সকালে নাস্তা না খেলে ওজন বাড়ে
মুটিয়ে যাওয়া বা শারীরিক স্থূলতা নানা রোগের অন্যতম কারণ। তাছাড়া অতি ওজনের মুটিয়ে যাওয়া শরীর দেখতেও বিশ্রী লাগে। তাই যথাযথ হালকা শরীরে থাকার প্রাণান্তকর চেষ্টা সবারই। কিন্তু সব ক্ষেত্রে কি তাতে সফলতা আসে? মোট কথা, সব বয়সী মানুষের মনে এ নিয়ে প্রশ্নের অন্ত নেই। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের বেলায় বিষয়টি আরো প্রযোজ্য। তরুণ-তরুণীরা হালকা-মেদহীন শরীর পছন্দ করে। আর এমন শরীর অর্জনে নানা চেষ্টা- চরিত্র করে থাকে। সব ক্ষেত্রে সফল হয় এমনও নয়। বরং কিছু ক্ষেত্রে উল্টো ফল জোটে। তেমনই একটি মিথ্যা ধারণার কথা শুনিয়েছেন একদল মার্কিন গবেষক। তাদের মতে, শরীর হালকা রাখার উদ্দেশ্যে যে সব তরুণ-তরুণী প্রাতঃরাশ বা সকালের নাস্তা পরিহার করে চলেন তাতে সুফলের চেয়ে কুফল ভোগ করার আশংকা রয়েছে। তাদের ভাষায়, নাস্তা না খেলে ওজন কমে এ বিশ্বাসে যারা অভ্যস্ত তারা নিজেদের সর্বনাশ নিজেরাই ডেকে আনে। কেননা নিয়মিত সকালের নাস্তা পরিহারে ওজন কমে না। বরং মারাত্মক হারে বেড়ে যায়।
ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার একদল গবেষক ২ হাজারেরও বেশি তরুণ-তরুণীর ওপর পাঁচ বছর সমীক্ষা চালান। তাতে তারা দেখেছেন, যারা নাস্তা গ্রহণে অভ্যস্ত তাদের তুলনায় নাস্তা গ্রহণে অনভ্যস্তদের মাসে গড়ে সোয়া দুই কেজির মতো ওজন বৃদ্ধির প্রমাণ মিলেছে। নাস্তা গ্রহণে ক্যালরির পরিমাণ বৃদ্ধি সত্ত্বেও বিপরীত চিত্র লক্ষ্য করা গেছে অন্য গ্রুপের। গবেষক দলের প্রধান মার্ক পেরিয়েরা বলেন, যারা বেশি ক্যালরি গ্রহণ করেন তারা তত তা দহন করতে পারেন। কারণ যারা নাস্তা গ্রহণে অনভ্যস্ত তারা সারা দিন অলসভাবে সময় পার করে। আর যারা নাস্তা গ্রহণ করে তারা থাকে কর্মব্যস্ত। যা শরীরের বাড়তি মেদ বা ক্যালরি ঝেড়ে ফেলতে সহায়ক হয়। একই কারণে তাদের শরীর মুটিয়ে যাওয়া থেকে রেহাই পায়। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলে চাই নিয়মিত নাস্তা খাওয়া। আর নাস্তা হওয়া দরকার শস্যজাত দানাদার প্রকৃতির। মনে রাখা দরকার না খাওয়ার চেয়ে খাওয়াই উত্তম। পিয়েরা জানান, সমীক্ষায় দেখা গেছে, ওজন কমানোর আশায় ২৫ ভাগ তরুণী নাস্তা এড়িয়ে চলেন। তার ফল ভোগ করেন মুটিয়ে গিয়ে। ব্রিটেনের চাইল্ড গ্রোথ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান টেম ফ্রাই বলেন, উল্লিখিত গবেষণা কর্ম তরুণ-তরুণীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ। কারণ এর মধ্যে মুটিয়ে যাওয়ার কারণ নিহিত। আমাদের এ ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার যে, নিয়মিত সকালের নাস্তা গ্রহণ অভ্যস্ত জরুরী।
খবরটি পড়েছেন :1416এমন আরো কিছু পোষ্ট:
- চকোলেট খেলে কোলস্টেরল কমে!
- দ্রুত খেলে ওজন বাড়ে
- তামাক সেবন ও কম ফল খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে
- বেশি মদ খেলে মগজ ছোট হয়ে যেতে পারে
- ‘প্যারাসিটামল সেবনে হাঁপানির ঝুঁকি বাড়ে’
- নাশতায় ডিম খান
- বয়স যত বাড়ে ততই সুখ বাড়ে নারীর!
- মাত্রাতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারে বিষন্নতার ঝুঁকি বাড়ে
- এসপিরিন গ্রহণে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ!
- ভিটামিন ‘ডি’র অভাবে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে
You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0 feed. You can leave a response, or trackback from your own site.
