সৈয়দ শামসুল হকের রাজনৈতিক কবিতা
সাগর জামান
অস্থিতিশীল রাজনীতি, টানাপড়েন, অশুভতার ইঙ্গিত যখন দেশের অগ্রগতিকে ব্যাহত করে, গণতন্ত্রের কণ্ঠকে মূক করে দেয়া হয় তখন সৈয়দ শামসুল হকের কবিতা প্রতিবাদে প্রকম্পিত হয় দিগন্ত থেকে দিগন্ত। জাতীয় স্বার্থে যে ক’জন কবি দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখেছেন তাদের মধ্যে সৈয়দ হক অন্যতম। যে কোনো সঙ্কটময় পরিস্থিতি মোকাবেলায় তিনি কবিতা দিয়ে উত্তরণের পথ খুঁজেছেন। আবার দুর্যোগপূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থার পূর্বাভাস তিনি তার কবিতায় উল্লেখ করেছেন।
সৈয়দ শামসুল হক পঞ্চাশ দশকের খ্যাতিমান কবি। আন্দোলনের কারণে এ দশক আমাদের চেতনার আগুনে দীপ্ত। রাজনৈতিক চেতনার দ্রোহ নিয়ে এ দশকে সৈয়দ হকের অভিষেক ঘটে। আমাদের জাতীয় জীবনে বিভিন্ন লড়াই সংগ্রামে সৈয়দ শামসুল হক কবিতার উচ্চারণে লড়াকু ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তার গদ্যের ভুবন বেশ মজবুত হলেও তার কবিতার মেজাজ হালকা নয়। রাজনৈতিক চেতনায় আবিষ্ট দীপ্ত উচ্চারণে তার কবিতার কণ্ঠ উচ্চকিত। তার রাজনৈতিক কবিতায় স্বদেশের মুখ সমকালের চেহারা বারবার প্রতিফলিত হয়। তিনি ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশকে দেখে আহত-বিক্ষুব্ধ হন, ভুল পথে স্বদেশের যাত্রা তাকে ভাবিয়ে তোলে। তার সংক্ষুব্ধ উচ্চারণ :
ফিরে এসো বাংলাদেশ
কোথায় যাচ্ছ তুমি ধেই ধেল্ল করে
পাইকপাড়ার দিকে টুপি এঁটে
সারিন্দায় পল্লী ধুন তুলে
যেন সঙ্গে আছে
হাজার বছর।
ফিরে এসো বাংলাদেশ
ফিরে এসো
লোহিত্য নদের কিনারে
ফিরে এসো বুক রঙ্গী মাছের সংসারে
লাল শাদা শাপলার
কচুরির বেগনি জাজিমে
আমাদের রাজনীতির বিভিন্ন প্রেক্ষাপট ও নানা গৌরবগাথা তিনি সগৌরবে কবিতায় তুলে ধরেছেন। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ নানা রাজনৈতিক পটভূমি সৈয়দ হক তার কবিতায় বর্ণিত করেছেন। সমাজের ঘটনাপ্রবাহ, অসঙ্গতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, পরিবর্তন সৈয়দ শামসুল হক সরাসরি প্রত্যক্ষ করে কবিতায় রূপায়িত করেন। রাষ্ট্রব্যবস্থার দুর্বলতা সামাজিক অর্থনৈতিক সঙ্কট নানা অনিয়ম শোষণ ও শাসনে বিপর্যস্ত মানুষের কথকতা তিনি তার কবিতায় উপজীব্য করেন।
সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর রংপুরের কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ বৈশাখে রচিত পঙ্ক্তিমালা, প্রতিধ্বনিগণ, পরানের গহিন ভিতর, রজ্জুপথ চলেছি, অন্তর্গত, পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, খেলারাম খেলে যা, আয়না বিবির পালা, কয়েকটি মানুষের সোনালি যৌবন, ধলেশ্বরীর গল্পগুলো প্রভৃতি। এসব গ্রন্থ পাঠক মহলে বিশেষভাবে আদৃত। সৈয়দ হক রাজনৈতিক বক্তব্যপ্রধান রচনায় অনন্য। তার কবিতায় এ বিষয়ে প্রাধান্য লক্ষণীয়। মানুষের যাপিত জীবন রাজনীতির প্রভাবমুক্ত নয়। এ সতত সত্য তিনি আত্মোপলব্ধির মাধ্যমে কবিতার প্রযুক্তিতে বাণীবদ্ধ করেন। তিনি কবিতার কোনো উপকরণকে উপেক্ষা করেন না। কবিতা নির্মাণে সব উপাদান প্রয়োগের ক্ষেত্রে সৈয়দ শামসুল হক যতœবান। প্রকাশের সাবলীল ভাষা, সহজ শব্দ চয়ন, চিত্রকল্প উপমা উৎপ্রেক্ষা ইত্যাদি অনুষঙ্গ তার কবিতাকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
সৈয়দ হক রাজনৈতিক প্রবণতায় তার কবিতাকে মানুষের কাছাকাছি পৌঁছে দিয়েছেন। তার কবিতায় এ দেশের বিভিন্ন রাজনীতির সময় আবিষ্কার করা যায়। বাংলাদেশের মানচিত্রকে তিনি কবিতায় চিত্রিত করেন।
তোমাকে অভিবাদন বাংলাদেশ
তুমি ফিরে এসেছো তোমার
মানচিত্রের ভেতরে যার উপর দিয়ে
বহে যাচ্ছে তেরশো নদীর ধারা
তোমাকে অভিবাদন বাংলাদেশ
তুমি ফিরে এসেছো
তোমার করতলে পায় বাটির বুকে
যার ডানা এখন রক্ত আর অশ্রুতে ভেজা
তোমাকে অভিবাদন হে বাংলাদেশ
তুমি ফিরে এসেছো তোমার বৃষ্টিভেজা
খড়ের কুটিরে যার ছায়ায় কতো দীর্ঘ
অপেক্ষায় আছে সন্তান এবং স্বপ্ন।
সৈয়দ শামসুল হক সযতেœ স্বদেশকে তার কবিতায় ধারণ করেছেন রাষ্ট্রযন্ত্রের বিধ্বস্ত দশা তাকে বিচলিত করে। রাজনীতিকদের অসততা আমলাদের দুর্নীতি-অনিয়ম বাংলাদেশের অন্ধকার গন্তব্য তাকে আন্দোলিত করে। মানুষের অসন্তোষ তিনি কবিতায় তুলে ধরেন। তার অবদমিত কবিসত্তা শৃঙ্খল মানে না। রাজনৈতিক চেতনার শিকার সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি কবিতা লেখেন বিভিন্ন সঙ্কট উত্তরণের মিছিলে সৈয়দ হকের উজ্জ্বল উপস্থিতি উল্লেখ করার মতো।
সৈয়দ শামসুল হক রাজনীতিসচেতন কবি। যদিও বহু অভিধায় তাকে আলোকিত করা যায়। কিন্তু তার কবিতায় রাজনৈতিক ভাবনা বিশেষভাবে থাকার কারণে তিনি স্বমহিমায় ভাস্বর। রাজনীতি আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ। এ প্রসঙ্গকে সৈয়দ হক কবিতার বিষয়বস্তু করে মানুষের কাছে নানা মেসেজ পৌঁছে দিয়েছেন। সৈয়দ হকের কবিতায় রাজনীতিতে কবিতার ভূমিকা বিষয়ক নিরীক্ষা লক্ষ্য করা যায়। নিপীড়িত মানুষ, মেধাবী ছাত্রের অকালপ্রয়াণ, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, আদর্শ নিধনের অপচেষ্টা প্রভৃতির বিরুদ্ধে সৈয়দ হকের কবিতা প্রতিবাদমুখর।
যে খুন করেছে ছেলে, তোমার ছেলেকে
মিছিলে ট্রাক তুলে দিয়ে
অতর্কিতে মাঝ রাতে ছাত্রাবাসে
দরোজায় লাথি মেরে পাঠরত ছেলেটিকে
পিস্তলের লক্ষ্য করে
গোলাপ এখনো ফোটে জলবয় এখনো নদীতে
তুমি ঊরুতে চাপড় দিয়ে বেপাড়ায় বাংলাদেশ
কার সুখে নেচে যাচ্ছ কোন উল্লাসে।
সৈয়দ শামসুল হকের কবিতায় হতাশা প্রকটভাবে এসেছে। পাশাপাশি তার স্বপ্ন বৃত্তান্তকে তিনি সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। তার চেতনা শক্তির সবলতা দিয়ে তিনি রাজনীতির দুর্বলতাকে বিশদভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। সত্য ও সুন্দরের সান্নিধ্যে তার কবিতা উজ্জীবিত। তিনি রাজনৈতিক মতাদর্শে অনড় থেকে বুকে মুক্তিযুদ্ধের অহঙ্কার নিয়ে কবিতায় তার মতামত ব্যক্ত করেছেন। কঠিন শাসন-বঞ্চনার বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির রাজনীতির সূচনা। সুন্দর পরিণতি। সাফল্যগাথা অতীতের সোনালি গৌরব এবং স্বদেশের বর্তমান হালহকিকত তিনি গভীর পর্যবেক্ষণে কবিতাবদ্ধ করেন। মানুষের প্রতি সহমর্মিতা, সমাজতান্ত্রিক ভাবনা, গণতান্ত্রিকবোধ, সুস্থ রাজনীতির ন্যায্য অধিকার তার কবিতায় স্পষ্ট। শ্রেণী বিভক্তির বিরুদ্ধে সৈয়দ হকের পক্ষপাত। তিনি গণমানুষের কবি। মেহনতি মানুষের দুঃখ-কষ্ট তাকে স্পর্শ করে। তিনি কবিতার মাধ্যমে এই শ্রেণীর মানুষের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। তিনি আদর্শিক পিতা শেখ মুজিবের অবদানের কাছে কবিতার স্বীকারোক্তি দিয়ে অবনত হন। অপ্রকৃতিস্থ রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাকে বেদনার্ত করে। তিনি তার কবিতায় কখনো বিমূর্ত কখনো স্পষ্ট বর্ণনায় তার অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি তার রাজনৈতিক দর্শন দিয়ে রাজনীতির মাঠে অবাধ বিচরণ করেন।
সৈয়দ শামসুল হকের আহ্বানে বাংলাদেশের রাজনীতির গতি-প্রকৃতি তার কবিতায় উঠে আসে। প্রাপ্তির উল্লাস যেমন তার কবিতায় অন্তর্ভুক্ত তেমনি এ দেশের মানুষের প্রধান স্বজন বিয়োজনের শোকগাথা তিনি গভীর ভালোবাসায় নির্মাণ করেন। স্বদেশ এবং বঙ্গবন্ধু এই যুগল প্রীতি থেকে তার আহ্বান:
ফিরে এসো মানুষের মিছিলে আবার
ফিরে এসো যোদ্ধার পেশিতে
ফিরে এসো মুজিবের কণ্ঠস্বরে
রবীন্দ্রনাথের গানে
নজরুলের আগুনে আবার
ফিরে এসো বাংলাদেশ।
সৈয়দ শামসুল হকের কবিতা বিষয় বৈচিত্র্যে যেমন অনন্য, তেমনি রচনাশৈলীও অপরূপ। তার ভাষাভঙ্গি, শব্দ নির্বাচন, দৃষ্টিভঙ্গির স্বতন্ত্র প্রকাশ তার কবিতাকে প্রাণময় করে। সৈয়দ হকের রাজনীতি বিষয়ক কবিতা গবেষণার দাবি রাখে। নানা শিল্পরূপে নির্মিত হয় সৈয়দ হকের কবিতার অবয়ব। পুষ্প পত্রালীতে সমৃদ্ধ তার কবিতার জগৎ রাজনৈতিক বিষয়ের প্রভাবে আবর্তিত হয়। অস্থিতিশীল রাজনীতি, টানাপড়েন, অশুভতার ইঙ্গিত যখন দেশের অগ্রগতিকে ব্যাহত করে, গণতন্ত্রের কণ্ঠকে মূক করে দেয়া হয় তখন সৈয়দ শামসুল হকের কবিতা প্রতিবাদে প্রকম্পিত হয় দিগন্ত থেকে দিগন্ত। জাতীয় স্বার্থে যে ক’জন কবি দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখেছেন তাদের মধ্যে সৈয়দ হক অন্যতম। যে কোনো সঙ্কটময় পরিস্থিতি মোকাবেলায় তিনি কবিতা দিয়ে উত্তরণের পথ খুঁজেছেন। আবার দুর্যোগপূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থার পূর্বাভাস তিনি তার কবিতায় উল্লেখ করেছেন। সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের অভাব, মূল লক্ষ্য থেকে সরে যাচ্ছে নেতাদের অনেকে। ক্ষমতা ভাগাভাগির রাজনীতি বিস্তার লাভ করে। জাতীয় অর্থনীতির চাকা থেমে যায়। সৈয়দ হকের কবিতায় এসব বাস্তবচিত্র নানাভাবে উঠে আসে। শুধু এই নয়, এর থেকে পরিত্রাণের বিচিন্তিত উপায় তিনি তার কবিতায় উল্লেখ করেন।
জাতি গঠনে সুস্থ রাজনীতি চর্চা অপরিহার্য। সমাজের সচেতন শ্রেণী ও মননশীল মানুষের প্রচেষ্টা রাজনীতিকে প্রগতির পথে অগ্রসর করতে পারে। স্ব স্ব ক্ষেত্রে অবস্থান করে এ কাজে সম্পৃক্ত হওয়া সম্ভব। রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় যুক্ত না থেকেও এ কথাটা প্রমাণ করেছেন সৈয়দ শামসুল হক। কেবল কবিতার পরম শক্তি দিয়ে তিনি বিপথগামী রাজনীতির গতিরোধ করতে প্রয়াসী থেকেছেন, বুকের মধ্যে সুন্দর আগামীর নির্মল বিশ্বাস পরিপোষণ করে পরিবর্তনের অপেক্ষায় কবিতার উদ্দামতা ছড়িয়ে দিয়েছেন সর্বত্র। সৈয়দ শামসুল হক তার দুর্বার কবিতা দিয়ে দূর করতে চান নানা অসঙ্গতি রাজনৈতিক অচলাবস্থা। রাজনীতিতে আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার সুস্থ রাজনীতি এবং গণতন্ত্রের ক্ষেত্র প্রস্তুত করার প্রত্যয় তিনি তার কবিতায় ব্যক্ত করেন।
তিনি বাংলাদেশের মানুষ, এই অসীম গৌরব নিয়ে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার কাজে ব্যাপৃত থাকেন। আমি বাংলার লোক এই গৌরবময় অহঙ্কার তিনি কবিতায় তুলে ধরেন :
আমিও বাংলার লোক স্বভাবত বাংলার মতোই
সমতল সঙ্গীতের শস্যভারে নত, দূরগামী
পদ্মার মতোই ধীর, পলিমাটি আত্মায় সঞ্চিত
কিন্তু তাই বলে আমি নই জেনো আয়ুধ বঞ্চিত
বর্ষায় কোমল কাদা, পোড়ামাটি চৈত্রে সেই আমি
লালনের দেশে জন্ম নিয়েছিল সিংহল বিজয়ী
এবং গোপাল বাবু, পরিহাসে নির্মল বিশ্বাসী
মনে আছে এত দুঃখ বাংলাদেশে তবুও আমি হাসি।
সৈয়দ শামসুল হকের রাজনৈতিক দর্শন তার কবিতায় রাজনীতি ও তার প্রাসঙ্গিক ভাবনা একটি লেখায় তুলে ধরা সম্ভব নয়। এই অসম্ভব কাজটির চেষ্টা হয়েছে এক ধরনের আবেগপ্রবণতা থেকে। আমাদের প্রিয়তার শীর্ষমণি সৈয়দ হকের রাজনৈতিক কবিতা অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের পথ দেখিয়েছে। যাবতীয় সঙ্কট নিরসনের উপায় খুঁজে পাওয়া গেছে। তার কবিতা আমাদের গৌরবের ইতিহাসে উজ্জ্বল। তিনি শক্ত হাতে সমাজের অচল চাকাকে ঘোরাতে চেয়েছেন। তার কবিতার দ্যুতিময়তায় আলোকিত হয়েছে রাজনীতির অঙ্গন। এই বিরল কবি প্রতিভা সৈয়দ শামসুল হকের দীর্ঘায়ু কামনা করি।
এমন আরো কিছু পোষ্ট:
- পরকীয়া সৌন্দর্যের অনলের মতো অধরা কবিতা
- পরকীয়া সৌন্দর্যের অনলের মতো অধরা কবিতা
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর গল্পে সামাজিক ও রাজনৈতিক চেতনা
- মহাদেব সাহার কবিতা স্বতন্ত্র জীবন অন্বেষা – সাইফুজ্জামান
- আওয়ামী লীগ ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে না: সৈয়দ আশরাফুল
- আমাদের কবিতা
- গদ্য কবিতা ও রবীন্দ্রনাথ
- ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের প্রস্তাব: প্রাসঙ্গিক কিছু কথা
- প্রশিকা থেকে যেভাবে রাজনৈতিক দল গড়লেন কাজী ফারুক
- মাহমুদুল হকের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ করা হোক
You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0 feed. You can leave a response, or trackback from your own site.
