অশ্লীলতা বিস্তারে সহায়তা : কিছু পশ্চিমা মিডিয়ার অদ্ভুত মানসিকতা
শাহ আবদুল হান্নান
কিছু দিন আগে বিবিসি’র এক সংবাদে বলা হয় যে, কায়রোর যুবকেরা যৌন নিষেধাজ্ঞা ভাঙছে। তাতে বলা হয়েছে, রাতে ছেলেমেয়েদের একত্রে কাটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কেননা সবাই পরিবারের সাথে বাড়িতে বাস করে। এমনকি হোটেলগুলোতেও এর তেমন কোনো সুযোগ নেই। এখনো শহরের শিক্ষিত নাগরিকদের মাঝে অবিবাহিত মাতার ধারণার কোনো অস্তিত্ব সেখানে নেই। সেখানে মেয়েদের কুমারিত্বের খুব উচ্চ মর্যাদা দেয়া হয়। চিকিৎসকরাও যুবতী-তরুণীদের সতীত্ব প্রমাণের জন্যে হাইমেন পুনর্নিমাণ অপারেশনের জন্য অনেক চার্জ করে, যার পরিমাণ মিসরীয় মুদ্রায় এক হাজার পাউন্ড বা ১৭৩ মার্কিন ডলার। যে কোনো গ্রীষ্মের বিকালে এখন সেখানে দেখা যায়, যুবক-যুবতীদের মেলামেশা ও কথাবার্তা যা শহরের নানা শব্দ ও ট্রাফিক তীব্রতার মধ্যেও চোখে পড়ে। সেখানে গর্ভপাতের ঘটনার সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। সবাই এটা জানে। কিন্তু তারা জানে না, এই বাড়ার সংখ্যা কত।
এই ধরনের গল্প বা সংবাদ পরিবেশনে পশ্চিমা মিডিয়া এবং তাদের যেকোনো জায়গার অনুসারীরা আনন্দিত হয়। আমরা জানি বা এক ব্যাপারে একমত যে, এ ধরনের ঘটনা প্রায় সব জায়গাতেই ঘটছে। কিন্তু সামান্য কিছু সংখ্যা বা নমুনার ওপর নির্ভর করে যেন- তেন প্রকার বিচার, বা শতাংশ হার নির্ণয় করা খুব কঠিন। অতীতে রাশিয়া ও চীনে যখন কমিউনিস্ট শাসন দুর্বল হয়ে পড়ছিল, সে সময়গুলোতে আমরা পশ্চিমা প্রেস-মিডিয়াগুলোর উল্লাস প্রকাশ করার মতো সংবাদ পরিবেশন করতে দেখেছি। তখন বলা হতো রাশিয়া ও চীনে কিভাবে পতিতাবৃত্তি শুরু হয়, কিভাবে নতুন ফ্যাশনের আগমন ঘটে, মেয়েরা কিভাবে সব জায়গায় (বাইরে) ছড়িয়ে পড়ে, তারা কেমন আধুনিক নাচ পছন্দ করে এ ধরনের নানা রকম সংবাদ পরিবেশিত হতো। আসলে এটা একটা অদ্ভুত পন্থা। সমাজের নৈতিক অধ:পতনের খবর বেশি প্রচার করে আনন্দ পাওয়া। তারা হয়তো বলবে, আমরা কেবল খবর দিচ্ছি। কিন্তু সংবাদের স্টাইলেও বোঝা যায়, তারা আসলে কী চায়। এই মিডিয়া এ রকম সংবাদ সবখানে ছড়িয়ে বেড়ানোর চেষ্টা করে। মিডিয়া এরকম তৈরি করা রিপোর্ট বিভিন্ন দেশকে জড়িয়ে করছে। এর মধ্যে সৌদি আরব, মিসর, পাকিস্তান, তিউনিসিয়া, ভারতও আছে। তবে এসব দেশের পরিস্খিতি আমেরিকা বা ইউরোপের মতো নয়। এসব গোষ্ঠী অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সাথে সমাজে নীতি-নৈতিকতাকে উচ্চে তুলে ধরার পরিবর্তে নৈতিক দেউলিয়াত্বের অগ্রগতি সাধনে বেশি আনন্দবোধ করে থাকে। তাদের উদ্দেশ্য হলো, আমাদেরকেও তাদের মতো করে তৈরি করা। ওরা চায়, আমরা যেন তাদের মতো শিকড়হীন জনগণে পরিণত হই, আমাদের যেন কোনো পরিবার না থাকে, সন্তানদের প্রতি অবহেলা সৃষ্টি হয়, বৃদ্ধদের প্রতি অবজ্ঞা করাসহ এ রকম নানা বিষয় সৃষ্টি হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আমাদের উচিত এসব ষড়যন্ত্রমূলক প্রচারণার লক্ষ্য উপলব্ধি এবং সমাজের নৈতিক, মানবিক ও সার্বিক উন্নয়নের চেষ্টা করা।
লেখক : চিন্তাবিদ, সাবেক সচিব, বাংলাদেশ সরকার।
এমন আরো কিছু পোষ্ট:
- ৮৪ পর্নোসাইট বন্ধে ৩ মন্ত্রণালয়ের সহায়তা চায় বিটিআরসি
- একটি নতুন রাজনৈতিক দল এবং কিছু পুরনো প্রশ্ন
- এক সঙ্গে মিলে আমরা অবশ্যই কিছু করতে পারি
- কিছু বদঅভ্যাসে অভ্যস্ত হোন!
- পশ্চিমা খাবার হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ৩০ শতাংশ বাড়ায়
- ১৫ আগস্টের হত্যাকা-: কিছু প্রশ্ন
- কত অদ্ভুত আইন!
- নামে অনেক কিছু আসে যায়
- ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের প্রস্তাব: প্রাসঙ্গিক কিছু কথা
- পশ্চিমা প্রভাব ছাড়া বিশ্বায়নকে ইতিবাচক মনে করে মুসলমানরা
You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0 feed. You can leave a response, or trackback from your own site.
