নিউইয়র্কে নৈশক্লাবে বাঙালি নারী : প্রকাশ্য রাস্তায় জুতাপেটা

সময় রাত সাড়ে ৯টা। তারিখ ১৪ জুলাই। স্খান ৮২ স্ট্রিট, রুজভেল্ট, নিউইয়র্ক সিটি। সালোয়ার-কামিজ পরিহিত মধ্য বয়েসী একজন মহিলা জুতাপেটা করছেন সমবয়েসী এক পুরুষকে। পুরুষটির মুখে জুতা মারতেও কৃপণতা করছেন না। পথচারীরা নির্বাক। এক পর্যায়ে জুতা পেটাকে আমলে না নিয়ে ভেজা বেড়ালের মতো লোকটি দ্রুত পায়ে কেটে পড়লেন। ৩ থেকে ৫ মিনিটের এ দৃশ্য। তবে এটি কোনো নাটক বা সিনেমার জন্য নয়, একেবারে বাস্তব একটি ঘটনা। ভদ্র মহিলার মাথায় স্কার্ফ-চোখে পানি। মুখে অস্রাব্য গালাগালি। কাছে যেতেই শোনা গেল বাংলা শব্দ। প্রচণ্ড উত্তেজনায় মহিলাটি কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন বলে মনে হলো। মহিলাটির মুখে শোনা গেল, দুধ-কলা দিয়ে সাপ পুষেছি, সংসার ছাড়লাম যার জন্য, সে কি না এখন অন্য মেয়ে নিয়ে ঘোরাফেরা করে?
স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় ভাগ্য গড়তে আসা বাংলাদেশীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এমন পরিস্খিতির শিকার হয়েছেন। উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশীদের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে খ্যাত কুইন্সের জ্যাকসন হাইটসের এই কুৎসিত চেহারা এখন আর লুকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশীদের অনেকেই এহেন ঘটনাবলী সম্পর্কে কমবেশি অবহিত। ভেতরে ভেতরে ঘৃণাবোধ চাঙ্গা হচ্ছে হীনপথে পা বাড়ানোদের বিরুদ্ধে। কেউবা সচেষ্ট রয়েছেন তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে। ভেতরে ভেতরে সংগঠিত হচ্ছেন অনেকে এহেন পরিস্খিতি থেকে কমিউনিটির সহজ-সরল মানুষকে রক্ষার জন্য। কমিউনিটিভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ওই সঙ্ঘবদ্ধ চক্রের অনেকেই প্রথম সারিতে ঠাঁই পায় বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে নিউইয়র্কে আনা অভিনেত্রী-শিল্পীদের কেউ কেউ নাকি এভাবে অর্থ উপার্জনে লিপ্ত রয়েছেন। সম্প্রতি একজন শিল্পীর গর্ভে সন্তান ধারণের ব্যাপারটিও আলোচনার ঝড় তুলেছে। এ এলাকার এক দম্পতি অনেক চেষ্টা করেছেন সন্তানের জন্য। কিন্তু সম্ভব হয়নি। এ জন্য দায়ী হলেন স্বামী বেচারা। কিন্তু তা তিনি কখনোই স্ত্রীকে জানাননি। কয়েক মাস আগে ওই মহিলার গর্ভে সন্তান দেখা দিলে স্বামীর সাথে তুমুল ঝগড়ার এক পর্যায়ে পুলিশ ডাকাডাকি, স্বামীর হাজতবাস, সংসার খান খান হয়েছে। সঙ্ঘবদ্ধ প্রতারকচক্রের শিকার ওই মহিলা কুইন্সের বিত্তশালী ব্যক্তির রক্ষিতা হিসেবে দিনাতিপাত করছেন বলে সর্বশেষ সংবাদে জানা গেছে।
সঙ্ঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে সংসার ত্যাগী মহিলা বা পুরুষের কেউ কেউ পাশ্চাত্যের গড্ডালিকাপ্রবাহে নিজেকে সমর্পণ করেছেন। বিবাহিত বা তালাকপ্রাপ্তদের সাথে ইদানীং জড়িয়ে পড়েছে স্কুল-কলেজগামীরাও।
গত পাঁচ-ছয় মাসে অনুসìধান চালিয়ে উদ্বেগজনক এসব তথ্য জানা যায় নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটস, উডসাইড, রুজভেল্ট, এল্্মহার্স্ট, সানিসাইড এলাকা থেকে। এপার্টমেন্ট ভাড়া করে কিংবা নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বেসমেন্টে দেহ ব্যবসার পাশাপাশি খদ্দেরের মনোরঞ্জনের জন্য কখনো কখনো আটলান্টিক সিটি বা নায়াগ্রা ফল্্সেও যাচ্ছেন ওই সব মহিলা। অনুসìধানকালে জানা গেছে, পাত্র-পাত্রী চাই বিজ্ঞাপনের ফাঁদে জনৈক ব্যক্তির সর্বপ্রথম এহেন ব্যবসা (?) শুরু করেন। বিজ্ঞাপণে সাড়া দেয়ার পর লোকটি ফোনে যাবতীয় তথ্য জেনে নেন। একই সাথে পাত্র-পাত্রীর আকাáক্ষা এবং দুর্বলতার দিকটিও আয়ত্তে নেয়া হয়। এভাবে কিছু দিন কথা বলার পর ঘনিষ্ঠতা একটু বাড়লেই পাত্র-পাত্রীকে আর্থিক টোপ দেয়া হয়। বিয়ে তো জীবনে একবারই হয়, তার আগে নিউইয়র্কের আমেজ উপভোগ করে নিন এমন প্রস্তাবের সাথে দেয়া হয় মোটা অঙ্কের অর্থের টোপ। জানা গেছে, পাত্র-পাত্রী চাই বিজ্ঞাপনে অধিকাংশ সময়ই ডিভোর্স বা ত্রিশোর্ধ উল্লেখ করা হয় এবং এটাই হচ্ছে দেহ ব্যবসায়ী সংগ্রহের প্রথম ধাপ।
উপরিউক্ত অঞ্চলের অনেক এপার্টমেন্টে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হলেই ওই সঙ্ঘবদ্ধ চক্র বেছে নেয় পরিবারটিকে। স্বামীকে স্ত্রীর বিরুদ্ধে এবং স্ত্রীকে স্বামীর বিরুদ্ধে এমনভাবে ক্ষেপিয়ে তোলে যে সংসার টিকিয়ে রাখা দায় হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দিনে দিনে ওই চক্রের দালাল বিস্তৃত হয়েছে অনেক এপার্টমেন্ট ভবনেই।
ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি, রিয়েল এস্টেট প্রতারণা, গাড়ি ব্যবসা, ডিভি লটারি জালিয়াতি, ফটকাবাজারি ইত্যাদি অপকর্মের মাধ্যমে দেদার অর্থ উপার্জনকারীরা সম্প্রতি বিভিন্ন স্খান থেকে জ্যাকসন হাইটসে এসেছেন এ ধরনের বাঙালি মেয়েদের সান্নিধ্যের আশায়।
অনুসìধানকালে জানা যায়, জুতাপেটা খাওয়া লোকটি এসেছেন লসএঞ্জেলেস থেকে। তিনি ব্যবসা করেন। স্ত্রী রয়েছেন বাংলাদেশে। সে ব্যাপারটি গোপন করে পাত্রী চাই বিজ্ঞাপণে সাড়া দিয়ে ওই মহিলার সাথে লিভ টুগেদার করছিলেন বেশ কয়েক মাস ধরে। কিন্তু এরই মাঝে গত ১৩ জুলাই লোকটি বìধ হয়ে যাওয়া একটি রেস্টুরেন্টের মহিলাকে নিয়ে যান আটলান্টিক সিটিতে। এ কথাটি গোপন থাকেনি সঙ্ঘবদ্ধ ওই চক্রের কারণে। তারা সবিস্তারে জানিয়ে দেয় তিনি যে পুরুষকে বিশ্বাস করে সব কিছু সঁপে দিয়েছেন তিনি আসলে তেমন ভালো মানুষ নন, তার অজ্ঞাতে তার চেয়ে অনেক কম বয়েসী আরেক মহিলাকে নিয়ে গেছেন আটলান্টিক সিটির ক্যাসিনোতে। এ জন্যই জুতাপেটা করেন লোকটিকে। এখন কী করবেন মহিলাটি? এভাবেই ক্রমশ কমিউনিটির পরিবেশ নষ্ট হতে চলেছে। অনুসìধানকালে আরো জানা যায়, এমন অনেক দম্পতি রয়েছেন যাদের গ্রিনকার্ড হয়নি। তারা নিজের অজান্তেই গ্রিনকার্ডের লোভে অসৎ পথে পা বাড়াচ্ছেন। কিন্তু পরে গ্রিনকার্ড পাওয়া দূরের কথা পতিতার অপবাদ ঘাড়ে নিয়ে এখন একাকী দিনাতিপাত করছেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের লোভ দেখিয়ে প্রথমে নিয়মিতভাবে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন স্খানে ঘুরে বেড়ানো, এক সময়ে আপত্তিকর ছবি তুলে রাখা, সুযোগ পেলে ভিডিও করা, এসবও পরিকল্পনার অংশ। পারিবারিক জীবনে নানা কারণে অসুখী নারীটিও বুঝতে পারেন না যে কতবড় প্রতারকের খপ্পরে তিনি পড়েছেন এবং এভাবে নিজকে দেহপসারিনী পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এরপর তিনি এটাকেই নিয়তি হিসেবে মেনে নেন। জানা গেছে, সঙ্ঘবদ্ধ এ চক্রের কেউই কোনো কাজ করে না। দিনভর ভালো পোশাকে রেস্টুরেন্ট বা সভা-সমিতিতে উপস্খিত হন। চার-পাঁচটি ফোন থাকে সাথে। একেক ফোনে একেক নামে জবাব দেন। টেলিফোনেই অধিকাংশ সময় তাদের নেটওয়ার্ক সক্রিয় হয়।
খালেদা-তারেকের মুক্তির দাবিতে
মালয়েশিয়ায় মিলাদ মাহফিল
ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় কারান্তরীণ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানের দ্রুত মুক্তি কামনা করে সমাবেশ করেছে বিএনপি মালয়েশিয়া শাখা। গতকাল মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এর আগে দুপুরে বাদ জুমা মালয়েশিয়ার বিভিন্ন প্রদেশের মসজিদ ও এতিমখানায় বিশেষ দোয়া-মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে সব মামলায় জামিন পাওয়ায় তারেক রহমানের জন্য শোকরানা আদায়সহ তার সুস্বাস্খ্য কামনা করে সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করা হয়। এতে সহস্রাধিক লোকজনের সমাগম ঘটে। বিএনপি ছাড়াও যুবদল, ছাত্রদল ও বিএনপি’র অন্যান্য অঙ্গ সংগঠন অনুরূপ কর্মসূচি পালন করে।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান মারাত্মক অসুস্খ। তিনি ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে পারছেন না। তার জীবন এখন গভীর সঙ্কটাপন্ন। হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন। কিন্তু সরকার তাকে মুক্তি দিতে বিলম্ব করছে। মালয়েশিয়া বিএনপি নেতৃবৃন্দ অচিরেই তারেক রহমানকে মুক্তি দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর জন্য প্রধান উপদেষ্টার কাছে জোর দাবি জানান। মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে দেশবাসীসহ সবার জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।
অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্খিত ছিলেন বিএনপি মালয়েশিয়া শাখার সভাপতি মাহবুব আলম শাহ, বিএনপি নেতা প্রকৌশলী বাদরুল আলম, বিএনপি’র জয়েন্ট সেক্রেটারি সাখাওয়াত হোসেন খান, যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা, সদস্য সচিব মোশাররফ হোসেন, বিএনপি নেতা মজনু মুন্সী, ড. সেলিম, সালাউদ্দিন আজম, যুবদল নেতা আবদুল্লাহ আল মামুন, শহীদ, আবদুল মান্নান, জাহাঙ্গীর আলম, তালহা মাহমুদ, হুমায়ুন কবীর, মাসুম বিল্লাহ, এস এম নিপু প্রমুখ। এ ছাড়া বিএনপি ও এর অঙ্গ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা উপস্খিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি।

number of view: 693
  • Print
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Google Bookmarks
  • email
  • LinkedIn
  • Twitter

এমন আরো কিছু পোষ্ট:

  1. নারী এবং শিশুদের স্পর্শকাতরতা
  2. নারী পাচারকারী মশিউর ও তার চক্রের শাসত্মি দাবি
  3. নারী দেহরক্ষীই পছন্দ করেন মিসরীয় নারী ব্যক্তিত্বরা
  4. পুরুষ থেকে নারী হলেন গাইবান্ধার আশরাফি
  5. শ্যাম্পুর আবিষ্কারক বাঙালি!
  6. ভাস্কর্য ভেঙে বাঙালি সংস্কৃতি ধ্বংস করা যাবে না
  7. নিউইয়র্কে ট্রেন যাত্রীদের সামনেই সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ালেন মায়েরা
  8. নাসার শিরোপা পেল বাঙালি অয়ন
  9. সাইবার প্রেম, ট্র্যাজেডির শিকার এক বাঙালি পরিবার
  10. বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা নারী অ্যালেন মারা গেছেন

You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0 feed. You can leave a response, or trackback from your own site.

Leave a Reply

XHTML: You can use these tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>