নারীকে ছেড়ে যায় সুখ, ধরা পড়ে পুরুষের কাছে
জীবনের স্বপ্ন পূরণে নারীর চেয়ে পুরুষ অনেক এগিয়ে। জীবনের শেষ লগ্নে এসেও সুখ ততটা ধরা দেয় না। অসুখীই হয়ে থাকে পুরুষের চেয়ে বেশি।
এটি শুধু মুখের কথা নয়। রীতিমতো গবেষণা করে বের করেছেন দুই অর্থবিজ্ঞানী। একজন সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির রিচার্ড স্টার্লিন। আরেকজন কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির এ্যাঙ্কি প্লাগনল।
একদিন দুইদিন নয়, এই গবেষণা চালাতে গিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করেছেন বেশ কয়েক দশকের উপাত্ত, তথ্য। সব মানুষের অপূর্ণ আশা-আকাংখা থাকে। কিন্তু মানুষের কল্যাণে কতটুকু ভূমিকা থাকে তার। তাই কেবল জানতে চেয়েছিলেন।
সাফল্য জিনিষটা আসলে সব প্রজন্মের মধ্যেই একই রকম হয় না। পার্থক্য থেকে যায় বেশ খানিকটা। স্টার্লিন ও প্লগনল এর খুঁটিনাটি সব দিক তুলে ধরে তাদের সমীক্ষায়। এজন্য দুজনেই দায়ী করলেন পরিবর্তিত আর্থ-সামজিক পরিস্থিতিকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছুই পাল্টে যায়।
উপাত্ত ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে দুই গবেষকই দেখেন, জীবনের প্রথমদিকে পুরুষের চেয়ে নারীই সুখী হয় বেশি। কিন্তু এই সুখ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দূরে সরে যেতে থাকে। বিশেষ করে ৪৮ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর সুখ ধীরে ধীরে চলে আসতে থাকে পুরুষের কাছে। এক সময় নারীর সুখের মাত্রাকেও ছাড়িয়ে যায়। তবে শর্ত আছে এই সুখ আবার পরিবার ও অর্থ, দুটোর সঙ্গেই জড়িত।
প্লাগনল এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন চমৎকারভাবে, এক কথায়, “জীবনের শেষ দিকে পুরুষের আকাঙ্খা অনেক বেশি পূরণ হয়। অনেক বেশি সুখী হয়ে থাকে পারিবারিক জীবন এবং আর্থিক দিক দিয়েও।”
নারী এবং পুরুষের জীবনে লক্ষ্য কিন্তু প্রায় একই ধরণের। প্রকাশও ঘটে এর। ভালবেসে যখন কাছাকাছি চলে আসে। জীবনটা গাঁথা হয়ে যায় এক সুতায়। দুজনের গবেষণায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বিয়ে করে সুখী হতে চায় উভয় পক্ষই, সংখ্যার হিসেবে শতকরা ৯০ ভাগ। আক্ষরিক অর্থেই বিয়ে ও ছেলে-মেয়েদের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের পার্থক্য নেই বললেই চলে। নামমাত্র। প্লাগনল পিএইচডি করেন ইউএসসিতে ২০০৭-এ।
তিনি মনে করেন, সন্তুষ্ট হওয়া কিংবা না হওয়ার বিষয়টি মূলত নির্ভর করে পাওয়া কিংবা না পাওয়ার ওপর। এ ক্ষেত্রে এক সময় নারী পিছিয়ে পড়তে থাকে পুরুষের চেয়ে। ঠিক তখনই সৃষ্টি হয় লিঙ্গগত বৈষম্যের।
“পুরুষের সবচেয়ে কষ্টের সময় কাটে ২০-এর কোঠায়। এসময় খুব সম্ভব পুরুষরা একাকী থাকতে চায়”, দুই গবেষকই এর ব্যাখ্যা দিলেন ঠিক এভাবে, “আর্থিক দিক দিয়ে তরুণীদের চেয়ে তরুনরা থাকে অনেক বেশি অস্বচ্ছল। মন আচ্ছন্ন থাকে এক ধরনের বিষন্নতায়। কারণ আর কিছুই নয়। তরুনরা চায়, আর যতটা চায় ততটা পায় না।”
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে যেতে থাকে সবকিছুই। আর্থিক কষ্ট, একঘেঁয়েমি কিংবা ভালবাসা, কোনটাই বাদ থাকে না।
৩৪ বছর পেরুনোর পর বিয়ের প্রতি পুরুষের আগ্রহ থাকে বেশি। এক সময় বিয়েও করে। তারতম্যও থাকে দুজনের বয়সে। ফলে পারিবারিক জীবনে পুরুষ শুখ পেতে শুরু করে। দিনদিন আর তার মাত্রা বাড়তেই থাকে। অর্থের দিক দিয়েও এগিয়ে যেতে শুরু করে।
ব্যতিক্রম কেবল একটাই সুন্দর সু্ন্দর পোশাকের প্রতি নারীর আকর্ষণ অনেক বেশি।
উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দুজনেই বলছেন, আগের প্রজন্মের চেয়ে বর্তমান প্রজন্ম যা পেয়েছে এবং পাচ্ছে তা অনেক বেশি। তারপরও তারা সন্তুষ্ট নয়।
দুই গবেষকই উপসংহার টানছেন ঠিক এভাবে, ৪১ বছর বয়সে পুরুষের আর্থিক সুখ নারীকে ছাড়িয়ে যায়। ৪৮ বছর বয়সে ছাড়িয়ে যায় সামগ্রিক সুখ। ৬৪ বছর বয়সে পারিবারিক জীবনে সুখ নারীর কাছ থেকে চলে আসে পুরুষের কাছে।
number of view: 609এমন আরো কিছু পোষ্ট:
- পুরুষের পছন্দের নারীদেহ কেমন?
- নারী ও পুরুষের ঈর্ষার নেপথ্যে
- বিয়েতে পুরুষের অর্ধেক সুখী হয় নারীরা!
- পুরুষের সক্ষমতা নিরূপণ
- নারীর মস্তিষ্ক কি পুরুষের মস্তিষ্ক থেকে ভিন্ন?
- পুরুষের শারীরিক সমস্যা
- দুশ্চিন্তায় পুরুষের ডায়াবেটিস
- অষ্ট্রেলিয়ায় পুরুষের আকাল
- আমেরিকানদের চোখে নারীই সৎ ও স্মার্ট নেতা!
- পুরম্নষের বন্ধ্যাত্ব সমস্যা দোষ নিতে হয় নারীকে, কিভাবে করবেন কারণ নির্ণয়
You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0 feed. You can leave a response, or trackback from your own site.
