ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের প্রস্তাব: প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

আবুল কালাম মনজুর মোরশেদ
দেশে রাজনৈতিক দলের সমঝোতার ভিত্তিতে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হওয়া শুধু বাঞ্ছনীয় নয়, দেশবাসীর আন্তরিক কামনা। দুই নেত্রীর বৈঠকের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ আগ্রহী না হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের একটি বৈঠকে বসার আবহাওয়া স্পষ্ট হয়ে উঠতে শুরু করেছে। বাংলাদেশে অবস্থানকারী বিদেশি কূটনীতিবিদরা বৈঠকের পক্ষে মত প্রকাশ করে নেপথ্যে কাজ করা শুরু করেছেন। বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনৈতিক দিক থেকেই নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও বহিরাগত শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, এ কথা দিন দিন স্পষ্টতর হয়ে উঠেছে। সেজন্য রাজনৈতিক দল না চাইলেও শেষ পর্যন্ত দুই নেত্রীর একত্র বৈঠকের সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেয়া যায় না এবং আওয়ামী লীগ নেত্রী দেশে ফেরার পরই এ দিক চূড়ান্ত রূপ নেবে বলে আশা করা যায়।

সম্প্রতি দেশের খ্যাতিমান আইনজ্ঞ ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের একটি বক্তব্য সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তিনি আগামী নির্বাচন, রাজনৈতিক সরকার গঠন সম্পর্কে দুর্নীতিমুক্ত সরকার ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে সহনশীলতাসহ সুসম্পর্কের ওপর মন্তব্য প্রকাশ করেন। এক্ষেত্রে সন্দেহের অবকাশ কম যে, দেশে একটি আদর্শিক ও নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া দেশীয় রাজনীতি ও দেশের উন্নয়ন কোনোক্রমেই সম্ভব নয়। সরকারি দলের সঙ্গে বিরোধী দলের সুসম্পর্ক ছাড়া সুষ্ঠুভাবে দেশ পরিচালনা সম্ভব নয়। বিগত পনেরো বছরেরও বেশি সময়ে একটি রাজনৈতিক দল সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর বিরোধী রাজনৈতিক দল সরকারের পাশে না থেকে রাজপথে আন্দোলন ও সংসদ বর্জনের যে দৃষ্টান্ত রেখেছিলেন তা দেশবাসীকে যেমন সন্তুষ্ট করতে পারেনি, তেমনি দেশে একটি সংহত গণতান্ত্রিক পরিবেশও সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়নি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছেছিল যা দেখে মনে হয়েছিল দুই দেশের সম্রাট পরস্পর যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে দেশ জয় ছাড়া আর অন্য কোনো চিন্তা প্রাধান্য দিতে চাননি। ফলে প্রজাদের জীবনে নেমে এসেছিল অনিশ্চয়তা আর বিপর্যয়। কলিঙ্গ যুদ্ধে হতাহতের সংখ্যা দেখে সম্রাট অশোক আর যুদ্ধ করবেন না বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। বাংলাদেশেও সেই সময় এসেছে । রাজনৈতিক দলগুলো দেশের অবস্থা দেখে সংঘাতের পরিবর্তে শান্তির দিকে অগ্রসর হলে এবং এ দেশের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশে পরিণত করা সম্ভব।
দেশের প্রাজ্ঞ আইনজ্ঞ ব্যারিস্টার রফিক-উল হক দেশের শান্তির জন্য সেই বাণী নিয়েই অগ্রসর হয়েছেন। তিনি মনে করেন, দেশের অশান্ত রাজনীতিতে একটা স্থিতাবস্থা সৃষ্টি করার প্রয়োজনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলের নেত্রীদ্বয়ের একত্রে মিলিত হয়ে দৈশিক সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসা জরুরি। এক্ষেত্রে তিনি দুই নেত্রীর সঙ্গে আলাপ করে বৈঠকের ব্যবস্থা করতেও ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তার সদিচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো মত প্রকাশের কারণ অনুপস্থিত। তিনি দেশ ও দেশবাসীর মঙ্গল চিন্তা করে রাজনীতিতে একটা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দিক চিন্তা করেই এ মত প্রকাশ করেন। তার মত প্রকাশের ক্ষেত্রে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ক্রিয়াশীল। আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া কারাবন্দি অবস্থায় যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রশাসন থেকে আনীত বিভিন্ন মামলার সম্মুখীন হয়েছিলেন তখন দেশের এ প্রবীণ ব্যারিস্টারই তাদের পক্ষ অবলম্বন করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে তাদের জামিনে মুক্ত করে বাইরে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন। এদিক থেকে তার প্রতি দুই নেত্রীরই শ্রদ্ধাবোধ থাকা স্বাভাবিক।
ব্যারিস্টার হকের মন্তব্যের পর দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনীতিবিদ, বিজ্ঞজনসহ আওয়ামী লীগও বিভিন্ন মতপ্রকাশ করেছে। প্রদত্ত প্রতিক্রিয়ার বাইরে প্রথমে যে দিকটি বিবেচ্য তা হলো ব্যারিস্টার হকের আহ্বানে দুই দলের নেত্রী সাড়া দেবেন কি-না? সাড়া না দিলে এক্ষেত্রে দুঃখিত হওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই। এখানে দুই নেত্রীর বৈঠক প্রসঙ্গে একাধিক মত প্রকাশিত হয়েছে। প্রথমেই যে প্রশ্নটি উত্থাপিত হয়েছে, তা হলোÑ দুই নেত্রীর বৈঠকের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে। একটি ক্ষেত্রে নিরপেক্ষভাবে চিন্তা করা প্রয়োজন, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার ক্ষেত্রে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক সমঝোতার প্রয়োজন। কারণ, পনের বছর ধরে দেশে দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সাপ-বেজির মতো যে সম্পর্ক তা কোনোমতেই কাম্য নয়। একটি রাজনৈতিক দল সরকার গঠনের পর অন্য রাজনৈতিক দলের সংগ্রামী আচরণ দেশীয় প্রবৃদ্ধি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোনোক্রমেই সহায়ক নয়। রাজনৈতিক দলের মধ্যে সহনশীলতার অভাব দেখা দিলে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি হবে এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।
দুটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী একত্রিত হয়ে বন্ধুভাবাপন্ন মন নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে দেশের সার্বিক সঙ্কট দূরীকরণে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম। আলোচনার বিষয়ের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে যে দিকগুলো প্রাধান্য পাবে তা হলো : সাধারণ নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচন, নির্বাচনে জয়-পরাজয় মান্যকরণ, জয়ী রাজনৈতিক দলকে পাঁচ বছরের জন্য গ্রহণ ও সমর্থন দান, বিরোধী দলের অধিকার নিশ্চিতকরণ, হরতাল ও ধর্মঘটের পথ পরিত্যাগ। এছাড়াও একাধিক বিষয় আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
ব্যারিস্টার হক দুই নেত্রীর বৈঠক সম্পর্কে মত প্রকাশের পর ইতিমধ্যেই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এর বিরূপ সমালোচনা প্রকাশিত হয়েছে। তারা বৈঠক অনুষ্ঠানের আগে বিএনপি নেত্রীর পক্ষ থেকে তার দলের দুর্নীতির ব্যাপারে ক্ষমাপ্রার্থনার দিক উত্থাপন করেছেন এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে বৈঠকের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন দিক উত্থাপন করে। এ থেকে আপাতত একটি দিক স্পষ্ট হয়েছে, আওয়ামী লীগ এ শ্রেণীর আলোচনা বৈঠকের পক্ষে নয়। আওয়ামী লীগ নেতাদের পক্ষ থেকে বৈঠকের ক্ষেত্রে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশিত হলেও আওয়ামী লীগ নেত্রীর পক্ষ থেকে এখনো তার মনোভাব জানা যায়নি। সম্ভবত তিনিও দলের নেতাদের মতো সমশ্রেণীর মত প্রকাশ করতে পারেন।
দুই দলের নেত্রীর বৈঠকের ক্ষেত্রে অনেক রাজনীতিবিদের ধারণা, বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাদের মাধ্যমে নিজেদের সরকারের বৈধতা স্বীকার করিয়ে নিতে পারেন। কারণ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার তিন মাস ক্ষমতাসীন থাকার কথা থাকলেও এর মেয়াদ এক বছরের অনেক বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া সংবিধানবিরোধী কাজসহ স্থিতিকাল সংশোধনের জন্য প্রয়োজন সংসদের অধিবেশন ও অনুচ্ছেদ সংশোধন। এ দিকটি অমূলক হতেও পারে বা না-ও হতে পারে। তবে দুই নেত্রীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংসদীয় সংশোধনী করে নিতে পারবেন কি-না তা একটি দিকের ওপর নির্ভরশীল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুই নেত্রীকে কারাগারের বাইরে আনার আগে তাদের সঙ্গে আলাপ করে শর্তারোপ করেছিলেন বলে অনেকে ধারণা করেন। এ ধারণা যদি প্রকৃত হয় তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষ থেকে দুই নেত্রীর মাধ্যমে কিছু সংশোধনী করা অসম্ভব হবে বলে মনে করার যথার্থ কারণ অনুপস্থিত। কারণ, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আবার বন্দিজীবনে ফিরে যেতে হবে অথবা জামিন বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও অন্তরায় সৃষ্টি হতে পারে।
আওয়ামী লীগের ইতিমধ্যেই খানিকটা হতাশাগ্রস্ত হওয়া স্বাভাবিক। কারণ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা অধিগ্রহণের পর চারদলীয় জোটের আমলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগকৃত ব্যক্তিদের অপসারণ করে সেখানে আওয়ামী লীগের পক্ষের লোকদের নিয়োগদান করতে থাকেন এবং প্রশাসনেও অনেক পরিবর্তন আনেন। বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দুর্নীতি দমন কমিশন চারদলীয় জোটের পরিচিত নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে কারাবন্দি করতে শুরু করেন। আওয়ামী লীগের যে কয়জন নেতাকে দুর্নীতির অভিযোগে কারাবরণ করতে হয় চার জোটের নেতাদের সংখ্যায় তা খুবই স্বল্পতর। এ পর্যায়ে আগামী নির্বাচনে বিএনপি তথা চারদলীয় জোটের পক্ষে পরাজয় নিশ্চিত জেনে আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলও আনন্দিত হতে থাকে স্বাভাবিক কারণেই।
বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার আওয়ামী লীগের নেত্রীসহ কয়েকজন নেতাকে জামিনে জেলমুক্তির পর আওয়ামী লীগে খানিকটা স্বস্তি সৃষ্টি হলেও তা অল্প দিনের মধ্যেই অস্বস্তিতে পরিণত হয়, বিএনপিসহ চারদলীয় জোটের নেতাদের একে একে জামিন নিয়ে বাইরে আসার পর। পরবর্তীকালে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ও তার দুই পুত্রকে জামিনে মুক্তি দেয়ার পর দেশের রাজনীতির গতি দ্রুত পরিবর্তিত হয়ে যায়। চারদলীয় নেতাদের একে একে দুর্নীতির অভিযোগে কারাবন্দির পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল স্বাভাবিকভাবে মনে করেছিল, আগামী নির্বাচনে বিএনপি তথা চারদলীয় জোটের পক্ষে আগামী সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে কোনোক্রমেই সরকার গঠন করা সম্ভব হবে না। এর ফলে তাদের মধ্যে আগামী নির্বাচন ও সরকার গঠনে একটা বিপুল প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রতি আওয়ামী লীগের আরেকটি ক্ষোভের কারণ, কারামুক্তির পর চিকিৎসার প্রয়োজনে দলনেত্রীকে দেশ ত্যাগ করে বিদেশে অবস্থান করতে হয়। অন্য ক্ষেত্রে বিএনপি নেত্রীকে কারামুক্তির পর দেশত্যাগ করতে হয়নি এবং দেশে থেকেই দল পরিচালনায় অগ্রসর হয়েছেন। বিএনপি নেত্রী কারাবন্দি থাকার সময় বিএনপিতে সংস্কারপন্থী নামে পরিচিত রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী ও মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া ও আশরাফ হোসেনকে নেত্রীর সঙ্গে দলীয় প্রধানদের প্রধান বৈঠকেই তাদের দল থেকে নির্বাসিত করে সাধারণ সদস্যপদও বাতিল করা হয়। এ দুজন নেতার সঙ্গে আরো অনেক নেতা জড়িত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি কেনÑ এর উত্তর দিতে অক্ষম দলের নেত্রী ও দলের নেতারা। এক্ষেত্রে বাইরে থেকে তিনটি অনুমান করা যেতে পারেÑ দলীয় নেত্রী কারাবন্দি থাকার সময় দলের মহাসচিব হিসেবে খালেদা জিয়া ও তার দুই পুত্রের মুক্তির সপক্ষে কোনো মন্তব্য প্রকাশ করেননি, দলীয় সংস্কার অনেকের জন্য গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়নি বলে দলে একটা বিভাজন সৃষ্টি হয় এবং দলের বর্তমান নেতারা দলে নিজেদের প্রতিষ্ঠায় তাকে দলে প্রত্যাবর্তনে অনিচ্ছুক। দুজন দলের পরিচিত রাজনীতিবিদকে দল থেকে বহিষ্কারে ক্ষতি হবে না, এ কথা মনে করা প্রকৃত নয়। কারণ, এর আগেও দলের প্রাচীনতম নেতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী দল থেকে বের হয়ে অন্য একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেনÑ এ দল যতো দুর্বলই হোক না কেন দলের পক্ষে কল্যাণ বয়ে নিয়ে আসেনি।
দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের নেত্রীদ্বয়ের বৈঠকের আগেই আওয়ামী লীগ ও তার জোট সদস্যদের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগ বর্তমানে দলীয় নেত্রীর সার্বক্ষণিক জামিনের দাবি করেছেন, অন্যথায় আন্দোলনে যাওয়ার দিকও ঘোষিত হয়েছে। কাউকে জামিন দেয়া বা না দেয়া কোর্টের এখতিয়ারভুক্ত। সরকার ইচ্ছা করলে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার জামিনের জন্য ব্যবস্থা করতে পারেনÑ দলীয় নেতাদের দাবির মধ্য থেকে সেই দিকই প্রকাশিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ আন্দোলনের যে ঘোষণা দিয়েছে এবং বিএনপিও ইতিমধ্যে প্রতিবাদের যে পথ বেছে নিয়েছিল তা দেখে আগেকার রাজনৈতিক অবস্থার চিত্রই তুলে ধরে। দেশে বিশেষ আইন প্রচলিত থাকলেও রাজনৈতিক প্রতিবাদ ও আন্দোলনের যে চিত্র পাওয়া যায় তা আগামী দিনে বিশেষ আইন প্রত্যাহারের পর কোনো রূপ নেবে না তা কারুর অজ্ঞাত নয়। এখানে যে প্রশ্নটি গুরুত্বের অধিকারী তা হলো : এ দেশে কি তাহলে রাজনৈতিক অসন্তোষের প্রবাহ কোনোদিনই স্তিমিত হবে না? এ দিকটি দেশের রাজনীতি ও দেশের সার্বিক উন্নয়নের পরিপন্থী।
দেশে রাজনৈতিক দলের সমঝোতার ভিত্তিতে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হওয়া শুধু বাঞ্ছনীয় নয়, দেশবাসীর আন্তরিক কামনা। দুই নেত্রীর বৈঠকের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ আগ্রহী না হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের একটি বৈঠকে বসার আবহাওয়া স্পষ্ট হয়ে উঠতে শুরু করেছে। বাংলাদেশে অবস্থানকারী বিদেশি কূটনীতিবিদরা বৈঠকের পক্ষে মত প্রকাশ করে নেপথ্যে কাজ করা শুরু করেছেন। বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনৈতিক দিক থেকেই নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও বহিরাগত শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, এ কথা দিন দিন স্পষ্টতর হয়ে উঠেছে। সেজন্য রাজনৈতিক দল না চাইলেও শেষ পর্যন্ত দুই নেত্রীর একত্র বৈঠকের সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেয়া যায় না এবং আওয়ামী লীগ নেত্রী দেশে ফেরার পরই এ দিক চূড়ান্ত রূপ নেবে বলে আশা করা যায়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সঙ্কট বিগত এক বছরের বেশি যে অবস্থার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে তা থেকে উত্তরণের পথ একটাইÑ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালনা। আর এ দিক নিশ্চয়তার জন্য প্রয়োজন দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপনের মধ্য দিয়ে দেশের একটি স্থায়ী রাজনৈতিক আদর্শ গড়ে তোলা। নিজেরা শক্ত অবস্থানে থাকলে যে কোনো অনধিকার প্রবেশ প্রতিহত করা সম্ভব হবে।

ড. আবুল কালাম মনজুর মোরশেদ: সাহিত্যিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর।

খবরটি পড়েছেন :312
  • Print
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Google Bookmarks
  • email
  • LinkedIn
  • Twitter
  • Add to favorites
  • StumbleUpon
  • PDF

এমন আরো কিছু পোষ্ট:

  1. ব্যারিস্টার রফিকের ‘সাহসী’ প্রস্তাব প্রশ্নবিদ্ধ হলো কেন
  2. সরকারের পলিসিকে স্ববিরোধী বললেন ব্যারিস্টার রফিক
  3. জাতিসংঘ প্রতিনিধির বক্তব্য আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী – ব্যারিস্টার রফিক-উল হক
  4. এক সঙ্গে মিলে আমরা অবশ্যই কিছু করতে পারি
  5. একটি নতুন রাজনৈতিক দল এবং কিছু পুরনো প্রশ্ন
  6. আজো কেন ক্ষুদিরাম প্রাসঙ্গিক?
  7. ১৫ আগস্টের হত্যাকা-: কিছু প্রশ্ন
  8. শামসুর রাহমানের প্রতি দায়িত্ব:একটি প্রস্তাব
  9. সৈয়দ শামসুল হকের রাজনৈতিক কবিতা
  10. জোট নেতার সঙ্গে করমর্দন যদি পাপ হয় জোট নেত্রীর সঙ্গে বৈঠক কি মহাপাপ হবে না?

You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0 feed. You can leave a response, or trackback from your own site.

Leave a Reply

XHTML: You can use these tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>