁথির বেশ কদর ছিল। এ সময়কালে শাস্ত্রবিদ, বৈয়াকরণিক, চিকিৎসক, কবি-সাহিত্যিক সকলেই তাদের রচনা হাতে লিখে রাখতেন। এভাবে সকল প্রকার হাজার হাজার গ্রন্থ নকল হয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তো। সেকালে স্বল্প শিক্ষিত অসংখ্য মানুষ, যাদের হাতের লেখা সুন্দর, তারা পুুঁথি নকলকে জীবিকা নির্বাহের উপায় হিসেবে গ্রহণ করতেন।
এমন আরো কিছু পোষ্ট:
You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0 feed. You can leave a response, or trackback from your own site.
