অকারণ হাসি! হতে পারে লাফিং টিউমার

কেডেল হাসছে৷ দম ফাটানো হাসি৷ হাসতে হাসতে চোখ দিয়ে পানি বেরিয়ে আসছে৷ ছোট্ট মুখটা জুড়ে আতঙ্কের গভীর ছাপ৷ কিন্তু তাও হাসি থামছে না৷ ওর মা এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখছেন ছেলের কীর্তি৷ এ রকম রোজই দেখেন দিনের মধ্যে ১০-১২ বার৷ উনি জানেন, কেডেলকে এ সময় থামানো যাবে না৷ কারণ ও কিছু দেখে হাসছে না৷ এ ‘অকারণ হাসি’ই ওর অসুখ৷
এ হাসির উত্‍স মসত্মিষ্কে এক ধরনের টিউমার৷ চিকিত্‍সা বিজ্ঞানে যার পোশাকি নাম হাইপোথ্যালামিক হ্যামারটোমা৷ সহজ ভাষায় ‘লাফিং টিউমার৷’ মসত্মিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অঞ্চলে টিউমারটি হয়৷ এর প্রধান লৰণই কোনো কারণ ছাড়া হাসি৷ চিকিত্‍সকদের মতে, এ হাসি মৃতু্যও ডেকে আনতে পারে৷ কারণ শিশু বা প্রাপ্তবয়স্ক কেউ যখন এমন হাসতে থাকেন, তখন তার নিজের উপরে কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না৷ আর ওই হাসি কখন থামবে সেটাও কেউ বলতে পারে না৷ তাই হাসতে হাসতে দম বন্ধ হয়ে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে বা দাঁতে দাঁত লেগে যেতে পারে৷
মাসখানেক বয়সেই লন্ডনের বাসিন্দা কেডেলের এ রোগের উপসর্গ দেখা দেয়৷ যখন তখন খিলখিলিয়ে হেসে উঠতো৷ ওর মা লুসি হোগানসহ সবাই ভাবতেন খুব হাসিখুশি, মিশুক বাচ্চা৷ কিন্তু ও যতো বড় হয় ‘অকারণ হাসি’ বাড়তে থাকে৷ লুসি বলছেন, কেডেল যখন হাসতো ওর মুখে থাকতো এক অদ্ভুত আতঙ্ক৷ আর হাসি থামতেই ও নয় খুব কাঁদতো না হয়ে কোলে উঠে কুঁকড়ে যেতো৷ মানসিক বা ব্যবহারগত সমস্যা কি না তা নিয়ে ছোট্ট কেডেলকে নিয়ে লুসি বহু চিকিত্‍সকের কাছে গিয়েছিলেন৷ অনেক ডাক্তারের কাছে ঘোরার পর শেষ পর্যনত্ম একজন স্নায়ুতন্ত্রবিদ কেডেলের অসুখটা ধরতে পারেন৷ মসত্মিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে নিরীহ (ম্যালিগন্যান্ট নয়) একটি টিউমার রয়েছে, যা হরমোন নিঃসরণ ও মসত্মিষ্কের কাজে বাধা দেয়৷ ফলে নানা শারীরিক সমস্যা ও ব্যবহারগত সমস্যা হয়৷
লন্ডনের কিংস কলেজ হসপিটালে স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ক্রিস চ্যান্ডলার জানালেন, হাইপোথ্যালামাসই হরমোন নিঃসরণ, শরীরের তাপমাত্রা, খিদে, তৃষ্ণা, ক্লানত্মি ও রাগ, হাসি ইত্যাদির নিয়ন্ত্রক৷ এ ‘লাফিং টিউমার’ বিরল৷ তবে তা ধরা পড়লে অস্ত্রোপচারই একমাত্র চিকিত্‍সা৷ ওষুধে সারে না৷ এর সাফল্যের হার শতকরা ৮০ ভাগ৷
কেডেলের অস্ত্রোপচার হবে আর দিনকয়েকের মধ্যেই৷ লুসি এখন তারই অপেৰায়৷ ছলছলে চোখে বললেন, ‘সব মা-ই চায় তার ছেলেটা হাসুক, খেলুক৷ আর ওকে হাসতে দেখলে আমার প্রাণ উড়ে যায়৷ হাসতে হাসতেই যদি…৷
কিন্তু কিভাবে বোঝা যাবে কেউ এ লাফিং টিউমারে আক্রানত্ম? মৃগী, বিনা কারণে দিনের মধ্যে ১০-২০ বার হাসি, ব্যবহারগত সমস্যা ও বয়ঃসন্ধি এগিয়ে আসা এর উপসর্গ৷ এমআরআই না করালে এ টিউমার ধরা পড়ে না৷ অনেক সময় ছোট ছোট অনেক টিউমার আবার কখনো একটি বড় টিউমার থাকতে পারে৷
অস্ট্রেলিয়ার স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ জেফ্রি রোজেনফেল্ড জানালেন, এখনো সেভাবে সচেতনতা তৈরি হয়নি৷ অনেক সময়ই লাফিং টিউমারের উপসর্গকে মনোরোগ মনে করা হয়৷ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আবার কিছু ‘ভর করেছে’ বলেও ধরে নেয়া হয়৷ ফলে অনেক সময় চিকিত্‍সাই হয় না৷ কিন্তু এর চিকিত্‍সা না হলে মৃতু্য অনিবার্য৷

খবরটি পড়েছেন :432
  • Print
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Google Bookmarks
  • email
  • LinkedIn
  • Twitter
  • Add to favorites
  • StumbleUpon
  • PDF

এমন আরো কিছু পোষ্ট:

  1. শারীরিক সুস্থতায় হাসি
  2. হাসি স্ট্রোকের মাত্রা কমিয়ে আনে
  3. হাসি স্ট্রোকের মাত্রা কমিয়ে আনে
  4. পশুপাখির হাসি-কান্না
  5. হাসি বিক্রি
  6. সঙ্গীত হতে পারে দাওয়াই
  7. রক্তচাপ কমতে পারে মরিচে
  8. বেশি মদ খেলে মগজ ছোট হয়ে যেতে পারে
  9. কু অভ্যাস বয়স বাড়িয়ে দিতে পারে ১২ বছর
  10. পানিই হতে পারে উত্তম ডায়েট

You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0 feed. You can leave a response, or trackback from your own site.

Leave a Reply

XHTML: You can use these tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>